জাপানে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে নার্সিং হোম ও পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে কর্মীর সংকট। এই পরিস্থিতিতে দেশটির কিছু প্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছে এক ভিন্ন পথ। তারা নিয়োগ দিচ্ছে তরুণ বডিবিল্ডার, মার্শাল আর্ট যোদ্ধা ও সাবেক সুমো কুস্তিগিরদের। শক্তিশালী শরীরের এই তরুণরাই এখন বৃদ্ধদের যত্ন নেওয়ার কাজে নতুন মুখ হয়ে উঠছেন।
জাপানের বিভিন্ন পরিচর্যা কেন্দ্রে এখন দেখা যায়, ট্যাংক টপ পরা বডিবিল্ডাররা বৃদ্ধদের দাঁত ব্রাশ করাতে সাহায্য করছেন, হুইলচেয়ার থেকে বিছানায় তুলছেন কিংবা ব্যায়াম করাচ্ছেন। কোথাও আবার মার্শাল আর্ট যোদ্ধারা রান্না করছেন, গোসল করাচ্ছেন এবং সারাদিন বৃদ্ধদের পাশে থাকছেন।
বয়স্ক জনসংখ্যার চাপ
জাপানে বর্তমানে প্রতি ছয়জন মানুষের একজনের বয়স ৭৫ বছরের বেশি। ফলে বৃদ্ধাশ্রম ও সেবাকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। একই সময়ে এই খাতে কর্মীর অভাব তীব্র আকার নিয়েছে। বিশেষ করে পুরুষ কর্মী খুব কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।
দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি কর্মী নিয়োগে কড়াকড়ি রয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণভাবেই নতুন কর্মী তৈরি করার চেষ্টা চলছে। আর সেই জায়গায় ক্রীড়াবিদদের দিকে নজর দিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
বডিবিল্ডারদের নতুন জীবন
ইচিনোমিয়া শহরের একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে কাজ করেন ২৬ বছর বয়সী তাকুয়া উসুই। তিনি একজন বডিবিল্ডার। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বৃদ্ধদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি জিমে অনুশীলনেরও সুযোগ পান। এই কাজের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত আয় করছেন, আবার নিজের পছন্দের খেলাটিও চালিয়ে যেতে পারছেন।
তার সহকর্মী হোকুতো তাতসুমি জানান, নিজের শক্তি মানুষের কাজে লাগাতে পারছেন বলেই তিনি এই কাজকে গুরুত্ব দেন। অনেক বৃদ্ধ রোগীও তাদের উপস্থিতিতে আনন্দ পান। কেউ কেউ মজা করে মন্তব্য করেন, আবার কেউ তাদের নাতির মতো স্নেহ করতে শুরু করেছেন।
মার্শাল আর্ট যোদ্ধাদের ব্যতিক্রমী ভূমিকা
কোচি অঞ্চলের একটি নার্সিং হোমে এখন কাজ করছেন একদল মার্শাল আর্ট যোদ্ধা। দিনে তারা বৃদ্ধদের দেখাশোনা করেন, রাতে চালিয়ে যান অনুশীলন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের মতে, এই তরুণদের আগমনে বৃদ্ধাশ্রমে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে।
অনেকের শরীরে ট্যাটু, কারও রঙিন চুল—তবুও বৃদ্ধদের প্রতি তাদের আচরণ অত্যন্ত কোমল ও যত্নশীল। কর্তৃপক্ষ বলছে, শুরুতে অনেকে অবাক হলেও এখন বাসিন্দারা তাদের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখেন।
সুমো কুস্তিগিরদের শক্তি এখন সেবায়
টোকিওর একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে সাবেক সুমো কুস্তিগিররাও কাজ করছেন। ভারী ওজনের বৃদ্ধদের সহজে তোলা কিংবা দ্রুত সহায়তা করার ক্ষেত্রে তারা বড় ভূমিকা রাখছেন। তাদের মতে, কুস্তির মঞ্চে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে কাজ করার যে অভ্যাস তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন রোগীদের সেবায় কাজে লাগছে।

পরিচর্যা পেশাকে নতুনভাবে দেখছে জাপান
জাপানে পরিচর্যার কাজকে দীর্ঘদিন কঠিন ও কম আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে দেখা হতো। তবে নতুন এই উদ্যোগ সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। তরুণ ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে অনেক সেবাকেন্দ্রে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কর্মী সংকট মোকাবিলায়ও মিলছে নতুন সমাধান।
জাপানের বৃদ্ধ সমাজের চাহিদা যত বাড়ছে, ততই এই ধরনের উদ্যোগ দেশটির পরিচর্যা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মেটা বর্ণনা: জাপানের বৃদ্ধাশ্রমে কর্মী সংকট মোকাবিলায় বডিবিল্ডার, মার্শাল আর্ট যোদ্ধা ও সুমো কুস্তিগিরদের নিয়োগ দিচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
কী-ফ্রেজ: জাপানের বৃদ্ধাশ্রমে বডিবিল্ডার
জাপানের বৃদ্ধাশ্রমে এখন বয়স্কদের সেবা দিচ্ছেন বডিবিল্ডার, মার্শাল আর্ট যোদ্ধা ও সাবেক সুমো কুস্তিগিররা। কর্মী সংকট মোকাবিলায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বদলে দিচ্ছে পরিচর্যার পুরোনো ধারণা। বিস্তারিত পড়ুন।
#জাপান #বৃদ্ধাশ্রম #বডিবিল্ডার #সুমো #পরিচর্যা #বয়স্কসেবা #কর্মীসংকট #আন্তর্জাতিকসংবাদ #সারাক্ষণরিপোর্টজাপানের বৃদ্ধাশ্রমে নতুন ভরসা তরুণ বডিবিল্ডার ও কুস্তিগিররা
সারাক্ষণ রিপোর্ট
জাপানে দ্রুত বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। সেই সঙ্গে বাড়ছে নার্সিং হোম ও পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে কর্মীর সংকট। এই পরিস্থিতিতে দেশটির কিছু প্রতিষ্ঠান বেছে নিয়েছে এক ভিন্ন পথ। তারা নিয়োগ দিচ্ছে তরুণ বডিবিল্ডার, মার্শাল আর্ট যোদ্ধা ও সাবেক সুমো কুস্তিগিরদের। শক্তিশালী শরীরের এই তরুণরাই এখন বৃদ্ধদের যত্ন নেওয়ার কাজে নতুন মুখ হয়ে উঠছেন।
জাপানের বিভিন্ন পরিচর্যা কেন্দ্রে এখন দেখা যায়, ট্যাংক টপ পরা বডিবিল্ডাররা বৃদ্ধদের দাঁত ব্রাশ করাতে সাহায্য করছেন, হুইলচেয়ার থেকে বিছানায় তুলছেন কিংবা ব্যায়াম করাচ্ছেন। কোথাও আবার মার্শাল আর্ট যোদ্ধারা রান্না করছেন, গোসল করাচ্ছেন এবং সারাদিন বৃদ্ধদের পাশে থাকছেন।
বয়স্ক জনসংখ্যার চাপ
জাপানে বর্তমানে প্রতি ছয়জন মানুষের একজনের বয়স ৭৫ বছরের বেশি। ফলে বৃদ্ধাশ্রম ও সেবাকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ বেড়েই চলেছে। একই সময়ে এই খাতে কর্মীর অভাব তীব্র আকার নিয়েছে। বিশেষ করে পুরুষ কর্মী খুব কম থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হয়েছে।
দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি কর্মী নিয়োগে কড়াকড়ি রয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণভাবেই নতুন কর্মী তৈরি করার চেষ্টা চলছে। আর সেই জায়গায় ক্রীড়াবিদদের দিকে নজর দিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান।
বডিবিল্ডারদের নতুন জীবন
ইচিনোমিয়া শহরের একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে কাজ করেন ২৬ বছর বয়সী তাকুয়া উসুই। তিনি একজন বডিবিল্ডার। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বৃদ্ধদের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি জিমে অনুশীলনেরও সুযোগ পান। এই কাজের মাধ্যমে তিনি নিয়মিত আয় করছেন, আবার নিজের পছন্দের খেলাটিও চালিয়ে যেতে পারছেন।
তার সহকর্মী হোকুতো তাতসুমি জানান, নিজের শক্তি মানুষের কাজে লাগাতে পারছেন বলেই তিনি এই কাজকে গুরুত্ব দেন। অনেক বৃদ্ধ রোগীও তাদের উপস্থিতিতে আনন্দ পান। কেউ কেউ মজা করে মন্তব্য করেন, আবার কেউ তাদের নাতির মতো স্নেহ করতে শুরু করেছেন।
মার্শাল আর্ট যোদ্ধাদের ব্যতিক্রমী ভূমিকা
কোচি অঞ্চলের একটি নার্সিং হোমে এখন কাজ করছেন একদল মার্শাল আর্ট যোদ্ধা। দিনে তারা বৃদ্ধদের দেখাশোনা করেন, রাতে চালিয়ে যান অনুশীলন। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের মতে, এই তরুণদের আগমনে বৃদ্ধাশ্রমে নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে।
অনেকের শরীরে ট্যাটু, কারও রঙিন চুল—তবুও বৃদ্ধদের প্রতি তাদের আচরণ অত্যন্ত কোমল ও যত্নশীল। কর্তৃপক্ষ বলছে, শুরুতে অনেকে অবাক হলেও এখন বাসিন্দারা তাদের পরিবারের সদস্যের মতোই দেখেন।
সুমো কুস্তিগিরদের শক্তি এখন সেবায়
টোকিওর একটি পরিচর্যা কেন্দ্রে সাবেক সুমো কুস্তিগিররাও কাজ করছেন। ভারী ওজনের বৃদ্ধদের সহজে তোলা কিংবা দ্রুত সহায়তা করার ক্ষেত্রে তারা বড় ভূমিকা রাখছেন। তাদের মতে, কুস্তির মঞ্চে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে কাজ করার যে অভ্যাস তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন রোগীদের সেবায় কাজে লাগছে।
পরিচর্যা পেশাকে নতুনভাবে দেখছে জাপান
জাপানে পরিচর্যার কাজকে দীর্ঘদিন কঠিন ও কম আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে দেখা হতো। তবে নতুন এই উদ্যোগ সেই ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। তরুণ ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে অনেক সেবাকেন্দ্রে পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কর্মী সংকট মোকাবিলায়ও মিলছে নতুন সমাধান।
জাপানের বৃদ্ধ সমাজের চাহিদা যত বাড়ছে, ততই এই ধরনের উদ্যোগ দেশটির পরিচর্যা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















