যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে দলীয় অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, আর সেই প্রেক্ষাপটে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নিজেকে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন।
গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্ট্রিটিং প্রকাশ্যে স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো নতুন রূপের মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের আগে ও পরে লেবার পার্টির ভেতরে বিভক্তির নানা ইঙ্গিত সামনে আসে।
মেকারফিল্ড উপনির্বাচন ঘিরে উত্তাপ
রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে মেকারফিল্ড উপনির্বাচন। সাবেক এমপি জশ সাইমনস পদত্যাগ করায় আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তবে এই নির্বাচনকে লেবারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলেই মনে করছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা।
কর্ম ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় উপনির্বাচন সব সময়ই ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ ভোটারদের রায় অনিশ্চিত হতে পারে। আসনটিতে লেবারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা তুলনামূলক কম হওয়ায় নির্বাচনের ফল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক জাতীয় জনমত জরিপের হিসাব অনুযায়ী মেকারফিল্ডে লেবারের জয় নিশ্চিত নয়। এমনকি রিফর্ম ইউকের উত্থানও লেবারের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। যদিও বার্নহ্যামের জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি দলটির জন্য বড় সহায়তা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়তায় এগিয়ে বার্নহ্যাম
লেবার সদস্যদের ওপর পরিচালিত ইউগভ জরিপে দেখা গেছে, সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় স্টারমারের তুলনায় বার্নহ্যাম অনেক এগিয়ে আছেন। জরিপে ৫৯ শতাংশ সদস্য বার্নহ্যামের পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে স্টারমারের সমর্থন ৩৭ শতাংশ। একইভাবে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের বিপক্ষেও বার্নহ্যাম বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, লেবার সদস্যদের বড় অংশ দলকে আরও বামঘেঁষা অবস্থানে দেখতে চান। করনীতি, ঋণ এবং সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বর্তমান নীতিতে পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে।

বার্নহ্যামের কৌশল বদল
ক্ষমতার লড়াইয়ে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করতে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অবস্থান পরিবর্তন করেছেন বার্নহ্যাম। আগে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফের যোগদানের পক্ষে কথা বললেও এখন তিনি বলছেন, ২০১৬ সালের গণভোটের সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি সরকারের বর্তমান আর্থিক নীতির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছেন।
নিজের প্রচারণা ভিডিওতেও বার্নহ্যাম সাধারণ মানুষের সংকট ও শিল্পাঞ্চলের পতনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, মার্গারেট থ্যাচারের সময়কার নীতির প্রভাব এখনও উত্তর ইংল্যান্ডের বহু এলাকায় রয়ে গেছে।
স্টারমারের অবস্থান
সব চাপের মধ্যেও কিয়ার স্টারমার পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, তিনি পদ ছাড়ার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করবেন না। তিনি বলেছেন, দেশের দায়িত্ব পালন করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য এবং তিনি পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনেও লড়তে চান।
তবে দলীয় ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা থামছে না। ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ, বার্নহ্যামের সক্রিয়তা এবং জরিপে নেতিবাচক ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে লেবার পার্টির রাজনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তার সময় শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















