শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানাচ্ছেন গবেষক ও চিকিৎসাবিদরা। দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যানসারের জন্য তৈরি চিকিৎসা পদ্ধতি শিশুদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হলেও, এখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন—দুই ধরনের ক্যানসারের প্রকৃতি এক নয়। ফলে একই ধরনের আক্রমণাত্মক চিকিৎসা শিশুদের জন্য অনেক সময় মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকাংশ ক্যানসার তৈরি হয় দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএতে জমে থাকা ক্ষতিকর পরিবর্তনের কারণে। কিন্তু শিশুদের ক্যানসারের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে জিনের বড় ধরনের ক্ষতির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে শরীরের ‘এপিজেনেটিক’ পরিবর্তন, যা কোষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
এপিজেনেটিক পরিবর্তনের গুরুত্ব

গবেষকরা বলছেন, শিশুদের অনেক ক্যানসারে জিনের ভেতরে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা যায় না। বরং সমস্যা তৈরি হয় এমন কিছু জৈবিক সংকেতের কারণে, যা ভ্রূণ অবস্থার বৃদ্ধি-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে অস্বাভাবিকভাবে চালু রেখেই দেয়। ফলে কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে এবং ক্যানসার তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতিকে অনেকে তুলনা করছেন সফটওয়্যারের ত্রুটির সঙ্গে। অর্থাৎ, এটি হার্ডওয়্যার ভাঙার সমস্যা নয়, বরং ভুল নির্দেশনার কারণে সিস্টেম ঠিকভাবে কাজ করছে না। কিন্তু বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতি মূলত ক্যানসার কোষ ধ্বংস করার দিকে মনোযোগ দেয়, যা শিশুদের শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসা পদ্ধতি বদলের দাবি
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, শিশুদের ক্যানসারকে শুধু শক্তি প্রয়োগ করে দমন করার চেষ্টা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও মিলতে পারে। বরং প্রয়োজন এমন চিকিৎসা, যা কোষের ভুল সংকেতকে ঠিক করতে পারবে এবং শরীরকে স্বাভাবিক বৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনবে।

এই কারণে এখন এপিজেনেটিক চিকিৎসা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গবেষকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন ওষুধ তৈরি করা সম্ভব হবে যা ক্যানসার কোষ ধ্বংস না করেও তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
বেঁচে গেলেও থেকে যাচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি
বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতিতে অনেক শিশু ক্যানসার থেকে সুস্থ হয়ে উঠলেও, পরে তাদের নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভুগতে হয়। বিষাক্ত কেমোথেরাপি ও তীব্র রেডিয়েশন অনেক ক্ষেত্রে শরীরের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের জন্য আলাদা ধরনের ক্যানসার চিকিৎসা কৌশল তৈরি না করলে এই সংকট আরও বাড়বে। তাই এখনই গবেষণা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা পেতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















