০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান বি পজিটিভ রক্তের জরুরি আহ্বান, সিজার-পরবর্তী সংকটে তরুণী মৌসুমির জন্য প্রয়োজন ৮ ব্যাগ রক্ত

চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দৌড়ে বিশ্বের বড় মেমোরি-চিপ নির্মাতারা যখন রেকর্ড মুনাফা করছে, তখন চীনের শেনজেনের হুয়াকিয়াংবেই ইলেকট্রনিক্স মার্কেটের ছোট ব্যবসায়ীরা উল্টো ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত বছরের জল্পনামূলক উন্মাদনার পর এখন বাজারে নেমেছে বড় ধরনের ধস, যার ফলে ব্যবসায়ীদের গুদামে থাকা চিপের মূল্য দ্রুত কমে যাচ্ছে।

শেনজেনের হুয়াকিয়াং ইলেকট্রনিক ওয়ার্ল্ডের এক ব্যবসায়ী লিউ জানান, গত বছর পরিস্থিতি এতটাই অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল যে জুতার ব্যবসায়ী থেকে মাছ বিক্রেতা পর্যন্ত সবাই মেমোরি-চিপ কেনাবেচায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন সেই অনেকেই বিপদে আটকে গেছেন।

মূল্যপতনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ডিডিআর৪ মেমোরি চিপের দাম গত বছরের শেষ দিকের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে ১৬ গিগাবিট ডিডিআর৪ মেমোরি কিট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০০ ইউয়ানে, যা ২০২৫ সালের শেষ দিকে ১ হাজার ইউয়ানের বেশি ছিল।

তবে দাম কমলেও এটি এখনও আগের স্বাভাবিক মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। আগে একই পণ্য বিক্রি হতো ১০০ ইউয়ানের সামান্য বেশি দামে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণ ক্রেতারা এখন বাড়তি দামে পণ্য কিনতে আগ্রহী নন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ অতিরিক্ত দামে মেমোরি চিপ কিনছেন না। ফলে বাজারে চাহিদা দ্রুত কমে গেছে।

নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে হুয়াকিয়াংবেই

গত বছরের তুলনায় এখন হুয়াকিয়াংবেইয়ের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে। একসময় যেখানে ফোনে সারাক্ষণ দাম জানতে ক্রেতাদের কল আসত, এখন সেখানে দীর্ঘ সময় কোনো অনুসন্ধানই আসছে না।

আরেক ব্যবসায়ী লিয়াও জানান, গত বছরের উন্মাদনায় বিক্রি বাড়লেও প্রকৃত লাভের হার খুব কম ছিল। কারণ ব্যবসায়ীদেরও উচ্চ দামে চিপ কিনে মজুত করতে হয়েছিল। এখন অনেকেই দ্রুত স্টক বিক্রি করে দিচ্ছেন যাতে আরও মূল্যহ্রাসের ঝুঁকিতে না পড়তে হয়।

তিনি বলেন, ভোক্তা বাজার দুর্বল হলেও ব্যবসায়িক ও রপ্তানি খাতের অর্ডার আগামী দুই বছর বাজারকে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

After the frenzy, the fallout: why the chips are down for Shenzhen's tech  traders | South China Morning Post

এআই বুমে লাভবান বড় কোম্পানিগুলো

শেনজেনের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে থাকলেও বিশ্বের বড় তিন মেমোরি-চিপ নির্মাতা—স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন টেকনোলজি—এআই খাতের কারণে বিশাল মুনাফা করছে।

উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ও বাজারমূল্য দ্রুত বেড়েছে।

স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য বুধবার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের পরিচালন মুনাফা আট গুণের বেশি বেড়েছে।

মাইক্রনের বাজারমূল্যও প্রথমবারের মতো ৭০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর কয়েক গুণ বেড়েছে। একই সময়ে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বপ্নভঙ্গের গল্প

কয়েক মাস আগেও হুয়াকিয়াংবেই ছিল রাতারাতি ধনী হয়ে যাওয়ার গল্পে ভরপুর। এখন সেখানে শোনা যাচ্ছে সতর্কবার্তা আর লোকসানের গল্প।

এক ব্যবসায়ী শিয়ে বলেন, যারা বাজারের সর্বোচ্চ দামে চিপ কিনেছিলেন, তাদের অনেকের কয়েক মিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের সম্পদের সমপরিমাণ অর্থ মাত্র এক সপ্তাহেই উধাও হয়ে গেছে।

তিনি জানান, গত বছর অতিরিক্ত মজুত না করায় এখন তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। কেবল দীর্ঘদিনের কিছু ক্রেতার জন্য সীমিত পরিমাণ পণ্য রেখেছিলেন।

বাজারের বাস্তবতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের হতাশাও স্পষ্ট। তাদের মতে, এআই বিপ্লবের প্রকৃত লাভ পাচ্ছে বড় নির্মাতারা, কিন্তু স্থানীয় স্পট মার্কেটের ছোট ব্যবসায়ীরা সেই সুবিধা খুব কমই পাচ্ছেন।

চিপ বাজার ধস

শেনজেনের হুয়াকিয়াংবেইয়ে মেমোরি-চিপের দাম ধসে ছোট ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে, আর এআই বুমে রেকর্ড মুনাফা করছে বিশ্বজুড়ে বড় নির্মাতারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের

চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব

০৮:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দৌড়ে বিশ্বের বড় মেমোরি-চিপ নির্মাতারা যখন রেকর্ড মুনাফা করছে, তখন চীনের শেনজেনের হুয়াকিয়াংবেই ইলেকট্রনিক্স মার্কেটের ছোট ব্যবসায়ীরা উল্টো ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত বছরের জল্পনামূলক উন্মাদনার পর এখন বাজারে নেমেছে বড় ধরনের ধস, যার ফলে ব্যবসায়ীদের গুদামে থাকা চিপের মূল্য দ্রুত কমে যাচ্ছে।

শেনজেনের হুয়াকিয়াং ইলেকট্রনিক ওয়ার্ল্ডের এক ব্যবসায়ী লিউ জানান, গত বছর পরিস্থিতি এতটাই অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল যে জুতার ব্যবসায়ী থেকে মাছ বিক্রেতা পর্যন্ত সবাই মেমোরি-চিপ কেনাবেচায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন সেই অনেকেই বিপদে আটকে গেছেন।

মূল্যপতনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

বাজার সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন ডিডিআর৪ মেমোরি চিপের দাম গত বছরের শেষ দিকের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে ১৬ গিগাবিট ডিডিআর৪ মেমোরি কিট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০০ ইউয়ানে, যা ২০২৫ সালের শেষ দিকে ১ হাজার ইউয়ানের বেশি ছিল।

তবে দাম কমলেও এটি এখনও আগের স্বাভাবিক মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি। আগে একই পণ্য বিক্রি হতো ১০০ ইউয়ানের সামান্য বেশি দামে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাধারণ ক্রেতারা এখন বাড়তি দামে পণ্য কিনতে আগ্রহী নন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ অতিরিক্ত দামে মেমোরি চিপ কিনছেন না। ফলে বাজারে চাহিদা দ্রুত কমে গেছে।

নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে হুয়াকিয়াংবেই

গত বছরের তুলনায় এখন হুয়াকিয়াংবেইয়ের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে গেছে। একসময় যেখানে ফোনে সারাক্ষণ দাম জানতে ক্রেতাদের কল আসত, এখন সেখানে দীর্ঘ সময় কোনো অনুসন্ধানই আসছে না।

আরেক ব্যবসায়ী লিয়াও জানান, গত বছরের উন্মাদনায় বিক্রি বাড়লেও প্রকৃত লাভের হার খুব কম ছিল। কারণ ব্যবসায়ীদেরও উচ্চ দামে চিপ কিনে মজুত করতে হয়েছিল। এখন অনেকেই দ্রুত স্টক বিক্রি করে দিচ্ছেন যাতে আরও মূল্যহ্রাসের ঝুঁকিতে না পড়তে হয়।

তিনি বলেন, ভোক্তা বাজার দুর্বল হলেও ব্যবসায়িক ও রপ্তানি খাতের অর্ডার আগামী দুই বছর বাজারকে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

After the frenzy, the fallout: why the chips are down for Shenzhen's tech  traders | South China Morning Post

এআই বুমে লাভবান বড় কোম্পানিগুলো

শেনজেনের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে থাকলেও বিশ্বের বড় তিন মেমোরি-চিপ নির্মাতা—স্যামসাং ইলেকট্রনিকস, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রন টেকনোলজি—এআই খাতের কারণে বিশাল মুনাফা করছে।

উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এআই ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর ও বাজারমূল্য দ্রুত বেড়েছে।

স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য বুধবার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে তাদের পরিচালন মুনাফা আট গুণের বেশি বেড়েছে।

মাইক্রনের বাজারমূল্যও প্রথমবারের মতো ৭০০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ারদর কয়েক গুণ বেড়েছে। একই সময়ে এসকে হাইনিক্সের শেয়ারও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বপ্নভঙ্গের গল্প

কয়েক মাস আগেও হুয়াকিয়াংবেই ছিল রাতারাতি ধনী হয়ে যাওয়ার গল্পে ভরপুর। এখন সেখানে শোনা যাচ্ছে সতর্কবার্তা আর লোকসানের গল্প।

এক ব্যবসায়ী শিয়ে বলেন, যারা বাজারের সর্বোচ্চ দামে চিপ কিনেছিলেন, তাদের অনেকের কয়েক মিলিয়ন ইউয়ান মূল্যের সম্পদের সমপরিমাণ অর্থ মাত্র এক সপ্তাহেই উধাও হয়ে গেছে।

তিনি জানান, গত বছর অতিরিক্ত মজুত না করায় এখন তিনি স্বস্তি অনুভব করছেন। কেবল দীর্ঘদিনের কিছু ক্রেতার জন্য সীমিত পরিমাণ পণ্য রেখেছিলেন।

বাজারের বাস্তবতা নিয়ে ব্যবসায়ীদের হতাশাও স্পষ্ট। তাদের মতে, এআই বিপ্লবের প্রকৃত লাভ পাচ্ছে বড় নির্মাতারা, কিন্তু স্থানীয় স্পট মার্কেটের ছোট ব্যবসায়ীরা সেই সুবিধা খুব কমই পাচ্ছেন।

চিপ বাজার ধস

শেনজেনের হুয়াকিয়াংবেইয়ে মেমোরি-চিপের দাম ধসে ছোট ব্যবসায়ীরা বড় ক্ষতির মুখে, আর এআই বুমে রেকর্ড মুনাফা করছে বিশ্বজুড়ে বড় নির্মাতারা।