০৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট কান মঞ্চে শাড়ির নতুন রূপ: আলিয়া ভাটের ইন্দো-ওয়েস্টার্ন লুকে ঝড় যখন আকাশ মেঘলা  হরমুজের লড়াই: জ্বালানি পথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক সংঘাত চীনা গাড়ির সামনে আমেরিকার দেয়াল কতদিন টিকবে আল-কায়েদার ছায়া কি আবার বিশ্বকে তাড়া করছে? লেবার পার্টির পুরোনো জোট ভেঙে গেছে, স্টারমার একা এর সমাধান নন স্টারমারের নেতৃত্বে চাপে ব্রিটিশ লেবার পার্টি, ভাঙনের আশঙ্কায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ আফ্রিকার একাধিক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ PM তারেক রহমানের হুঁশিয়ারি: মুখস্থনির্ভর শিক্ষায় স্নাতক হয়ে লক্ষ লক্ষ তরুণ বেকার

ঘানায় কি ‘যৌনতার বিনিময়ে চাকরি’ নিষিদ্ধ হবে?

  • Sarakhon Report
  • ১২:২০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • 16

প্রেসিডেন্ট জন মাহামা বলেন, ‘‘সবচেয়ে খারাপ বিষয়গুলোর একটি হলো, নিয়োগকর্তা বা নিয়োগকারী ব্যক্তি পুরুষ হলে কখনো কখনো তারা চাকরি দেওয়ার আগে রোমান্টিক সম্পর্ক দাবি করেন৷ এটা অগ্রহণযোগ্য৷ এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে৷ আমি মনে করি, এটিকে শাস্তিযোগ্য করতে আমাদের বিল পাস করা উচিত৷

প্রেসিডেন্ট জন মাহামার একটা দাবি রীতিমতো তোলপাড় তুলেছে ঘানায়৷ যে নিয়োগকর্তারা চাকরির বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক দাবি করেন, তাদের শায়েস্তা করতে কঠোর আইন চান তিনি৷

কিন্তু ঘানার মতো দেশে আইন কঠোর হলেও কি নিয়োগকর্তা এবং চাকরিপ্রার্থীর এই ‘অনৈতিক’ আদান-প্রদান বন্ধ করা সম্ভব?

বিষয়টি প্রথম তোলপাড় তোলে গত ১ মে কোফোরিডুয়ার এক টাউন হলে৷ চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী সোচ্চার হলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামা আরো কিছু সমস্যা তুলে ধরেন৷ বিদ্যমান নিয়ম-কানুন ও নীতিমালাকে ‘শোষণমূলক ও অসহনীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সবচেয়ে খারাপ বিষয়গুলোর একটি হলো, নিয়োগকর্তা বা নিয়োগকারী ব্যক্তি পুরুষ হলে কখনো কখনো তারা চাকরি দেওয়ার আগে রোমান্টিক সম্পর্ক দাবি করেন৷ এটা অগ্রহণযোগ্য৷ এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে৷ আমি মনে করি, এটিকে শাস্তিযোগ্য করতে আমাদের বিল পাস করা উচিত৷”

ঘানায় শ্রম আইন এবং ফৌজদারি বিধিতে যৌন হয়রানি নিষিদ্ধ৷ গার্হস্থ্য সহিংসতাবিরোধী আইনেও ব্যাপক সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে৷ তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ আইনগুলো সাধারণত চাকরি শুরুর পরের হয়রানি বা পারিবারিক আবহে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ৷ এ কারণে যৌনতায় সম্মতির শর্তে চাকরির বিষয়টি আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা৷

ঘানায় কেন ‘যৌনতার বিনিময়ে চাকরি’ ?

ঘানায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি৷  চাকরির বাজার তাই তীব্র প্রতিযোগিতাময়৷ কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বচ্ছ৷ বিশেষ করে তরুণী চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ ‘অনৈতিক’ পন্থা অবলম্বনের অভিযোগও ওঠে৷

পরিস্থিতি এমন বলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামার দাবিকে সমর্থন করছেন অনেকেই৷ ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট জন কুফোরের আইনজীবী ও সাবেক আইনি উপদেষ্টা ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি এমন অবস্থান নেওয়ায় আমি খুব খুশি৷ এটা শোষণমূলক আচরণ; এটা অগ্রহণযোগ্য৷” তিনি আরো বলেন, ‘‘কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেওয়াটা এক ধরনের দুর্নীতি৷ সভ্য সমাজে আমরা তা সহ্য করতে পারি না৷”

সংসদ সদস্য এবং সাবেক উপ-পরিবহণমন্ত্রী নিই কোয়ার্তেই গ্লোভারের মতে, (যৌনতার বিনিময়ে চাকরির) এই প্রথার প্রসারে ‘‘নারীদের ওপর পুরুষদের পিতৃতান্ত্রিক প্রভাব”-এরও ভূমিকা রেখেছে৷

সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগে কি পরিবর্তন সম্ভব?

অনেকেই মনে করেন, ‘যৌনতার বিনিময়ে চাকরি’র বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হলে কর্মক্ষেত্রে অধিকার সংক্রান্ত কাঠামোর উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হবে৷ অধিকারকর্মীদের মতে, এমন আইন মেধা বা দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার অপরাধের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা দেবে৷ এর পাশাপাশি এই অপরাধকে সাধারণ হয়রানি বা ঘুস লেনদেনের মতো অপরাধের চেয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে৷ তাদের আরো প্রত্যাশা, এমন আইন হলে তাতে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হবে৷ এর ফলে যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার মতো অপকর্ম সমাজে কেবল অনভিপ্রেত আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে না, তা তখন ‘ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত দণ্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে৷

তবে ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, ‘‘দিনশেষে আমার মনে হয়, এই আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর প্রকৃত গঠনশৈলী ও প্রয়োগের ওপর৷ কারণ, ঘানায় অনেক চমৎকার আইন থাকলেও সেগুলো প্রয়োগের পর্যায়ে এসেই পুরো প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে৷”

ডিডাব্লিউডটকম

 

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ কোটিপতি হওয়ার মানসিক চাপ, নতুন ধনী শ্রেণির অদৃশ্য সংকট

ঘানায় কি ‘যৌনতার বিনিময়ে চাকরি’ নিষিদ্ধ হবে?

১২:২০:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬

প্রেসিডেন্ট জন মাহামার একটা দাবি রীতিমতো তোলপাড় তুলেছে ঘানায়৷ যে নিয়োগকর্তারা চাকরির বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক দাবি করেন, তাদের শায়েস্তা করতে কঠোর আইন চান তিনি৷

কিন্তু ঘানার মতো দেশে আইন কঠোর হলেও কি নিয়োগকর্তা এবং চাকরিপ্রার্থীর এই ‘অনৈতিক’ আদান-প্রদান বন্ধ করা সম্ভব?

বিষয়টি প্রথম তোলপাড় তোলে গত ১ মে কোফোরিডুয়ার এক টাউন হলে৷ চাকরির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী সোচ্চার হলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামা আরো কিছু সমস্যা তুলে ধরেন৷ বিদ্যমান নিয়ম-কানুন ও নীতিমালাকে ‘শোষণমূলক ও অসহনীয়’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সবচেয়ে খারাপ বিষয়গুলোর একটি হলো, নিয়োগকর্তা বা নিয়োগকারী ব্যক্তি পুরুষ হলে কখনো কখনো তারা চাকরি দেওয়ার আগে রোমান্টিক সম্পর্ক দাবি করেন৷ এটা অগ্রহণযোগ্য৷ এটা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে৷ আমি মনে করি, এটিকে শাস্তিযোগ্য করতে আমাদের বিল পাস করা উচিত৷”

ঘানায় শ্রম আইন এবং ফৌজদারি বিধিতে যৌন হয়রানি নিষিদ্ধ৷ গার্হস্থ্য সহিংসতাবিরোধী আইনেও ব্যাপক সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে৷ তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ আইনগুলো সাধারণত চাকরি শুরুর পরের হয়রানি বা পারিবারিক আবহে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ৷ এ কারণে যৌনতায় সম্মতির শর্তে চাকরির বিষয়টি আইনের আওতার বাইরেই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা৷

ঘানায় কেন ‘যৌনতার বিনিময়ে চাকরি’ ?

ঘানায় তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি৷  চাকরির বাজার তাই তীব্র প্রতিযোগিতাময়৷ কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বচ্ছ৷ বিশেষ করে তরুণী চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে অনেক নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ ‘অনৈতিক’ পন্থা অবলম্বনের অভিযোগও ওঠে৷

পরিস্থিতি এমন বলে প্রেসিডেন্ট জন মাহামার দাবিকে সমর্থন করছেন অনেকেই৷ ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট জন কুফোরের আইনজীবী ও সাবেক আইনি উপদেষ্টা ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি এমন অবস্থান নেওয়ায় আমি খুব খুশি৷ এটা শোষণমূলক আচরণ; এটা অগ্রহণযোগ্য৷” তিনি আরো বলেন, ‘‘কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তির যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেওয়াটা এক ধরনের দুর্নীতি৷ সভ্য সমাজে আমরা তা সহ্য করতে পারি না৷”

সংসদ সদস্য এবং সাবেক উপ-পরিবহণমন্ত্রী নিই কোয়ার্তেই গ্লোভারের মতে, (যৌনতার বিনিময়ে চাকরির) এই প্রথার প্রসারে ‘‘নারীদের ওপর পুরুষদের পিতৃতান্ত্রিক প্রভাব”-এরও ভূমিকা রেখেছে৷

সুনির্দিষ্ট আইন প্রয়োগে কি পরিবর্তন সম্ভব?

অনেকেই মনে করেন, ‘যৌনতার বিনিময়ে চাকরি’র বিষয়টিকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে স্বতন্ত্র আইন প্রণয়ন করা হলে কর্মক্ষেত্রে অধিকার সংক্রান্ত কাঠামোর উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ হবে৷ অধিকারকর্মীদের মতে, এমন আইন মেধা বা দক্ষতাকে পাশ কাটিয়ে কেবল যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার অপরাধের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা দেবে৷ এর পাশাপাশি এই অপরাধকে সাধারণ হয়রানি বা ঘুস লেনদেনের মতো অপরাধের চেয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করবে৷ তাদের আরো প্রত্যাশা, এমন আইন হলে তাতে সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি শাস্তির বিধানও যুক্ত করা হবে৷ এর ফলে যৌনতার বিনিময়ে চাকরি দেয়ার মতো অপকর্ম সমাজে কেবল অনভিপ্রেত আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে না, তা তখন ‘ক্ষমতার অপব্যবহারজনিত দণ্ডনীয় অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে৷

তবে ভিক্টোরিয়া ব্রাইট বলেন, ‘‘দিনশেষে আমার মনে হয়, এই আইনের কার্যকারিতা নির্ভর করবে এর প্রকৃত গঠনশৈলী ও প্রয়োগের ওপর৷ কারণ, ঘানায় অনেক চমৎকার আইন থাকলেও সেগুলো প্রয়োগের পর্যায়ে এসেই পুরো প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে৷”

ডিডাব্লিউডটকম