১২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬
সমকালের একটি শিরোনাম “হাম ও উপসর্গে সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি মৃত্যু বিএনপি নেতার ছেলেকে ইয়াবাসহ আটকের পর উত্তেজনা, ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ রাজ্যপালের সিদ্ধান্তে ভেঙে গেল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা, সরলেন না মমতা ৭১৫ কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ব্যয় অমিত শাহ: যেভাবে বদলে দিলেন বাংলার নির্বাচনী মানচিত্র ইন্দোনেশিয়ায় এলপিজির বদলে সিএনজি পরিকল্পনা, প্রয়োজন হতে পারে শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ জ্বালানি সংকট ও মিয়ানমার ইস্যুতে উত্তপ্ত আসিয়ান সম্মেলন ঈদ কেনাকাটায় রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে দোকান-শপিংমল চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিতে দোষী দুই কর্মকর্তা, যুক্তরাজ্যে প্রথম বড় রায় রাশিয়ার যুদ্ধের জন্য লোক পাঠানোর অভিযোগে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সি

সমকালের একটি শিরোনাম “হাম ও উপসর্গে সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি মৃত্যু

সমকালের একটি শিরোনাম “হাম ও উপসর্গে সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি মৃত্যু”

নিশ্চিত হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা সরকারের কেন্দ্রীয় তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। কেন্দ্র থেকে দেওয়া মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুটি বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যে সরকারি হিসাবের চেয়ে ৩৫ জন বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে নিশ্চিত হামে মারা গেছে দুজন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের হাম ইউনিটে এ পর্যন্ত ২৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বাকি ২৬ জন মারা গেছে হাম সন্দেহে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় হিসাবে ২৪ জনের গরমিল পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান। তিনি আরও বলেন, হামের উপসর্গে বিভাগের সবগুলো মৃত্যুর ঘটনা এই হাসপাতালে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং পাঁচজন হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অথচ বিভাগীয় তথ্য বলছে, বরিশালে ২৫ জন উপসর্গ নিয়ে এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে তিনজন। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় তথ্যে ১১ জনের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে।

বরিশাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, ভোলায় ছয়জন, বরগুনায় দুজন ও ঝালকাঠিতে দুজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ ছাড়া, বরগুনায় হাম আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গেছে বলে বিভাগীয় তথ্যে জানা গেছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মার্চে মোট আটজন, এপ্রিলে ১৪ জন ও মে মাসে বিভাগে ছয়জন মারা গেছে।
সারাদেশের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের কাজ করে ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”স্থানীয় নির্বাচন: সক্ষমতা পরখ করতে চায় জামায়াত ও এনসিপি”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে লড়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাজপথের আন্দোলনেও দল দুটি এখনো একসঙ্গেই আছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা করে নিজেদের সামর্থ্য পরীক্ষা করতে চায় তারা। এ জন্য বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে সিটি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা যদি হয়ও, ইউপি নির্বাচন তারা এককভাবেই করবে—এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত ধরেই চলছে দল দুটির প্রস্তুতি।

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতা নিয়ে এখনো ১১ দলে সে রকম আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের দিনক্ষণও এখনো ঠিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আমরা আপাতত সব জায়গায় নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ করছি। সমঝোতা হলে তখন কাকে কোথায় ছাড় দেওয়া হবে, তা ঠিক করা হবে। তবে যেহেতু এখনো সমঝোতার আলোচনা হয়নি, আমরা একক নির্বাচনের প্রস্তুতিই নিচ্ছি।’

একই রকম পরিকল্পনার কথা জানালেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সারজিস আলম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এনসিপি এককভাবে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছে। এ কারণে আমরা এখন এককভাবে প্রতিটি জায়গায় স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করব। পরে যদি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের স্বার্থে, কোনো স্থানীয় নির্বাচনে জোট করতে হয়, সেটা তখনকার সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি।’

আইন অনুযায়ী, এবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে না। তবে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দল তাদের সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ শুরু করেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, জামায়াত সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমকে নিয়ে আলোচনা চলছে। গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রামে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে এনসিপি ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ঢাকা দক্ষিণে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদিব, কুমিল্লায় তারিকুল ইসলাম, সিলেটে আব্দুর রহমান আফজাল ও রাজশাহীতে মোবাশ্বের আলী প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “পুলিশের লুট হওয়া সহস্রাধিক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি”

লুট হওয়া মোট অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩২৮টির এখনো হদিস মেলেনি, সন্ধান মেলেনি গোলাবারুদেরও বড় একটি অংশের। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে, মোট লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এবং গোলাবারুদের প্রায় ৩৯ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এসএমজি, সাবমেশিনগানসহ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। একই সঙ্গে সে সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যেও ৭১৩ জন এখনো ফেরারি, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-টু’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলেও কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দি ও লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, লুট হওয়া অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার ও পলাতক বন্দিদের সক্রিয়তা দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে এসব অস্ত্র উদ্ধার ও ফেরারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে ব্যাপক জনরোষের শিকার হয় থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা। পুলিশের অস্ত্রাগার থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৩২৮টি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৩টি এসএমটির মতো সাবমেশিনগান। এছাড়া রয়েছে এসএমজি ২২২টি, চায়না রাইফেল ১ হাজার ২টি, এসএমজি-টি ৩১টিসহ বিভিন্ন মডেলের অত্যাধুনিক অস্ত্র। এছাড়া একই সময়ে বিভিন্ন থানা থেকে লুট হয়ে যায় ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুদ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪টি। বাকি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪টি গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বোরের গুলি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩১টি, টিয়ার গ্যাস সেল ১১ হাজার ৩৮১, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ২৯১, সাউন্ড গ্রেনেড ১ হাজার ১৬৮, কালার স্মোক গ্রেনেড ৪১, মাল্টিপল ব্যাংক স্টান গ্রেনেড ২২, ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড ২৮৪ ও হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে (ক্যানিস্টার) ১১৬টি।

এছাড়া ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দেশের কারাগারগুলো থেকে ২ হাজার ২৩২ বন্দি পালিয়ে যান। যার মধ্যে দুর্ধর্ষ অপরাধীও রয়েছেন। কারা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের আগে-পরে দেশের ১৭টি কারাগারের বন্দিরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। নরসিংদী কারাগার থেকে ৮২৬, শেরপুর থেকে ৫০০, সাতক্ষীরা থেকে ৬০০, কুষ্টিয়া কারাগার থেকে ১০৫ ও কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ২০০ বন্দি পালিয়ে যান।

এর বাইরে জামালপুর কারাগারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেখান থেকে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে দেশের কারাগার থেকে সে সময় ২ হাজার ২৩২ বন্দি পালিয়ে যান। পরে তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫১৯ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও এখনো ফেরারি ৭১৩ জন।

 

মানবজমিনের একটি শিরোন “দেশে আবারও শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে ”

দেশে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন করে শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংলাপের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করালেই হবে না। যে শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হচ্ছে, তার মান কেমন হচ্ছে সেটাই এখন বড় বিষয়।

তিনি বলেন, আগে আমরা শিক্ষায় প্রবেশাধিকার নিয়ে লড়াই করেছি। এখন সময় এসেছে শিক্ষার ফলাফল নিয়ে লড়াই করার। শিক্ষা খাতে নানা ধরনের সংকট ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার মান যদি উন্নয়ন করা না যায়, শিক্ষাক্ষেত্রের বিশৃঙ্খলাগুলো যদি ঠিক করা না যায়, পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে যদি সময়মতো ধরে রাখা না যায়, তাহলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। ঝরে পড়ার হার যদি বাড়ে, নারীদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেটি আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সমকালের একটি শিরোনাম “হাম ও উপসর্গে সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি মৃত্যু

সমকালের একটি শিরোনাম “হাম ও উপসর্গে সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি মৃত্যু

১২:১৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

সমকালের একটি শিরোনাম “হাম ও উপসর্গে সরকারি হিসাবের চেয়ে বেশি মৃত্যু”

নিশ্চিত হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা সরকারের কেন্দ্রীয় তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। কেন্দ্র থেকে দেওয়া মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুটি বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্যে সরকারি হিসাবের চেয়ে ৩৫ জন বেশি মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে নিশ্চিত হামে মারা গেছে দুজন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের হাম ইউনিটে এ পর্যন্ত ২৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বাকি ২৬ জন মারা গেছে হাম সন্দেহে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় হিসাবে ২৪ জনের গরমিল পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ২৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান। তিনি আরও বলেন, হামের উপসর্গে বিভাগের সবগুলো মৃত্যুর ঘটনা এই হাসপাতালে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মহাখালীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে ১২ জন হামের উপসর্গ নিয়ে এবং পাঁচজন হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। অথচ বিভাগীয় তথ্য বলছে, বরিশালে ২৫ জন উপসর্গ নিয়ে এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে তিনজন। অর্থাৎ, কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় তথ্যে ১১ জনের হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে।

বরিশাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, ভোলায় ছয়জন, বরগুনায় দুজন ও ঝালকাঠিতে দুজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ ছাড়া, বরগুনায় হাম আক্রান্ত হয়ে তিনজন মারা গেছে বলে বিভাগীয় তথ্যে জানা গেছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মার্চে মোট আটজন, এপ্রিলে ১৪ জন ও মে মাসে বিভাগে ছয়জন মারা গেছে।
সারাদেশের সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের কাজ করে ঢাকায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগ।

 

আজকের পত্রিকার একটি শিরোনাম”স্থানীয় নির্বাচন: সক্ষমতা পরখ করতে চায় জামায়াত ও এনসিপি”

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটবদ্ধ হয়ে লড়েছিল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রাজপথের আন্দোলনেও দল দুটি এখনো একসঙ্গেই আছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা করে নিজেদের সামর্থ্য পরীক্ষা করতে চায় তারা। এ জন্য বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আলাদাভাবে লড়াইয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে সিটি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা যদি হয়ও, ইউপি নির্বাচন তারা এককভাবেই করবে—এখন পর্যন্ত এমন সিদ্ধান্ত ধরেই চলছে দল দুটির প্রস্তুতি।

জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সমঝোতা নিয়ে এখনো ১১ দলে সে রকম আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের দিনক্ষণও এখনো ঠিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে আমরা আপাতত সব জায়গায় নিজেদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ করছি। সমঝোতা হলে তখন কাকে কোথায় ছাড় দেওয়া হবে, তা ঠিক করা হবে। তবে যেহেতু এখনো সমঝোতার আলোচনা হয়নি, আমরা একক নির্বাচনের প্রস্তুতিই নিচ্ছি।’

একই রকম পরিকল্পনার কথা জানালেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সারজিস আলম। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এনসিপি এককভাবে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছে। এ কারণে আমরা এখন এককভাবে প্রতিটি জায়গায় স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা করব। পরে যদি দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের স্বার্থে, কোনো স্থানীয় নির্বাচনে জোট করতে হয়, সেটা তখনকার সিদ্ধান্ত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি।’

আইন অনুযায়ী, এবার দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকছে না। তবে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দল তাদের সমর্থিত প্রার্থীর নাম প্রকাশ শুরু করেছে।

দলীয় সূত্র বলছে, জামায়াত সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা করছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাদিক কায়েমকে নিয়ে আলোচনা চলছে। গাজীপুরে ড. হাফিজুর রহমান এবং চট্টগ্রামে মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে এনসিপি ঢাকার দুই সিটিসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ঢাকা দক্ষিণে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদিব, কুমিল্লায় তারিকুল ইসলাম, সিলেটে আব্দুর রহমান আফজাল ও রাজশাহীতে মোবাশ্বের আলী প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

বণিকবার্তার একটি শিরোনাম “পুলিশের লুট হওয়া সহস্রাধিক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি”

লুট হওয়া মোট অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজার ৩২৮টির এখনো হদিস মেলেনি, সন্ধান মেলেনি গোলাবারুদেরও বড় একটি অংশের। পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাবে, মোট লুট হওয়া অস্ত্রের প্রায় ২৩ শতাংশ এবং গোলাবারুদের প্রায় ৩৯ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এসএমজি, সাবমেশিনগানসহ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। একই সঙ্গে সে সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যেও ৭১৩ জন এখনো ফেরারি, যাদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-টু’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলেও কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দি ও লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, লুট হওয়া অস্ত্রের অবাধ ব্যবহার ও পলাতক বন্দিদের সক্রিয়তা দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে এসব অস্ত্র উদ্ধার ও ফেরারিদের আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে ব্যাপক জনরোষের শিকার হয় থানাসহ পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনা। পুলিশের অস্ত্রাগার থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৩২৮টি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩৩টি এসএমটির মতো সাবমেশিনগান। এছাড়া রয়েছে এসএমজি ২২২টি, চায়না রাইফেল ১ হাজার ২টি, এসএমজি-টি ৩১টিসহ বিভিন্ন মডেলের অত্যাধুনিক অস্ত্র। এছাড়া একই সময়ে বিভিন্ন থানা থেকে লুট হয়ে যায় ৬ লাখ ৫২ হাজার ৮টি গোলাবারুদ। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪টি। বাকি ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৪টি গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বোরের গুলি ২ লাখ ৪৩ হাজার ৮৩১টি, টিয়ার গ্যাস সেল ১১ হাজার ৩৮১, টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ২৯১, সাউন্ড গ্রেনেড ১ হাজার ১৬৮, কালার স্মোক গ্রেনেড ৪১, মাল্টিপল ব্যাংক স্টান গ্রেনেড ২২, ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড ২৮৪ ও হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে (ক্যানিস্টার) ১১৬টি।

এছাড়া ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দেশের কারাগারগুলো থেকে ২ হাজার ২৩২ বন্দি পালিয়ে যান। যার মধ্যে দুর্ধর্ষ অপরাধীও রয়েছেন। কারা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের আগে-পরে দেশের ১৭টি কারাগারের বন্দিরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। নরসিংদী কারাগার থেকে ৮২৬, শেরপুর থেকে ৫০০, সাতক্ষীরা থেকে ৬০০, কুষ্টিয়া কারাগার থেকে ১০৫ ও কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগার থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ২০০ বন্দি পালিয়ে যান।

এর বাইরে জামালপুর কারাগারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেখান থেকে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। সব মিলিয়ে দেশের কারাগার থেকে সে সময় ২ হাজার ২৩২ বন্দি পালিয়ে যান। পরে তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫১৯ জনকে ফেরত আনা সম্ভব হলেও এখনো ফেরারি ৭১৩ জন।

 

মানবজমিনের একটি শিরোন “দেশে আবারও শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে ”

দেশে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন করে শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। সংলাপের আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করালেই হবে না। যে শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হচ্ছে, তার মান কেমন হচ্ছে সেটাই এখন বড় বিষয়।

তিনি বলেন, আগে আমরা শিক্ষায় প্রবেশাধিকার নিয়ে লড়াই করেছি। এখন সময় এসেছে শিক্ষার ফলাফল নিয়ে লড়াই করার। শিক্ষা খাতে নানা ধরনের সংকট ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার মান যদি উন্নয়ন করা না যায়, শিক্ষাক্ষেত্রের বিশৃঙ্খলাগুলো যদি ঠিক করা না যায়, পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে যদি সময়মতো ধরে রাখা না যায়, তাহলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। ঝরে পড়ার হার যদি বাড়ে, নারীদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম যদি বৃদ্ধি পায়, তাহলে সেটি আমাদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।