যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভোট গ্রহণের নিয়ম নিয়ে। আদালত, কংগ্রেস এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের ধারাবাহিক আইনি পদক্ষেপ এখন দেশটির নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে ডাকযোগে ভোট, ভোটার পরিচয়পত্র এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে যে পরিবর্তনের আলোচনা চলছে, তাতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়ছে।
টেক্সাসে ভোটের দিন বিশৃঙ্খলা
সম্প্রতি টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির সময় ভোটকেন্দ্র ও ভোটের সময় নিয়ে বিভ্রান্তি বড় আকার নেয়। শেষ মুহূর্তে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের কারণে বহু ভোটার ভুল কেন্দ্রে চলে যান। পরে আদালত ভোটের সময় বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। এতে ভোটারদের একাংশ ভোট দিতে না পারার অভিযোগ তোলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে আরও বড় আকারে দেখা দিতে পারে, যদি নতুন নিয়মগুলো দ্রুত কার্যকর করা হয়।
ডাকযোগে ভোট নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বহু অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিন ডাকমোহর থাকা ব্যালট পরে পৌঁছালেও তা গণনা করা হয়। তবে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি চাইছে, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত হাতে না পৌঁছানো কোনো ব্যালট গ্রহণ না করা হোক। বিষয়টি এখন দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আদালতের রায় রিপাবলিকানদের পক্ষে গেলে লাখো ভোটারের ভোটাধিকার প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বাড়বে। ভোটারদের দ্রুত নতুন নিয়ম জানানো এবং বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

রিপাবলিকানদের ‘নির্বাচনী নিরাপত্তা’ পরিকল্পনা
রিপাবলিকান নেতারা বলছেন, তারা নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এসব উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাদের দাবি, ভোটার পরিচয় যাচাই, ডাকযোগে ভোটের নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
এই লক্ষ্য নিয়ে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি ইতোমধ্যে শতাধিক মামলা পরিচালনা করেছে। তাদের মূল ফোকাস চারটি বিষয়ে—অ-নাগরিকদের ভোট ঠেকানো, ডাকযোগে ভোটের নিয়ম কঠোর করা, ভোটার পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা এবং ভোটার তালিকা যাচাই।
ডেমোক্র্যাটদের পাল্টা অভিযোগ
ডেমোক্র্যাটরা অবশ্য পুরো বিষয়টিকে ভোটার দমন কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, নতুন নিয়মের কারণে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, বিদেশে অবস্থানরত সামরিক সদস্য এবং সাধারণ ডাকযোগে ভোটাররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
তাদের মতে, এসব আইনি লড়াই মূলত ভোটার সংখ্যা কমিয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা।
কংগ্রেসে নতুন আইন নিয়ে টানাপোড়েন
এদিকে কংগ্রেসেও ভোটার নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে নতুন আইন আনার চেষ্টা চলছে। প্রস্তাবিত আইনে ভোটারদের পাসপোর্ট, জন্মসনদ বা নাগরিকত্বের কাগজ সরাসরি দেখিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। অনলাইনে বা ডাকযোগে ভোটার নিবন্ধনও কঠিন হয়ে পড়বে।
সমর্থকদের দাবি, এতে ভুয়া ভোট রোধ হবে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে বৈধ ভোটারদের বড় অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগে সমস্যায় পড়বেন।
অঙ্গরাজ্য বনাম ফেডারেল সরকার
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা মূলত অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে। ফলে অনেক অঙ্গরাজ্য ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের শাসিত বহু অঙ্গরাজ্যই কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতে গেছে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোট নিয়ে রাজনৈতিক অবিশ্বাস এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যেকোনো ছোট পরিবর্তনও বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থারও বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ভোট আইন নিয়ে নতুন বিতর্ক বাড়ছে। ডাকযোগে ভোট, পরিচয় যাচাই ও আদালতের রায় নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















