বিস্ফোরক পদার্থের সংকটে দিনাজপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনিতে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের একমাত্র বাণিজ্যিক পাথরখনিটিতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। খনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত প্রধান বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
খনি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা বিস্ফোরকের নতুন চালান আসার প্রক্রিয়া চলছে। তবে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আমদানিতে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সময়মতো সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও সেবা) সৈয়দ রফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন চালান পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। এরপর আবারও উৎপাদন কার্যক্রম চালু হবে।
রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলমান
পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও খনির অভ্যন্তরে বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সাময়িক বন্ধে দেশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোতে পাথরের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে না। বর্তমানে খনির ভেতরে প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন পাথর মজুত রয়েছে।
প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করা হয় মধ্যপাড়া খনি থেকে। প্রায় সাড়ে ৭০০ শ্রমিক তিন শিফটে সেখানে কাজ করছেন। ফলে উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকদের কাজের গতি কিছুটা ব্যাহত হলেও খনি সচল রাখতে বিকল্প কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
লোকসান কাটিয়ে লাভের পথে খনি
২০০৭ সালের ২৫ মে বাণিজ্যিকভাবে যাত্রা শুরু করে মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড। শুরুতে দৈনিক ১ হাজার ৫শ’ থেকে ১ হাজার ৮শ’ টন পাথর উত্তোলন হলেও পরে উৎপাদন কমে মাত্র ৫শ’ টনে নেমে আসে। দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন কম থাকায় ২০১৩ সালের জুন পর্যন্ত শতকোটি টাকার বেশি লোকসানের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।
এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসিকে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চুক্তির আওতায় ৯২ লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এরপর বিদেশি বিশেষজ্ঞ, দেশি প্রকৌশলী ও দক্ষ খনিশ্রমিকদের সমন্বয়ে উৎপাদন বাড়তে শুরু করে। ধীরে ধীরে লাভের মুখ দেখতে থাকে খনিটি। দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়মিতভাবে পাথর সরবরাহও নিশ্চিত হয়।
দ্বিতীয় দফার চুক্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পাথর উত্তোলনে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মানিয়া ট্রাস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসির সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় আরও ছয় বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়। নতুন চুক্তির আওতায় ৮৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন পাথর উত্তোলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
খনি সূত্র জানায়, দেশে প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টন পাথরের চাহিদা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। বর্তমান উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী মধ্যপাড়া খনি থেকে বছরে ১৭ থেকে ১৮ লাখ মেট্রিক টন পাথর সরবরাহ করা সম্ভব।
মধ্যপাড়া খনিতে বিস্ফোরক সংকটে সাময়িকভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ। নতুন চালান এলে ১৫ দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















