০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
দেশের স্বার্থ রক্ষা না হলে মার্কিন চুক্তির ধারা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে ডিমের বাজারে অস্থিরতা, এক মাসে ডজনে বেড়েছে ৪০ টাকা ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব: শক্তির সীমা নাকি কৌশলের ব্যর্থতা? কদমতলীর সাদ্দাম মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়, গভর্নরের কাছে ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের দাবি মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা হরমুজ সংকটে ভারতের এলপিজি আমদানি অর্ধেকে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা এআই কি মানবসভ্যতার জন্য নতুন হুমকি? মো গাওদাতের সতর্কবার্তায় গভীর উদ্বেগ আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট, বোলারদের জন্য নিয়ম বদলের আহ্বান গাভাস্কারের

চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম বিদেশের মাটিতে তথাকথিত ‘অফেনসিভ’ বা আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান—এমন অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলছে, জাপানের “নব্য সামরিকতাবাদ” এবং দ্রুত অস্ত্র প্রতিযোগিতার প্রবণতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের নেতৃত্বে আয়োজিত যৌথ সামরিক মহড়া ‘বালিকাতান ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে ফিলিপাইনের ভূখণ্ড থেকে টাইপ-৮৮ সারফেস-টু-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে জাপানি বাহিনী। চীনের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম জাপান বিদেশে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করল।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এটি জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে বড় ধরনের সরে আসার ইঙ্গিত। তার ভাষায়, জাপানের ডানপন্থি শক্তিগুলো দ্রুত “পুনরায় সামরিকীকরণ” প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে এবং দেশটি নিজেদের “শুধু আত্মরক্ষামূলক” নীতির সীমা অতিক্রম করছে।

ঐতিহাসিক ক্ষোভের প্রসঙ্গ

লিন জিয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বিরুদ্ধে জাপানের অতীত আগ্রাসনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। বিশেষ করে ফিলিপাইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতের আগ্রাসী শক্তি হিসেবে জাপান তাদের ঐতিহাসিক অপরাধ নিয়ে গভীর আত্মসমালোচনা না করে এখন “নিরাপত্তা সহযোগিতা”র আড়ালে বিদেশে সামরিক শক্তি মোতায়েন করছে।

চীনের অভিযোগ, ইতিহাস শিক্ষা ও ঐতিহাসিক মূল্যায়নে “গুরুতর ঘাটতি” এবং সামরিক প্রস্তুতির কৌশলগত পরিকল্পনার ফলে জাপানে নব্য সামরিকতাবাদ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বেইজিংয়ের মতে, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।

China condemns Japan's first overseas 'offensive missile' test since WWII |  South China Morning Post

তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা

চীন ও জাপানের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও তিক্ত হয়েছে। বিশেষ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান নিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এরপর থেকেই চীন নিয়মিতভাবে জাপানের বিরুদ্ধে “সামরিকতাবাদ পুনর্জাগরণের” অভিযোগ তুলে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের প্রথম দ্বীপমালাভিত্তিক অঞ্চলে চীনকে কৌশলগতভাবে ঘিরে রাখতে জাপান সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে অস্ত্র রপ্তানির নীতিও শিথিল করেছে টোকিও, যা ভবিষ্যতে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির পথ খুলে দিতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা

টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৯৮০-এর দশকে তৈরি একটি মোবাইল অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, যার পাল্লা প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। যদিও আধুনিক চীনা নৌবাহিনীর জন্য এটি বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ নয় বলে মনে করা হয়, তবে বিদেশে এর মোতায়েনকে বড় কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা।

একই সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রও ফিলিপাইনের ভূখণ্ড থেকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টাইফন মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ৫০০ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইনে এ ধরনের মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েনের ফলে চীনের মূল ভূখণ্ডও সম্ভাব্য হামলার আওতায় চলে আসতে পারে। ফলে পূর্ব এশিয়ায় সামরিক প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীনের অভিযোগ, জাপান অল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের প্রযুক্তিগত সামর্থ্য ধরে রেখেছে। এ নিয়ে বেইজিং জাতিসংঘেও একটি নথি জমা দিয়েছে।

জাপানের বিদেশে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে চীন-জাপান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল।

জাপানের বিদেশে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

ফিলিপাইনে সামরিক মহড়ায় জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া, বাড়ছে পূর্ব এশিয়ার উত্তেজনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের স্বার্থ রক্ষা না হলে মার্কিন চুক্তির ধারা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে

চীনের ক্ষোভ, ৮০ বছর পর বিদেশে ‘অফেনসিভ’ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল জাপান

০৮:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম বিদেশের মাটিতে তথাকথিত ‘অফেনসিভ’ বা আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে জাপান—এমন অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলছে, জাপানের “নব্য সামরিকতাবাদ” এবং দ্রুত অস্ত্র প্রতিযোগিতার প্রবণতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি হয়ে উঠছে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের নেতৃত্বে আয়োজিত যৌথ সামরিক মহড়া ‘বালিকাতান ২০২৬’-এ অংশ নিয়ে ফিলিপাইনের ভূখণ্ড থেকে টাইপ-৮৮ সারফেস-টু-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে জাপানি বাহিনী। চীনের দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম জাপান বিদেশে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করল।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এটি জাপানের যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী অবস্থান থেকে বড় ধরনের সরে আসার ইঙ্গিত। তার ভাষায়, জাপানের ডানপন্থি শক্তিগুলো দ্রুত “পুনরায় সামরিকীকরণ” প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে এবং দেশটি নিজেদের “শুধু আত্মরক্ষামূলক” নীতির সীমা অতিক্রম করছে।

ঐতিহাসিক ক্ষোভের প্রসঙ্গ

লিন জিয়ান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর বিরুদ্ধে জাপানের অতীত আগ্রাসনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। বিশেষ করে ফিলিপাইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতের আগ্রাসী শক্তি হিসেবে জাপান তাদের ঐতিহাসিক অপরাধ নিয়ে গভীর আত্মসমালোচনা না করে এখন “নিরাপত্তা সহযোগিতা”র আড়ালে বিদেশে সামরিক শক্তি মোতায়েন করছে।

চীনের অভিযোগ, ইতিহাস শিক্ষা ও ঐতিহাসিক মূল্যায়নে “গুরুতর ঘাটতি” এবং সামরিক প্রস্তুতির কৌশলগত পরিকল্পনার ফলে জাপানে নব্য সামরিকতাবাদ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বেইজিংয়ের মতে, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।

China condemns Japan's first overseas 'offensive missile' test since WWII |  South China Morning Post

তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা

চীন ও জাপানের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও তিক্ত হয়েছে। বিশেষ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ান নিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এরপর থেকেই চীন নিয়মিতভাবে জাপানের বিরুদ্ধে “সামরিকতাবাদ পুনর্জাগরণের” অভিযোগ তুলে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের প্রথম দ্বীপমালাভিত্তিক অঞ্চলে চীনকে কৌশলগতভাবে ঘিরে রাখতে জাপান সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে অস্ত্র রপ্তানির নীতিও শিথিল করেছে টোকিও, যা ভবিষ্যতে উন্নত সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির পথ খুলে দিতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা

টাইপ-৮৮ ক্ষেপণাস্ত্রটি ১৯৮০-এর দশকে তৈরি একটি মোবাইল অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, যার পাল্লা প্রায় ১৮০ কিলোমিটার। যদিও আধুনিক চীনা নৌবাহিনীর জন্য এটি বড় সামরিক চ্যালেঞ্জ নয় বলে মনে করা হয়, তবে বিদেশে এর মোতায়েনকে বড় কৌশলগত পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা।

একই সামরিক মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রও ফিলিপাইনের ভূখণ্ড থেকে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টাইফন মধ্যম-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে এই উৎক্ষেপণ করা হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ৫০০ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো সম্ভব।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইনে এ ধরনের মার্কিন অস্ত্রব্যবস্থা মোতায়েনের ফলে চীনের মূল ভূখণ্ডও সম্ভাব্য হামলার আওতায় চলে আসতে পারে। ফলে পূর্ব এশিয়ায় সামরিক প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীনের অভিযোগ, জাপান অল্প সময়ের মধ্যেই পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের প্রযুক্তিগত সামর্থ্য ধরে রেখেছে। এ নিয়ে বেইজিং জাতিসংঘেও একটি নথি জমা দিয়েছে।

জাপানের বিদেশে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ঘিরে চীন-জাপান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল।

জাপানের বিদেশে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

ফিলিপাইনে সামরিক মহড়ায় জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া, বাড়ছে পূর্ব এশিয়ার উত্তেজনা।