০৭:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ, সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠছে অসহনীয় আইসিইউ সংকটে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মায়ের আহাজারিতে ভারী ময়মনসিংহ মেডিকেল প্রভাসের ‘স্পিরিট’ কি পিছিয়ে যাচ্ছে? অবশেষে মুখ খুললেন নির্মাতারা হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ মৃত্যু মমতা-অভিষেকের নিরাপত্তা প্রত্যাহার নয়, শুধু অতিরিক্ত মোতায়েন কমানো হয়েছে: শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা পূর্বাঞ্চলের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা: ভারতের কূটনীতিতে কি খুলছে নতুন পথ? শীতলক্ষ্যায় তিনদিনের পুরোনো মরদেহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়ের আভাস: আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের দোকানে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার এপ্রিলেই সড়কে ঝরল ৪০৪ প্রাণ, বাড়ছে নিরাপত্তা সংকট

এপ্রিলেই সড়কে ঝরল ৪০৪ প্রাণ, বাড়ছে নিরাপত্তা সংকট

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪০৪ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭০৯ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলজুড়ে মোট ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী এবং ৪৮ জন শিশু ছিলেন।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাহন হিসেবে আবারও সামনে এসেছে মোটরসাইকেল। এ সময় মোটরসাইকেল জড়িত ১৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

পথচারীরাও ব্যাপকভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এছাড়া চালক ও সহকারীদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৪৬ জন।

রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেশি দুর্ঘটনা

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। অন্যদিকে জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিভাগে ১০৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০২ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা দুটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোই সবচেয়ে বড় কারণ। এ কারণে ১৯৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে ৯৭টি দুর্ঘটনা।

বিভিন্ন যানবাহনে মৃত্যুর চিত্র

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মধ্যে। তাদের মৃত্যুর সংখ্যা ১১৩। এরপর রয়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইকের মতো তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী, যাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৬১ জন।

ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের যাত্রীদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৫১ জন। বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন ৩০ জন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে নিহত হয়েছেন ২৪ জন।

নিহতদের মধ্যে শিক্ষক, সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, এনজিওকর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিলেন।

শুধু শিক্ষার্থীই নিহত হয়েছেন ৪৯ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগে শৈথিল্য দুর্ঘটনার বড় কারণ।

এছাড়া চালকদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানবাহনের একসঙ্গে চলাচল এবং তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

জনপ্রিয় সংবাদ

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ, সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠছে অসহনীয়

এপ্রিলেই সড়কে ঝরল ৪০৪ প্রাণ, বাড়ছে নিরাপত্তা সংকট

০৬:০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। এপ্রিল মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪০৪ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৭০৯ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিলজুড়ে মোট ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ৫৩ জন নারী এবং ৪৮ জন শিশু ছিলেন।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাহন হিসেবে আবারও সামনে এসেছে মোটরসাইকেল। এ সময় মোটরসাইকেল জড়িত ১৪২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

পথচারীরাও ব্যাপকভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এছাড়া চালক ও সহকারীদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৪৬ জন।

রাজধানী ঢাকায় ৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে বেশি দুর্ঘটনা

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। অন্যদিকে জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ দুর্ঘটনা।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিভাগে ১০৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০২ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে, যেখানে ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা দুটি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোই সবচেয়ে বড় কারণ। এ কারণে ১৯৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে ৯৭টি দুর্ঘটনা।

বিভিন্ন যানবাহনে মৃত্যুর চিত্র

সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মধ্যে। তাদের মৃত্যুর সংখ্যা ১১৩। এরপর রয়েছে সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইকের মতো তিন চাকার যানবাহনের যাত্রী, যাদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৬১ জন।

ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের যাত্রীদের মধ্যে নিহত হয়েছেন ৫১ জন। বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন ৩০ জন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাসে নিহত হয়েছেন ২৪ জন।

নিহতদের মধ্যে শিক্ষক, সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, এনজিওকর্মী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পোশাকশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিলেন।

শুধু শিক্ষার্থীই নিহত হয়েছেন ৪৯ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, অদক্ষ চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগে শৈথিল্য দুর্ঘটনার বড় কারণ।

এছাড়া চালকদের অনিয়ন্ত্রিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানবাহনের একসঙ্গে চলাচল এবং তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, পরিবহন খাতের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী করা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।