০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে? ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত? জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক

ডুম স্ক্রলিংয়ের যুগেও এশিয়ায় বইয়ের বাজারে জোয়ার, পড়ার অভ্যাসেই এগিয়ে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম

ডিজিটাল দুনিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাপটের মধ্যে অনেকেই ভেবেছিলেন বইয়ের দিন শেষ। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। এশিয়ার বহু দেশে বইয়ের বাজার এখনো শক্তিশালী, বরং ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং ব্যক্তিগত উন্নতি ও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার তাগিদ থেকেই তৈরি হয়েছে।

পড়ার এই প্রবণতার পেছনে কাজ করছে একাধিক কারণ। শিক্ষাব্যবস্থার চাপ, কর্মজীবনে সফল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণি—সব মিলিয়ে বই এখানে এক ধরনের প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির বই, পাঠ্যপুস্তক এবং আত্মউন্নয়নমূলক বইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই বইপড়ার প্রবণতাকে আরও ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করছে।

এশিয়ার বই বাজারের বিস্তার
তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকাশনা বাজার। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলের মোট বই ও ডিজিটাল প্রকাশনা খাতের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ থেকে ৪২০ বিলিয়ন ডলারে। আগামী বছরগুলোতে এই বাজার বছরে ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।

অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বে বইয়ের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থবির। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রকাশনা খাতের আয়ের তুলনায় এশিয়ার অংশ এখন অনেক বড়। বিশ্বব্যাপী প্রকাশনা আয়ের বড় অংশই এখন এই অঞ্চলের হাতে চলে এসেছে।

চীন ও ভারতের উদাহরণ
চীনে সরকার নিজেই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নীতি নির্ধারণ করেছে। পাঠাগার বাড়ানো, প্রচারণা চালানো এবং শিক্ষায় বইকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে তারা পড়াকে এক ধরনের জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত করেছে। ফলে বিশাল এই বাজার দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে।

Commentary: In an age of doom scrolling, Asia's book market is thriving -  CNA

ভারতেও বইয়ের বাজার দ্রুত বাড়ছে। ইংরেজি ভাষার বইয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যও সমানভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে। সাহিত্য উৎসব এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া বইগুলো এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন ভূমিকা
যেখানে অন্য অনেক অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বই পড়ার শত্রু হিসেবে দেখা হয়, সেখানে এশিয়ায় এটি বইয়ের প্রচারে বড় ভূমিকা রাখছে। ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, লাইভ স্ট্রিমিং এবং প্রভাবশালীরা বইকে নতুন করে জনপ্রিয় করে তুলছে। বই এখন শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, অনেক ক্ষেত্রেই এটি সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠছে।

তবুও রয়েছে চ্যালেঞ্জ
সব ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি একটি বাস্তবতা রয়ে গেছে। এশিয়ায় এখনো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক নিরক্ষর তরুণ বাস করে। অনেক অঞ্চলে বইয়ের সহজলভ্যতা এবং শিক্ষার সুযোগ সীমিত। ফলে পড়ার অভ্যাসকে আরও বিস্তৃত করতে সরকার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

পড়ার অভ্যাস কেন জরুরি
পড়া শুধু জ্ঞান বাড়ায় না, এটি চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে। একটি সমাজের অগ্রগতি, উদ্ভাবন এবং সুশাসনের জন্য এই দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্ম যদি এই অভ্যাস হারিয়ে ফেলে, তাহলে তার প্রভাব পড়বে পুরো সমাজে।

এ কারণেই বলা হচ্ছে, বইয়ের বাজারের এই উত্থান শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির প্রতিফলন।

ডিজিটাল যুগেও এশিয়ায় বইয়ের বাজার বাড়ছে, শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত উন্নতির চাহিদাই এর মূল চালিকা শক্তি

জনপ্রিয় সংবাদ

ভবিষ্যতের ঠিকানা কি এখন চীনে?

ডুম স্ক্রলিংয়ের যুগেও এশিয়ায় বইয়ের বাজারে জোয়ার, পড়ার অভ্যাসেই এগিয়ে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম

০৮:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ডিজিটাল দুনিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দাপটের মধ্যে অনেকেই ভেবেছিলেন বইয়ের দিন শেষ। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। এশিয়ার বহু দেশে বইয়ের বাজার এখনো শক্তিশালী, বরং ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং ব্যক্তিগত উন্নতি ও প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার তাগিদ থেকেই তৈরি হয়েছে।

পড়ার এই প্রবণতার পেছনে কাজ করছে একাধিক কারণ। শিক্ষাব্যবস্থার চাপ, কর্মজীবনে সফল হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং বাড়তে থাকা মধ্যবিত্ত শ্রেণি—সব মিলিয়ে বই এখানে এক ধরনের প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির বই, পাঠ্যপুস্তক এবং আত্মউন্নয়নমূলক বইয়ের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই বইপড়ার প্রবণতাকে আরও ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করছে।

এশিয়ার বই বাজারের বিস্তার
তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকাশনা বাজার। ২০২৪ সালে এই অঞ্চলের মোট বই ও ডিজিটাল প্রকাশনা খাতের আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ থেকে ৪২০ বিলিয়ন ডলারে। আগামী বছরগুলোতে এই বাজার বছরে ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি।

অন্যদিকে পশ্চিমা বিশ্বে বইয়ের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থবির। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের প্রকাশনা খাতের আয়ের তুলনায় এশিয়ার অংশ এখন অনেক বড়। বিশ্বব্যাপী প্রকাশনা আয়ের বড় অংশই এখন এই অঞ্চলের হাতে চলে এসেছে।

চীন ও ভারতের উদাহরণ
চীনে সরকার নিজেই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নীতি নির্ধারণ করেছে। পাঠাগার বাড়ানো, প্রচারণা চালানো এবং শিক্ষায় বইকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে তারা পড়াকে এক ধরনের জাতীয় কর্মসূচিতে পরিণত করেছে। ফলে বিশাল এই বাজার দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে।

Commentary: In an age of doom scrolling, Asia's book market is thriving -  CNA

ভারতেও বইয়ের বাজার দ্রুত বাড়ছে। ইংরেজি ভাষার বইয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যও সমানভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে। সাহিত্য উৎসব এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া বইগুলো এই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন ভূমিকা
যেখানে অন্য অনেক অঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বই পড়ার শত্রু হিসেবে দেখা হয়, সেখানে এশিয়ায় এটি বইয়ের প্রচারে বড় ভূমিকা রাখছে। ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, লাইভ স্ট্রিমিং এবং প্রভাবশালীরা বইকে নতুন করে জনপ্রিয় করে তুলছে। বই এখন শুধু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, অনেক ক্ষেত্রেই এটি সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠছে।

তবুও রয়েছে চ্যালেঞ্জ
সব ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি একটি বাস্তবতা রয়ে গেছে। এশিয়ায় এখনো বিশ্বের প্রায় অর্ধেক নিরক্ষর তরুণ বাস করে। অনেক অঞ্চলে বইয়ের সহজলভ্যতা এবং শিক্ষার সুযোগ সীমিত। ফলে পড়ার অভ্যাসকে আরও বিস্তৃত করতে সরকার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

পড়ার অভ্যাস কেন জরুরি
পড়া শুধু জ্ঞান বাড়ায় না, এটি চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে। একটি সমাজের অগ্রগতি, উদ্ভাবন এবং সুশাসনের জন্য এই দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্ম যদি এই অভ্যাস হারিয়ে ফেলে, তাহলে তার প্রভাব পড়বে পুরো সমাজে।

এ কারণেই বলা হচ্ছে, বইয়ের বাজারের এই উত্থান শুধু অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির প্রতিফলন।

ডিজিটাল যুগেও এশিয়ায় বইয়ের বাজার বাড়ছে, শিক্ষাব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত উন্নতির চাহিদাই এর মূল চালিকা শক্তি