০২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম নেপালের জেন-জি আন্দোলনের এক বছর: বদলেছে সরকার, বদলায়নি আহতদের জীবন ১৮৮ কর্মকর্তার বদলিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ইরান যুদ্ধের সমীকরণ বদলে আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়ে গেছে: সেনা উপপ্রধান সার দিতে দেরি, ডিলারের গুদাম ভেঙে শতাধিক বস্তা সার লুট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট গর্ভনিরোধক সরবরাহ স্বাভাবিক হবে ২-৩ মাসের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামে মৃত্যু ৯৯৭, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৩১৪ জন পাবনায় বিএনপি নেতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ, সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠছে অসহনীয়

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার আরও স্পষ্টভাবে পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপের কারণে এপ্রিল মাসে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দেশের মূল্যস্ফীতি। এতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। মার্চ মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। যদিও গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ, তবুও মাসভিত্তিক হিসাবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পুরো বাজারে

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি খাতে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে প্রায় সব ধরনের পণ্যের বাজারেই এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এলপি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্যপণ্যে মূল্যচাপ বাড়ছেই

এপ্রিল মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাজারে ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি এবং ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় আরও বেড়েছে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই নয়, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ

খাদ্যবহির্ভূত খাতে আরও বড় উল্লম্ফন

খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এপ্রিলে এই খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

জ্বালানি, পরিবহন, গ্যাস ও বিভিন্ন সেবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার সামগ্রিক ব্যয় আরও বেড়েছে। ফলে মানুষের দৈনন্দিন খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

আয় বাড়ছে না, কমছে ক্রয়ক্ষমতা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’-এর উদাহরণ। অর্থাৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু মানুষের আয় সেই হারে না বাড়ায় প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্থির আয়ের মানুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সামনের চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং দেশের বাজার তদারকি আরও জোরদার না করা হলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

তাদের মতে, জ্বালানি খাতে বিকল্প নীতি গ্রহণ, আমদানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের বাজারে আরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।

এপ্রিলের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, মূল্যস্ফীতি কমার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বাজারে নতুন করে চাপ বাড়ছে।

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান হামলা, ৯৭ ডলারের কাছাকাছি তেলের দাম

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশ, সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠছে অসহনীয়

০৭:৪০:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার আরও স্পষ্টভাবে পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপের কারণে এপ্রিল মাসে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দেশের মূল্যস্ফীতি। এতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। মার্চ মাসে যা ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। যদিও গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ, তবুও মাসভিত্তিক হিসাবে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব পুরো বাজারে

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি খাতে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচও বাড়তে শুরু করেছে। ফলে প্রায় সব ধরনের পণ্যের বাজারেই এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এলপি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্যপণ্যে মূল্যচাপ বাড়ছেই

এপ্রিল মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাজারে ভোজ্যতেল, শাকসবজি, ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি এবং ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় আরও বেড়েছে।

বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিই নয়, অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ২২ শতাংশ

খাদ্যবহির্ভূত খাতে আরও বড় উল্লম্ফন

খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এপ্রিলে এই খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে, যা মার্চে ছিল ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

জ্বালানি, পরিবহন, গ্যাস ও বিভিন্ন সেবার মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার সামগ্রিক ব্যয় আরও বেড়েছে। ফলে মানুষের দৈনন্দিন খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

আয় বাড়ছে না, কমছে ক্রয়ক্ষমতা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতি মূলত ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’-এর উদাহরণ। অর্থাৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। কিন্তু মানুষের আয় সেই হারে না বাড়ায় প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্থির আয়ের মানুষদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সামনের চ্যালেঞ্জ

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং দেশের বাজার তদারকি আরও জোরদার না করা হলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

তাদের মতে, জ্বালানি খাতে বিকল্প নীতি গ্রহণ, আমদানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়ানো এবং বাজার মনিটরিং জোরদার করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। না হলে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের বাজারে আরও দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।

এপ্রিলের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, মূল্যস্ফীতি কমার যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বাজারে নতুন করে চাপ বাড়ছে।

এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি ৯.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।