কম খরচে আমিষের চাহিদা পূরণে ডিম দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসা। কিন্তু সেই ডিমের বাজারও এখন অস্থির হয়ে উঠেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো নতুন করে চাপে পড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজার এবং মিরপুর ২ নম্বর এলাকার বিভিন্ন মুদি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, খুচরা বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকায়। একই ডিম পাড়া-মহল্লার দোকানে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়।
বাজার থেকে মহল্লায় বাড়ছে দাম
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বাজার থেকে এলাকায় পৌঁছাতে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় দাম বাড়ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে অযৌক্তিকভাবে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হচ্ছে।
মিরপুর ২ নম্বর এলাকার এক মুদি দোকানে দেখা যায়, প্রতি ডজন লাল ডিম ১৪৮ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানির ভাষ্য, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে পরিবহন খরচও যুক্ত হচ্ছে।
এক মাস আগেও বাজারে প্রতি ডজন লাল ও সাদা ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সেই একই ডিম কিনতে অতিরিক্ত ২০ থেকে ৪০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।
চাপে সাধারণ মানুষ
ডিমের দাম বাড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। অনেকেই বলছেন, মাছ ও মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে ডিমই ছিল তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প। এখন সেটিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, সংসারের প্রায় সব পণ্যের দামই বেড়েছে। এখন ডিম কিনেও স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে না। শিশুদের জন্য নিয়মিত ডিম কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের চাপ নিতে হচ্ছে।
আরেকজন ক্রেতার ভাষ্য, প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ডিম থাকলেও এখন সেটি কিনতেও হিসাব করতে হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে প্রায় সবাই জ্বালানি তেলের সংকটের কথা বলছেন।

বিক্রেতারাও অস্বস্তিতে
শুধু ক্রেতাই নন, খুচরা বিক্রেতারাও বলছেন, ডিমের উচ্চমূল্যে তাদের বিক্রি কমে যাচ্ছে। এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, বাজারে চাহিদা থাকলে পাইকাররা সহজে দাম কমান না। ফলে খুচরা বিক্রেতাদেরও বেশি দামে কিনে বিক্রি করতে হয়।
তিনি বলেন, রোজার পর প্রতি শত ডিমের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে ভাঙা ও নষ্ট ডিমের ক্ষতিও বহন করতে হচ্ছে। এতে লাভের পরিমাণ অনেক কমে যাচ্ছে।
জ্বালানি সংকট ও বড় ফার্মের প্রভাব
বিভিন্ন বিক্রেতা ডিমের দাম বৃদ্ধির জন্য জ্বালানি তেলের সংকটকে দায়ী করছেন। তাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে সরবরাহ পর্যায়ে অতিরিক্ত খরচ যোগ হচ্ছে।
অন্যদিকে, কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, বড় ফার্মগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের মতে, ছোট ফার্মগুলোকে চাপের মধ্যে ফেলে বাজারে সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বাড়ছে।
একজন আড়তদার বলেন, বড় ফার্মগুলো যখন দাম বাড়িয়ে দেয় তখন ছোট খামারিরা টিকতে পারেন না। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে গিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়।
বেলায় বেলায় বদলাচ্ছে পাইকারি দাম
পাইকারি বাজারেও একই দিনে একাধিক দামে ডিম বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিরপুর ১ নম্বর কাঁচাবাজারের এক আড়তে সকালে প্রতি শত লাল ডিম বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৩০ টাকায়। কিন্তু দুপুরে সেই দাম বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৫০ টাকায়। একইভাবে সাদা ও হাঁসের ডিমের দামও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বাড়ানো হয়।
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে এমন অস্থিরতার কারণেই শেষ পর্যন্ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
ডিমের দাম বৃদ্ধি
ডিমের বাজারে অস্থিরতা, এক মাসে ডজনে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। খুচরা ও পাইকারি বাজারে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি নিয়ে বাড়ছে ভোগান্তি।
ডিমের দাম আবারও বাড়লো। এক মাসে ডজনে বেড়েছে ২০-৪০ টাকা, চাপে সাধারণ ক্রেতা।
বাজারে মাছ-মাংসের পর এবার ডিমেও আগুন, মহল্লার দোকানে ডজন ১৫০ টাকা
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















