০৯:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
ডিমের বাজারে অস্থিরতা, এক মাসে ডজনে বেড়েছে ৪০ টাকা ইরানের সঙ্গে আমেরিকার দ্বন্দ্ব: শক্তির সীমা নাকি কৌশলের ব্যর্থতা? কদমতলীর সাদ্দাম মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়, গভর্নরের কাছে ১১৮ বিধায়কের সমর্থনের দাবি মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, বর্ষায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা হরমুজ সংকটে ভারতের এলপিজি আমদানি অর্ধেকে, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা এআই কি মানবসভ্যতার জন্য নতুন হুমকি? মো গাওদাতের সতর্কবার্তায় গভীর উদ্বেগ আইপিএলে ব্যাটারদের দাপট, বোলারদের জন্য নিয়ম বদলের আহ্বান গাভাস্কারের অ্যামাজনের ৩ কোটি ডলারের কার্বন চুক্তি: ভারতের ধানচাষে নতুন সম্ভাবনা নাকি ‘গ্রিনওয়াশ’ বিতর্ক?

সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া

নড়াইল সদর উপজেলার এক পরিবারের বহু প্রতীক্ষিত সুখ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিলেও অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় বাঁচানো যায়নি নবজাতকদের কাউকেই। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সহজ-ভ্যানচালক মহসিন মোল্লার স্ত্রী সালমা বেগম যশোরের একটি হাসপাতালে সাত সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানগুলো মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস বয়সে জন্ম নেওয়ায় তাদের ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুরোপুরি বিকশিত হয়নি।

পরিবার সূত্র জানায়, আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় ছয় সন্তানের উপস্থিতি ধরা পড়লেও শেষ পর্যন্ত সালমা বেগম সাতটি সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের মধ্যে চারজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও পূর্ণ হলো না স্বপ্ন

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাতে প্রসববেদনা শুরু হলে সালমাকে দ্রুত যশোরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে প্রথমে দুটি সন্তান জন্ম নেয়। পরে বুধবার রাতে আরও পাঁচটি সন্তানের জন্ম হয়।

নবজাতকদের দাদা আবদুল লতিফ মোল্লা বলেন, এক দশক ধরে পরিবারের সবাই নাতি-নাতনির মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। তার ছেলে আগে সৌদি আরবে কাজ করতেন। দেশে ফিরে তিন বছর ধরে সহজ-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “১০ বছর ধরে আমরা সন্তান আসার অপেক্ষা করেছি। একসঙ্গে সাতজন এলো, কিন্তু কাউকেই ধরে রাখতে পারলাম না। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি বলেন, সন্তানগুলো অত্যন্ত অপরিণত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে। প্রসবের আগেই মায়ের গর্ভের পানি ভেঙে গিয়েছিল।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি নবজাতকের ওজন ছিল প্রায় ২০০ গ্রামের মতো। জন্মের সময় তাদের হৃদস্পন্দন থাকলেও কম ওজন এবং অপরিণত ফুসফুসের কারণে কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ

স্থানীয় শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ নবজাতকদের দেখতে ভিড় করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর খবর পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সাত নবজাতককে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বর্তমানে সালমা বেগম যশোরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সুস্থতা কামনায় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রার্থনা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিমের বাজারে অস্থিরতা, এক মাসে ডজনে বেড়েছে ৪০ টাকা

সাত সন্তান একসঙ্গে জন্ম, কিন্তু বাঁচল না কেউ: নড়াইলে শোকের ছায়া

০৯:১২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

নড়াইল সদর উপজেলার এক পরিবারের বহু প্রতীক্ষিত সুখ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। বিয়ের ১০ বছর পর একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্ম দিলেও অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়ায় বাঁচানো যায়নি নবজাতকদের কাউকেই। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।

নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের কালুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সহজ-ভ্যানচালক মহসিন মোল্লার স্ত্রী সালমা বেগম যশোরের একটি হাসপাতালে সাত সন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানগুলো মাত্র সাড়ে পাঁচ মাস বয়সে জন্ম নেওয়ায় তাদের ফুসফুসসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুরোপুরি বিকশিত হয়নি।

পরিবার সূত্র জানায়, আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় ছয় সন্তানের উপস্থিতি ধরা পড়লেও শেষ পর্যন্ত সালমা বেগম সাতটি সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের মধ্যে চারজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে ছিল।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও পূর্ণ হলো না স্বপ্ন

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার রাতে প্রসববেদনা শুরু হলে সালমাকে দ্রুত যশোরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রাতে প্রথমে দুটি সন্তান জন্ম নেয়। পরে বুধবার রাতে আরও পাঁচটি সন্তানের জন্ম হয়।

নবজাতকদের দাদা আবদুল লতিফ মোল্লা বলেন, এক দশক ধরে পরিবারের সবাই নাতি-নাতনির মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। তার ছেলে আগে সৌদি আরবে কাজ করতেন। দেশে ফিরে তিন বছর ধরে সহজ-ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন।

তিনি বলেন, “১০ বছর ধরে আমরা সন্তান আসার অপেক্ষা করেছি। একসঙ্গে সাতজন এলো, কিন্তু কাউকেই ধরে রাখতে পারলাম না। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।”

চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ইলা মণ্ডল জানান, সালমা বেগম তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি বলেন, সন্তানগুলো অত্যন্ত অপরিণত অবস্থায় জন্ম নিয়েছে। প্রসবের আগেই মায়ের গর্ভের পানি ভেঙে গিয়েছিল।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি নবজাতকের ওজন ছিল প্রায় ২০০ গ্রামের মতো। জন্মের সময় তাদের হৃদস্পন্দন থাকলেও কম ওজন এবং অপরিণত ফুসফুসের কারণে কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ

স্থানীয় শিক্ষক আবু সেলিম বলেন, একসঙ্গে সাত সন্তানের জন্মের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ নবজাতকদের দেখতে ভিড় করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর খবর পুরো এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সাত নবজাতককে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

বর্তমানে সালমা বেগম যশোরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার সুস্থতা কামনায় পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রার্থনা করছেন।