০৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ? বিষাক্ত উলফসবেইন ও লার্কস্পার ফুলেই নতুন ওষুধের সম্ভাবনা, ব্যথা-ক্যানসার-ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় আশার আলো আগস্টে আকাশজুড়ে মহাজাগতিক বিস্ময়: দুই গ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি ও বিরল গ্রহ-চাঁদের যুগল দৃশ্য মিশরে ভোররাতে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল কায়রোসহ বিস্তীর্ণ এলাকা যুদ্ধ জেতার চেয়েও কঠিন: ইরান সংঘাতের শেষ কোথায়? ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর ভাঙন: এক দশকে ঘরহারা ৫০০ পরিবার, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় ৪৮.৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি: চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে হামের চিকিৎসা ব্যয়ে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, গড় খরচ ১৬ হাজার টাকা: বিডিআরসিএস-আইএফআরসি

চাক শুমারের নেতৃত্বে চাপ, ডেমোক্র্যাট দলে বাড়ছে বিদ্রোহের সুর

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে নতুন করে দেখা দিয়েছে নেতৃত্ব সংকট। সিনেট ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশল এখন বড় পরীক্ষার মুখে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচনে দলের তৃণমূল সমর্থকরা ক্রমেই কেন্দ্রপন্থী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে শুধু শুমারের কর্তৃত্বই নয়, ডেমোক্র্যাট দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

মেইন থেকে শুরু হওয়া এই চাপ এখন আইওয়া, মিশিগান ও মিনেসোটাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় নেতৃত্ব যেসব প্রার্থীকে “নির্বাচনে জেতার মতো নিরাপদ মুখ” হিসেবে তুলে ধরছে, তাদের অনেকেই প্রগতিশীল প্রার্থীদের কাছে জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে পড়ছেন। তরুণ ভোটার, মধ্যবিত্ত পরিবার ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখন এমন প্রার্থী চাইছে যারা সরাসরি বৈষম্য, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেবে।

মেইনে বড় ধাক্কা

মেইনে গভর্নর জ্যানেট মিলসকে শুমারের ঘনিষ্ঠ ও সবচেয়ে “নির্বাচনযোগ্য” প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু প্রচারণার মাঝপথেই তিনি প্রার্থিতা স্থগিত করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রাহাম প্ল্যাটনার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ধনী গোষ্ঠীর প্রভাব, ভাঙা রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কষ্ট নিয়ে সরব হওয়ায় তিনি তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।

যদিও প্ল্যাটনারকে ঘিরে বিতর্কও ছিল, তারপরও ডেমোক্র্যাট ভোটারদের বড় অংশ সেসবকে গুরুত্ব না দিয়ে তার বক্তব্য ও অবস্থানকে সমর্থন করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভোটাররা এখন পুরোনো ধাঁচের নিরাপদ রাজনীতির চেয়ে শক্ত অবস্থান ও স্পষ্ট বার্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আইওয়া ও মিশিগানে একই চিত্র

আইওয়ায়ও শুমার সমর্থিত প্রার্থী জশ টুরেক কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাক ওয়ালস সরাসরি ওয়াশিংটনের নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন এবং নিজেকে স্বাধীন কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরছেন। এতে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

মিশিগানেও একই অবস্থা। প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে দলীয় নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে ধরা হলেও তিনি সমানতালে লড়ছেন অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে। তাদের প্রচারণায় মূল বার্তা হচ্ছে—ওয়াশিংটনের পুরোনো নেতৃত্ব থেকে দূরে থাকা এবং জনগণের বাস্তব সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে নতুন বিভাজন

মিনেসোটায়ও সিনেট আসনের লড়াই এখন দলীয় আদর্শিক দ্বন্দ্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। একদিকে রয়েছেন কেন্দ্রপন্থী অভিজ্ঞ নেতারা, অন্যদিকে তৃণমূলভিত্তিক নতুন প্রজন্মের প্রার্থী যারা করপোরেট প্রভাব ও আপসের রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছে, দলটি দীর্ঘদিন ধরে শুধু নির্বাচনে জেতার হিসাব করছে, কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার সংকট নিয়ে যথেষ্ট কার্যকর অবস্থান নিচ্ছে না। ফলে দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্বের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

শুমারের সামনে বড় প্রশ্ন

চাক শুমারের সমর্থকেরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচনে জয়। তাদের মতে, রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে হলে অভিজ্ঞ ও মধ্যপন্থী প্রার্থীরাই বেশি কার্যকর হতে পারেন। তবে সমালোচকদের যুক্তি, শুধুমাত্র “জেতার মতো প্রার্থী” খোঁজার রাজনীতি এখন আর আগের মতো কাজ করছে না।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ঠিক কী ধরনের নেতৃত্ব চান। যদি প্রগতিশীল প্রার্থীরা জয়ী হন, তাহলে দল আরও বামঘেঁষা নীতির দিকে যেতে পারে। আর যদি শুমারের পছন্দের প্রার্থীরা জয় পান, তাহলে হয়তো সিনেটে আসন বাড়বে, কিন্তু তৃণমূল ভোটারদের উচ্ছ্বাস কমে যেতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তাই আলোচনা একটাই—ডেমোক্র্যাট দলে কি নতুন নেতৃত্বের যুগ শুরু হতে যাচ্ছে?

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ?

চাক শুমারের নেতৃত্বে চাপ, ডেমোক্র্যাট দলে বাড়ছে বিদ্রোহের সুর

০৭:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট রাজনীতিতে নতুন করে দেখা দিয়েছে নেতৃত্ব সংকট। সিনেট ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশল এখন বড় পরীক্ষার মুখে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচনে দলের তৃণমূল সমর্থকরা ক্রমেই কেন্দ্রপন্থী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে শুধু শুমারের কর্তৃত্বই নয়, ডেমোক্র্যাট দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

মেইন থেকে শুরু হওয়া এই চাপ এখন আইওয়া, মিশিগান ও মিনেসোটাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় নেতৃত্ব যেসব প্রার্থীকে “নির্বাচনে জেতার মতো নিরাপদ মুখ” হিসেবে তুলে ধরছে, তাদের অনেকেই প্রগতিশীল প্রার্থীদের কাছে জনপ্রিয়তায় পিছিয়ে পড়ছেন। তরুণ ভোটার, মধ্যবিত্ত পরিবার ও অর্থনৈতিক চাপে থাকা জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখন এমন প্রার্থী চাইছে যারা সরাসরি বৈষম্য, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়িভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেবে।

মেইনে বড় ধাক্কা

মেইনে গভর্নর জ্যানেট মিলসকে শুমারের ঘনিষ্ঠ ও সবচেয়ে “নির্বাচনযোগ্য” প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু প্রচারণার মাঝপথেই তিনি প্রার্থিতা স্থগিত করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রাহাম প্ল্যাটনার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। ধনী গোষ্ঠীর প্রভাব, ভাঙা রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক কষ্ট নিয়ে সরব হওয়ায় তিনি তরুণ ও প্রগতিশীল ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।

যদিও প্ল্যাটনারকে ঘিরে বিতর্কও ছিল, তারপরও ডেমোক্র্যাট ভোটারদের বড় অংশ সেসবকে গুরুত্ব না দিয়ে তার বক্তব্য ও অবস্থানকে সমর্থন করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভোটাররা এখন পুরোনো ধাঁচের নিরাপদ রাজনীতির চেয়ে শক্ত অবস্থান ও স্পষ্ট বার্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

আইওয়া ও মিশিগানে একই চিত্র

আইওয়ায়ও শুমার সমর্থিত প্রার্থী জশ টুরেক কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জ্যাক ওয়ালস সরাসরি ওয়াশিংটনের নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন এবং নিজেকে স্বাধীন কণ্ঠ হিসেবে তুলে ধরছেন। এতে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

মিশিগানেও একই অবস্থা। প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে দলীয় নেতৃত্বের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে ধরা হলেও তিনি সমানতালে লড়ছেন অন্য দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে। তাদের প্রচারণায় মূল বার্তা হচ্ছে—ওয়াশিংটনের পুরোনো নেতৃত্ব থেকে দূরে থাকা এবং জনগণের বাস্তব সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

ডেমোক্র্যাটদের ভেতরে নতুন বিভাজন

মিনেসোটায়ও সিনেট আসনের লড়াই এখন দলীয় আদর্শিক দ্বন্দ্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে। একদিকে রয়েছেন কেন্দ্রপন্থী অভিজ্ঞ নেতারা, অন্যদিকে তৃণমূলভিত্তিক নতুন প্রজন্মের প্রার্থী যারা করপোরেট প্রভাব ও আপসের রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছে, দলটি দীর্ঘদিন ধরে শুধু নির্বাচনে জেতার হিসাব করছে, কিন্তু মানুষের জীবনযাত্রার সংকট নিয়ে যথেষ্ট কার্যকর অবস্থান নিচ্ছে না। ফলে দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্বের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

শুমারের সামনে বড় প্রশ্ন

চাক শুমারের সমর্থকেরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বাচনে জয়। তাদের মতে, রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে হলে অভিজ্ঞ ও মধ্যপন্থী প্রার্থীরাই বেশি কার্যকর হতে পারেন। তবে সমালোচকদের যুক্তি, শুধুমাত্র “জেতার মতো প্রার্থী” খোঁজার রাজনীতি এখন আর আগের মতো কাজ করছে না।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা ঠিক কী ধরনের নেতৃত্ব চান। যদি প্রগতিশীল প্রার্থীরা জয়ী হন, তাহলে দল আরও বামঘেঁষা নীতির দিকে যেতে পারে। আর যদি শুমারের পছন্দের প্রার্থীরা জয় পান, তাহলে হয়তো সিনেটে আসন বাড়বে, কিন্তু তৃণমূল ভোটারদের উচ্ছ্বাস কমে যেতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন তাই আলোচনা একটাই—ডেমোক্র্যাট দলে কি নতুন নেতৃত্বের যুগ শুরু হতে যাচ্ছে?