প্রেসিডেন্ট জন মাহামার একটা দাবি রীতিমতো তোলপাড় তুলেছে ঘানায়৷ যে নিয়োগকর্তারা চাকরির বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক দাবি করেন, তাদের শায়েস্তা করতে কঠোর আইন চান তিনি৷
কিন্তু ঘানার মতো দেশে আইন কঠোর হলেও কি নিয়োগকর্তা এবং চাকরিপ্রার্থীর এই ‘অনৈতিক’ আদান-প্রদান বন্ধ করা সম্ভব?
বিষয়টি প্রথম তোলপাড় তোলে গত ১ মে কোফোরিডুয়ার এক টাউন হলে৷ চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী সোচ্চার হলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামা আরো কিছু সমস্যা তুলে ধরেন৷ বিদ্যমান নিয়ম-কানুন ও নীতিমালাকে ‘শোষণমূলক ও অসহনীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সবচেয়ে খারাপ বিষয়গুলোর একটি হলো, নিয়োগকর্তা বা নিয়োগকারী ব্যক্তি পুরুষ হলে কখনো কখনো তারা চাকরি দেওয়ার আগে রোমান্টিক সম্পর্ক দাবি করেন৷ এটা অগ্রহণযোগ্য৷ এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে৷ আমি মনে করি, এটিকে শাস্তিযোগ্য করতে আমাদের বিল পাস করা উচিত৷”
ঘানায় শ্রম আইন এবং ফৌজদারি বিধিতে যৌন হয়রানি নিষিদ্ধ৷ গার্হস্থ্য সহিংসতাবিরোধী আইনেও ব্যাপক সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে৷ তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ আইনগুলো সাধারণত চাকরি শুরুর পরের হয়রানি বা পারিবারিক আবহে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ৷ এ কারণে যৌনতায় সম্মতির শর্তে চাকরির বিষয়টি আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা৷
ঘানায় কেন ‘যৌনতার বিনিময়ে চাকরি’ ?
ঘানায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি৷ চাকরির বাজার তাই তীব্র প্রতিযোগিতাময়৷ কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বচ্ছ৷ বিশেষ করে তরুণী চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ ‘অনৈতিক’ পন্থা অবলম্বনের অভিযোগও ওঠে৷
পরিস্থিতি এমন বলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামার দাবিকে সমর্থন করছেন অনেকেই৷ ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট জন কুফোরের আইনজীবী ও সাবেক আইনি উপদেষ্টা ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি এমন অবস্থান নেওয়ায় আমি খুব খুশি৷ এটা শোষণমূলক আচরণ; এটা অগ্রহণযোগ্য৷” তিনি আরো বলেন, ‘‘কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেওয়াটা এক ধরনের দুর্নীতি৷ সভ্য সমাজে আমরা তা সহ্য করতে পারি না৷”
সংসদ সদস্য এবং সাবেক উপ-পরিবহণমন্ত্রী নিই কোয়ার্তেই গ্লোভারের মতে, (যৌনতার বিনিময়ে চাকরির) এই প্রথার প্রসারে ‘‘নারীদের ওপর পুরুষদের পিতৃতান্ত্রিক প্রভাব”-এরও ভূমিকা রেখেছে৷
সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগে কি পরিবর্তন সম্ভব?
অনেকেই মনে করেন, ‘যৌনতার বিনিময়ে চাকরি’র বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হলে কর্মক্ষেত্রে অধিকার সংক্রান্ত কাঠামোর উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হবে৷ অধিকারকর্মীদের মতে, এমন আইন মেধা বা দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার অপরাধের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা দেবে৷ এর পাশাপাশি এই অপরাধকে সাধারণ হয়রানি বা ঘুস লেনদেনের মতো অপরাধের চেয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে৷ তাদের আরো প্রত্যাশা, এমন আইন হলে তাতে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হবে৷ এর ফলে যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার মতো অপকর্ম সমাজে কেবল অনভিপ্রেত আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে না, তা তখন ‘ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত দণ্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে৷
তবে ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, ‘‘দিনশেষে আমার মনে হয়, এই আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর প্রকৃত গঠনশৈলী ও প্রয়োগের ওপর৷ কারণ, ঘানায় অনেক চমৎকার আইন থাকলেও সেগুলো প্রয়োগের পর্যায়ে এসেই পুরো প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে৷”
ডিডাব্লিউডটকম
Sarakhon Report 



















