ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এখন শুধু ফিলিস্তিনিদের জীবনকেই বিপর্যস্ত করছে না, বরং তা ইসরায়েলের নিরাপত্তা, নৈতিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও গভীর সংকটে ফেলছে। সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে সহিংসতা যেভাবে বেড়েছে, তাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে এই পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
এক তরুণের বদলে যাওয়া জীবন
পশ্চিম তীর সফরে গিয়ে একজন ইসরায়েলি সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা এক তরুণ ফিলিস্তিনির গল্প তুলে ধরেছেন, যার নাম এখানে ‘আলি’ ধরা হয়েছে। বয়স ত্রিশের কাছাকাছি এই তরুণ কখনও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি কোনো আন্দোলনে অংশ নেননি, অস্ত্র ধরেননি কিংবা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল পরিবার চালানো ও জীবিকা নির্বাহ করা।

কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে তার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। পরিবারের জমির খুব কাছেই এক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নতুন ঘাঁটি গড়ে তোলে। এরপর থেকেই শুরু হয় প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি, জমিতে হস্তক্ষেপ, পশু চুরি, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগে বাধা এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতিতেই এসব ঘটনা ঘটছে। ফলে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো। কেউ মুখ খুললেই গ্রেপ্তার বা নির্যাতনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
বাড়ছে সহিংসতা ও আতঙ্ক
ইসরায়েলের সাবেক সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের একটি দল সম্প্রতি পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। তাদের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি আগের ধারণার চেয়েও ভয়াবহ। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এখন পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক রূপ নিয়েছে।
তাদের মতে, এই সহিংসতা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা হুমকির কারণ হতে পারে। কারণ দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও অপমান অনেক সাধারণ মানুষকে চরম পথে ঠেলে দিতে পারে।
![]()
২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে পশ্চিম তীরে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতির পর সহিংসতা আরও বেড়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের দাবি।
নতুন সংঘাতের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে পশ্চিম তীরে প্রতিশোধ ও সহিংসতার নতুন চক্র শুরু হতে পারে। অনেক তরুণ, যারা আগে কখনও সহিংসতার পথে হাঁটেননি, তারাও অস্ত্র হাতে তুলে নিতে পারেন। এতে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।
ইসরায়েলের ভেতরেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, বসতি সম্প্রসারণ এবং সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এর মূল্য আরও বেশি দিতে হতে পারে। কারণ এই পরিস্থিতি শুধু ফিলিস্তিনিদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং ইসরায়েলি সমাজের ভেতরেও বিভাজন ও অস্থিরতা তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















