১০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর সীমান্তে সতর্ক বিজিবি, ‘পুশ-ইন’ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি বক্স অফিসের নায়ক থেকে তামিল রাজনীতির বিস্ময়, কীভাবে ‘থালাপতি’ বিজয় বদলে দিলেন তামিলনাড়ুর সমীকরণ ক্রেনশর পথ ও “আন্তঃসংযোগ”-এর জন্ম চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি ভারসাম্যের কূটনীতিতে ভারত-ভিয়েতনাম ঘনিষ্ঠতা, সুপারপাওয়ার নির্ভরতা কমানোর বার্তা চিপ জুয়ার ধস: এআই বুমের মাঝেই শেনজেনের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি ইউয়ান গায়েব মধ্যবিত্ত পৃথিবীর শেষ আশ্রয়: বারো বছরের কিশোরীরা কেন এখনও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছে চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান বি পজিটিভ রক্তের জরুরি আহ্বান, সিজার-পরবর্তী সংকটে তরুণী মৌসুমির জন্য প্রয়োজন ৮ ব্যাগ রক্ত

চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি

বিশ্ববাজারে চীনা কোম্পানিগুলোর বিস্তার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূল ভূখণ্ড চীনের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি আয় গত বছর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে। এই আয় মোট আয়ের প্রায় ১৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

রাষ্ট্রীয় সমর্থিত সংবাদমাধ্যম সিকিউরিটিজ টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিকস ও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তালিকাভুক্ত শাখা পেট্রোচায়না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিদেশি বাজারে তাদের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন গত বছরে ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ইলেকট্রনিকস ও গাড়ি খাতের উত্থান

পেট্রোচায়নার পরেই অবস্থান করছে প্রযুক্তি ও অটোমোবাইল খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ানের ফক্সকনের সাংহাই-তালিকাভুক্ত ইউনিট ফক্সকন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট (এফআইআই), শেনজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি এবং লাক্সশেয়ার প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রি।

বিওয়াইডি শুধু বৈদ্যুতিক গাড়িই তৈরি করে না, তারা অ্যাপলের আইপ্যাডসহ বিভিন্ন গ্যাজেটের যন্ত্রাংশ ও অ্যাসেম্বলিং কাজও করে থাকে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, এই ইলেকট্রনিকস ব্যবসাই ২০২৫ সালে তাদের মোট আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দিয়েছে।

ফক্সকনের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মোট আয়ের ৫৬ শতাংশ এসেছে মূল ভূখণ্ড চীনের কারখানা থেকে। তবে মেক্সিকো কারখানার অবদানও ছিল এক-তৃতীয়াংশের বেশি। অন্যদিকে বিওয়াইডি জানিয়েছে, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ব্রাজিলে তাদের নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ির বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউরোপে বিওয়াইডি গাড়ির নতুন নিবন্ধনও প্রায় ২৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকে ভিন্ন চিত্র

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ফক্সকন ৫৭ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দেখালেও বিওয়াইডির মোট আয় ১২ শতাংশ কমেছে। তবে দুই প্রতিষ্ঠানই এই সময়ের আর্থিক প্রতিবেদনে ভৌগোলিকভিত্তিক আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

Foxconn, BYD among top exporters as Chinese-listed firms hit overseas  revenue milestone | South China Morning Post

বিশ্ববাজারে চীনের নতুন কৌশল

বিশ্লেষকদের মতে, চীনা কোম্পানিগুলো এখন শুধু অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই। তারা বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও স্থানীয়করণ কৌশল গ্রহণ করছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিকস শিল্পের মোট আয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ এসেছে বিদেশি বাজার থেকে, যা সব খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ। দীর্ঘদিন ধরেই এই খাতে বিদেশি আয়ের অংশ ৪০ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

এছাড়া গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, অটোমোবাইল এবং যান্ত্রিক সরঞ্জাম শিল্পেও বিদেশি আয়ের অবদান ২৫ শতাংশের বেশি হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হায়ার স্মার্ট হোম, রাষ্ট্রীয় গাড়ি নির্মাতা এসএআইসি মোটর এবং ব্যাটারি নির্মাতা সিএটিএল।

শক্তিশালী ইউয়ান নিয়ে শঙ্কা

তবে এই প্রবৃদ্ধির মধ্যেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চীনের মুদ্রাবাজারে। গত বছর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান ৭-এর নিচে নেমে গেলেও এখন তা আবার শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

গোল্ডম্যান স্যাকস জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী সময়ে ইউয়ানের মান ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এতে চীনা রপ্তানিকারকদের মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চীনা কোম্পানির বিদেশি আয়

চীনা তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদেশি আয় ১২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ ভারতের

চীনা কোম্পানির বৈশ্বিক আয় রেকর্ডে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি

০৮:৩৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে চীনা কোম্পানিগুলোর বিস্তার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মূল ভূখণ্ড চীনের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি আয় গত বছর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে। এই আয় মোট আয়ের প্রায় ১৭ শতাংশ, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

রাষ্ট্রীয় সমর্থিত সংবাদমাধ্যম সিকিউরিটিজ টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিকস ও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তালিকাভুক্ত শাখা পেট্রোচায়না। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বিদেশি বাজারে তাদের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন গত বছরে ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১৬ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ইলেকট্রনিকস ও গাড়ি খাতের উত্থান

পেট্রোচায়নার পরেই অবস্থান করছে প্রযুক্তি ও অটোমোবাইল খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে রয়েছে তাইওয়ানের ফক্সকনের সাংহাই-তালিকাভুক্ত ইউনিট ফক্সকন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট (এফআইআই), শেনজেনভিত্তিক বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা বিওয়াইডি এবং লাক্সশেয়ার প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রি।

বিওয়াইডি শুধু বৈদ্যুতিক গাড়িই তৈরি করে না, তারা অ্যাপলের আইপ্যাডসহ বিভিন্ন গ্যাজেটের যন্ত্রাংশ ও অ্যাসেম্বলিং কাজও করে থাকে। কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, এই ইলেকট্রনিকস ব্যবসাই ২০২৫ সালে তাদের মোট আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ জোগান দিয়েছে।

ফক্সকনের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মোট আয়ের ৫৬ শতাংশ এসেছে মূল ভূখণ্ড চীনের কারখানা থেকে। তবে মেক্সিকো কারখানার অবদানও ছিল এক-তৃতীয়াংশের বেশি। অন্যদিকে বিওয়াইডি জানিয়েছে, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও ব্রাজিলে তাদের নতুন জ্বালানিচালিত গাড়ির বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইউরোপে বিওয়াইডি গাড়ির নতুন নিবন্ধনও প্রায় ২৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকে ভিন্ন চিত্র

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ফক্সকন ৫৭ শতাংশ রাজস্ব প্রবৃদ্ধি দেখালেও বিওয়াইডির মোট আয় ১২ শতাংশ কমেছে। তবে দুই প্রতিষ্ঠানই এই সময়ের আর্থিক প্রতিবেদনে ভৌগোলিকভিত্তিক আয়ের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

Foxconn, BYD among top exporters as Chinese-listed firms hit overseas  revenue milestone | South China Morning Post

বিশ্ববাজারে চীনের নতুন কৌশল

বিশ্লেষকদের মতে, চীনা কোম্পানিগুলো এখন শুধু অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ নেই। তারা বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ব্যাপক বিনিয়োগ ও স্থানীয়করণ কৌশল গ্রহণ করছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিকস শিল্পের মোট আয়ের প্রায় ৪৮ শতাংশ এসেছে বিদেশি বাজার থেকে, যা সব খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ। দীর্ঘদিন ধরেই এই খাতে বিদেশি আয়ের অংশ ৪০ শতাংশের ওপরে রয়েছে।

এছাড়া গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, অটোমোবাইল এবং যান্ত্রিক সরঞ্জাম শিল্পেও বিদেশি আয়ের অবদান ২৫ শতাংশের বেশি হয়েছে। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হায়ার স্মার্ট হোম, রাষ্ট্রীয় গাড়ি নির্মাতা এসএআইসি মোটর এবং ব্যাটারি নির্মাতা সিএটিএল।

শক্তিশালী ইউয়ান নিয়ে শঙ্কা

তবে এই প্রবৃদ্ধির মধ্যেও নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চীনের মুদ্রাবাজারে। গত বছর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান ৭-এর নিচে নেমে গেলেও এখন তা আবার শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।

গোল্ডম্যান স্যাকস জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী সময়ে ইউয়ানের মান ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। এতে চীনা রপ্তানিকারকদের মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চীনা কোম্পানির বিদেশি আয়

চীনা তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদেশি আয় ১২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, শীর্ষে ফক্সকন ও বিওয়াইডি।