০৩:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
মালদ্বীপে গুহায় ডাইভিংয়ে পাঁচ ইতালীয়র মৃত্যু Google Android-কে “ইন্টেলিজেন্স সিস্টেমে” পরিণত করছে — Gemini এখন সব কাজ করবে BLACKPINK-এর Jennie: নিজের এজেন্সি থেকে আয় ১৭০ কোটি টাকারও বেশি BTS-এর ‘Arirang World Tour’ কাল স্ট্যানফোর্ড থেকে শুরু — সাত বছর পর পূর্ণ দলে ফেরা aespa-র নতুন MV “WDA” মুক্তি পেল G-Dragon-কে নিয়ে — ভক্তদের মধ্যে বিস্ফোরণ OpenAI Apple-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পথে — iPhone-এ ChatGPT ইন্টিগ্রেশন নিয়ে তিক্ততা তাইওয়ান নিয়ে শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা: ভুল পদক্ষেপ মানেই যুদ্ধ ইরানকে চাপ দিতে পারমাণবিক সাবমেরিন USS Alaska জিব্রাল্টারে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র সুনামগঞ্জের হাওরে খড় সংকট, গবাদিপশু বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা ইবোলার নতুন আতঙ্ক: কঙ্গোতে ফের প্রাদুর্ভাব, ইতিহাসের ভয়াবহ সংক্রমণগুলো আবার আলোচনায়

ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, চাপের মুখে স্টারমার সরকার

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ভোটে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর দলীয় ভেতরেই তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র দুই বছরের মধ্যেই স্টারমার সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

নির্বাচনের ধাক্কায় এখন লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্টারমারের নেতৃত্বে দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

অর্থনীতি ও জনঅসন্তোষের চাপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

ব্রিটেনের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই নানা চাপে রয়েছে। বাস্তব মজুরি প্রায় দুই দশক ধরে স্থবির। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর অর্থনীতিতে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি কমে যাওয়া, উচ্চ কর, বাড়তি ঋণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি। পরিকল্পনা সংস্কার, কল্যাণনীতি পরিবর্তন কিংবা ইউরোপের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরির মতো বড় উদ্যোগে স্টারমার সরকার বারবার দ্বিধায় পড়েছে।

দলীয় বিদ্রোহে অস্থিরতা

লেবার পার্টি পার্লামেন্টে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেটিই এখন উল্টো চাপ তৈরি করছে। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় অনেক সংসদ সদস্য নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে দলীয় বিদ্রোহের আশঙ্কাও বেড়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্টারমারের বড় সমস্যা হলো তিনি জনগণের সামনে স্পষ্ট কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেননি। তার অনেক সংস্কার পরিকল্পনা ভোটারদের উদ্বিগ্ন করলেও অর্থনীতিতে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

Governments' anti-immigration rhetoric fuelled the rise of the far right |  The far right | The Guardian

ডানপন্থার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ

ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সময়ে চরম ডানপন্থী বক্তব্য ও বিভাজনমূলক রাজনীতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। অভিবাসন ও ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। লন্ডনে উগ্র ডানপন্থী কর্মসূচিকে ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূলধারার রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়লে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সেই সুযোগ নেবে। এতে ব্রিটেনের বহুদিনের বহুসাংস্কৃতিক ও সহনশীল সমাজব্যবস্থা আরও চাপে পড়তে পারে।

নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা

এখন লেবার পার্টির সামনে বড় প্রশ্ন হলো তারা কি নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে যাবে, নাকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপরই আস্থা রাখবে। অনেকের মতে, নতুন নেতৃত্ব এলে দল নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারে। আবার ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক মহলে একটি বিষয় নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছে—ব্রিটেনের মানুষ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Starmer Faces Backlash Over Mandelson Vetting: Calls for Resignation  Intensify | World News - The Times of India

জনপ্রিয় সংবাদ

মালদ্বীপে গুহায় ডাইভিংয়ে পাঁচ ইতালীয়র মৃত্যু

ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, চাপের মুখে স্টারমার সরকার

০২:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ভোটে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর দলীয় ভেতরেই তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র দুই বছরের মধ্যেই স্টারমার সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

নির্বাচনের ধাক্কায় এখন লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্টারমারের নেতৃত্বে দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

অর্থনীতি ও জনঅসন্তোষের চাপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

ব্রিটেনের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই নানা চাপে রয়েছে। বাস্তব মজুরি প্রায় দুই দশক ধরে স্থবির। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর অর্থনীতিতে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি কমে যাওয়া, উচ্চ কর, বাড়তি ঋণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি। পরিকল্পনা সংস্কার, কল্যাণনীতি পরিবর্তন কিংবা ইউরোপের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরির মতো বড় উদ্যোগে স্টারমার সরকার বারবার দ্বিধায় পড়েছে।

দলীয় বিদ্রোহে অস্থিরতা

লেবার পার্টি পার্লামেন্টে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেটিই এখন উল্টো চাপ তৈরি করছে। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় অনেক সংসদ সদস্য নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে দলীয় বিদ্রোহের আশঙ্কাও বেড়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্টারমারের বড় সমস্যা হলো তিনি জনগণের সামনে স্পষ্ট কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেননি। তার অনেক সংস্কার পরিকল্পনা ভোটারদের উদ্বিগ্ন করলেও অর্থনীতিতে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

Governments' anti-immigration rhetoric fuelled the rise of the far right |  The far right | The Guardian

ডানপন্থার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ

ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সময়ে চরম ডানপন্থী বক্তব্য ও বিভাজনমূলক রাজনীতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। অভিবাসন ও ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। লন্ডনে উগ্র ডানপন্থী কর্মসূচিকে ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূলধারার রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়লে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সেই সুযোগ নেবে। এতে ব্রিটেনের বহুদিনের বহুসাংস্কৃতিক ও সহনশীল সমাজব্যবস্থা আরও চাপে পড়তে পারে।

নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা

এখন লেবার পার্টির সামনে বড় প্রশ্ন হলো তারা কি নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে যাবে, নাকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপরই আস্থা রাখবে। অনেকের মতে, নতুন নেতৃত্ব এলে দল নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারে। আবার ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক মহলে একটি বিষয় নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছে—ব্রিটেনের মানুষ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Starmer Faces Backlash Over Mandelson Vetting: Calls for Resignation  Intensify | World News - The Times of India