০৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ জাপানি কোম্পানির বিরল খনিজ আমদানি ব্যয় ২২% বেড়েছে, চীনের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে চাপ এআই একচেটিয়া হতে পারে না, বিশ্বজুড়ে সহযোগিতার আহ্বান শি জিনপিংয়ের এফবিআইর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার গ্যাং সদস্য নিতিশ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি প্রায় ১৯% কমেছে, দামে ও পরিমাণে একসঙ্গে ধাক্কা বিশ্বকাপের শেষ বাঁশির পর: ফুটবল যে আয়নায় আমেরিকা ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ দেখা গেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষত ও অনশনের আর্তনাদ: আমরা কবে শুনব ক্ষুধার ভাষা? শুধু শ্রদ্ধা নয়, শহীদ সেনাদের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়িত্ব এখনই পালন করতে হবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ পুনঃতফসিলে বিশেষ সুবিধা বাড়াল বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফের সতর্কবার্তা: প্রবৃদ্ধি ৩.৫%, মধ্যমেয়াদে ৩ শতাংশের নিচে নামার শঙ্কা

ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, চাপের মুখে স্টারমার সরকার

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ভোটে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর দলীয় ভেতরেই তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র দুই বছরের মধ্যেই স্টারমার সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

নির্বাচনের ধাক্কায় এখন লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্টারমারের নেতৃত্বে দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

অর্থনীতি ও জনঅসন্তোষের চাপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

ব্রিটেনের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই নানা চাপে রয়েছে। বাস্তব মজুরি প্রায় দুই দশক ধরে স্থবির। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর অর্থনীতিতে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি কমে যাওয়া, উচ্চ কর, বাড়তি ঋণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি। পরিকল্পনা সংস্কার, কল্যাণনীতি পরিবর্তন কিংবা ইউরোপের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরির মতো বড় উদ্যোগে স্টারমার সরকার বারবার দ্বিধায় পড়েছে।

দলীয় বিদ্রোহে অস্থিরতা

লেবার পার্টি পার্লামেন্টে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেটিই এখন উল্টো চাপ তৈরি করছে। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় অনেক সংসদ সদস্য নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে দলীয় বিদ্রোহের আশঙ্কাও বেড়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্টারমারের বড় সমস্যা হলো তিনি জনগণের সামনে স্পষ্ট কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেননি। তার অনেক সংস্কার পরিকল্পনা ভোটারদের উদ্বিগ্ন করলেও অর্থনীতিতে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

Governments' anti-immigration rhetoric fuelled the rise of the far right |  The far right | The Guardian

ডানপন্থার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ

ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সময়ে চরম ডানপন্থী বক্তব্য ও বিভাজনমূলক রাজনীতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। অভিবাসন ও ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। লন্ডনে উগ্র ডানপন্থী কর্মসূচিকে ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূলধারার রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়লে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সেই সুযোগ নেবে। এতে ব্রিটেনের বহুদিনের বহুসাংস্কৃতিক ও সহনশীল সমাজব্যবস্থা আরও চাপে পড়তে পারে।

নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা

এখন লেবার পার্টির সামনে বড় প্রশ্ন হলো তারা কি নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে যাবে, নাকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপরই আস্থা রাখবে। অনেকের মতে, নতুন নেতৃত্ব এলে দল নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারে। আবার ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক মহলে একটি বিষয় নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছে—ব্রিটেনের মানুষ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Starmer Faces Backlash Over Mandelson Vetting: Calls for Resignation  Intensify | World News - The Times of India

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষ: প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয়, নিয়ন্ত্রণহীন ক্ষমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ

ব্রিটেনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, চাপের মুখে স্টারমার সরকার

০২:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ভোটে লেবার পার্টির হতাশাজনক ফলাফলের পর দলীয় ভেতরেই তার নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র দুই বছরের মধ্যেই স্টারমার সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

নির্বাচনের ধাক্কায় এখন লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা তীব্র হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, স্টারমারের নেতৃত্বে দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

অর্থনীতি ও জনঅসন্তোষের চাপ

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

ব্রিটেনের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরেই নানা চাপে রয়েছে। বাস্তব মজুরি প্রায় দুই দশক ধরে স্থবির। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পর অর্থনীতিতে ধীরগতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি কমে যাওয়া, উচ্চ কর, বাড়তি ঋণ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারেনি। পরিকল্পনা সংস্কার, কল্যাণনীতি পরিবর্তন কিংবা ইউরোপের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরির মতো বড় উদ্যোগে স্টারমার সরকার বারবার দ্বিধায় পড়েছে।

দলীয় বিদ্রোহে অস্থিরতা

লেবার পার্টি পার্লামেন্টে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলেও সেটিই এখন উল্টো চাপ তৈরি করছে। জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় অনেক সংসদ সদস্য নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। ফলে দলীয় বিদ্রোহের আশঙ্কাও বেড়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্টারমারের বড় সমস্যা হলো তিনি জনগণের সামনে স্পষ্ট কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেননি। তার অনেক সংস্কার পরিকল্পনা ভোটারদের উদ্বিগ্ন করলেও অর্থনীতিতে বড় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারেনি।

Governments' anti-immigration rhetoric fuelled the rise of the far right |  The far right | The Guardian

ডানপন্থার উত্থান নিয়ে উদ্বেগ

ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সময়ে চরম ডানপন্থী বক্তব্য ও বিভাজনমূলক রাজনীতি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। অভিবাসন ও ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছে। লন্ডনে উগ্র ডানপন্থী কর্মসূচিকে ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মূলধারার রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়লে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সেই সুযোগ নেবে। এতে ব্রিটেনের বহুদিনের বহুসাংস্কৃতিক ও সহনশীল সমাজব্যবস্থা আরও চাপে পড়তে পারে।

নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা

এখন লেবার পার্টির সামনে বড় প্রশ্ন হলো তারা কি নেতৃত্ব পরিবর্তনের পথে যাবে, নাকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ওপরই আস্থা রাখবে। অনেকের মতে, নতুন নেতৃত্ব এলে দল নতুন দিকনির্দেশনা পেতে পারে। আবার ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক মহলে একটি বিষয় নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছে—ব্রিটেনের মানুষ পরিবর্তন চায়। সেই পরিবর্তনের নেতৃত্ব কে দেবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Starmer Faces Backlash Over Mandelson Vetting: Calls for Resignation  Intensify | World News - The Times of India