তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়ের পর অবশেষে সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপাল আরভি আর্লেকারের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি জানান, তার দল টিভিকে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সূত্র বলছে, শনিবার সকাল ১১টায় তিনি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। সারাক্ষণ রিপোর্ট
সকালের রাজনৈতিক জল্পনা ছিল ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে। কিন্তু দুপুরের পর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। টিভিকে দাবি করে, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিশ্চিত করেছে। এরপর আবার নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ের পক্ষেই পরিস্থিতি ঝুঁকেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকে বিজয় দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য। তবে গভর্নর সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন। তিনি জানতে চান, সমর্থন নিশ্চিত থাকলে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন কেন।
ঐতিহাসিক অভিষেকের পরও অনিশ্চয়তা
গত মাসের নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম বা টিভিকে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জিতে চমক সৃষ্টি করে। ডিএমকে ও এআইএডিএমকের দীর্ঘ ৬২ বছরের আধিপত্য ভেঙে দেয় দলটি। কিন্তু একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় সরকার গঠনের পথ সহজ হয়নি।
রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, প্রয়োজনীয় ১১৮ সমর্থন ছাড়া তিনি বিজয়কে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না। বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দফা বৈঠকেও এই অবস্থান থেকে সরে আসেননি তিনি।
সমর্থনের সমীকরণ কীভাবে বদলালো
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে টিভিকে বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। কংগ্রেস তাদের পাঁচ বিধায়কের সমর্থন দিতে রাজি হয়, তবে শর্ত দেয় বিজেপির মতো ‘সাম্প্রদায়িক দল’-এর সঙ্গে কোনো জোট করা যাবে না।
এরপর বিদুথালাই চিরুথাইগল কাছি, সিপিআই(এম) এবং সিপিআইয়ের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। শুক্রবার দুপুর নাগাদ সূত্র জানায়, এই তিন দলও বিজয়কে সমর্থন দিতে সম্মত হয়েছে। এই দলগুলো আগে ডিএমকের মিত্র ছিল এবং বিকল্প সরকার গঠনের বিভিন্ন সমীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছিল।
এছাড়া ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের এক বিধায়ক এবং এএমএমকের একমাত্র বিধায়কের সমর্থনও টিভিকে পেতে পারে বলে খবর প্রকাশিত হয়।
তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমর্থনের হিসাব নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল। কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি।
)
মন্ত্রীসভা নিয়ে জল্পনা
বাম দল সিপিআই ও সিপিআই(এম) জানিয়েছে, তারা বাইরে থেকে সমর্থন দেবে এবং মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না। অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের সমর্থনের বিনিময়ে দুটি মন্ত্রিত্ব চাইতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোটের গুঞ্জন
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। যদিও দুই দল একই সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক আদর্শ থেকে উঠে এলেও তারা দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থান দুই দলকেই নতুন চাপে ফেলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবে রূপ নেয়নি।
বিজেপির অবস্থান
বিজেপি দাবি করেছে, পুরো পরিস্থিতিতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। দলটির রাজ্য মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপাথি বলেছেন, এটি একটি ভাঙা রায় এবং বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারলে গভর্নর সাংবিধানিকভাবে তা মেনে নেবেন। তিনি আরও বলেন, গভর্নরের ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই এবং সবকিছু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই হচ্ছে।
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের দৌড়ে বিজয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি, শপথের অপেক্ষা
তামিলনাড়ুর নতুন সমীকরণে বিজয়, ভেঙে গেল ডিএমকে-এআইএডিএমকের দীর্ঘ আধিপত্য
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















