বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেট এখন নতুন এক বিতর্কের কেন্দ্রে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা, সামরিক অভিযান ও আন্তর্জাতিক সংকট নিয়ে আগাম বাজি ধরে বিপুল অর্থ লাভের ঘটনায় উঠছে গোপন তথ্য ব্যবহার বা ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু ব্যবহারকারী এমন সব ঘটনায় বাজি ধরেছেন, যেগুলোর ফলাফল প্রকাশ্যে আসার আগেই তারা যেন নিশ্চিতভাবে জানতেন কী ঘটতে যাচ্ছে।
ইরান হামলার আগেই বড় অঙ্কের বাজি
গত বছরের জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা আগেই কয়েকটি নতুন অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের বাজি ধরা হয়। মাত্র ১৩ জন ব্যবহারকারী প্রায় এক লাখ ৪০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেন এই ধারণায় যে সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই হামলা হবে। পরে হামলা শুরু হলে তারা ছয় লাখ ডলারের বেশি লাভ করেন। তদন্তে দেখা যায়, কয়েকটি অ্যাকাউন্ট হামলার কয়েক দিন আগেই খোলা হয়েছিল এবং কিছু অ্যাকাউন্ট আগেও একই ধরনের সামরিক ঘটনার ওপর বাজি ধরে লাভ করেছে।
মাদুরো গ্রেপ্তার নিয়েও রহস্য
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের আগেও একই ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেন দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের আগের দুই দিনে এক ব্যবহারকারী বড় অঙ্কের বাজি ধরেন যে মাদুরো ক্ষমতা হারাবেন। গ্রেপ্তারের পর সেই ব্যক্তি চার লাখ ডলারের বেশি লাভ করেন। পরে এক মার্কিন সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ব্যবহার করে এই বাজি ধরার অভিযোগ আনা হয়।

বাড়ছে নজরদারি ও তদন্ত
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, অন্তত ৮০টির বেশি অ্যাকাউন্ট সন্দেহজনক আচরণ করেছে। এদের মধ্যে অনেকে খুব কম বিষয়ে বাজি ধরলেও প্রায় সব ক্ষেত্রেই জিতেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সামরিক অভিযান ঘিরে এসব অস্বাভাবিক বাজির সংখ্যা বেশি। একই সময়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একসঙ্গে বাজি ধরার ঘটনাও ধরা পড়েছে, যা সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেয়।
প্রেডিকশন মার্কেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তারা সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখছে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। তবে সমালোচকদের মতে, এত দ্রুত বাড়তে থাকা বাজারে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনো দুর্বল।
রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ
এই ধরনের বেটিং মার্কেট এখন শুধু প্রযুক্তি বা অর্থনীতির আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজনৈতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ইতোমধ্যে সদস্য ও তাদের কর্মীদের এসব মার্কেটে অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব পাস করেছে। একই সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এই খাতে যুক্ত হওয়ায় বিতর্ক আরও বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোপন তথ্য ব্যবহার করে বাজি ধরার প্রবণতা বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে প্রেডিকশন মার্কেট শুধু বিনোদন বা বিশ্লেষণের জায়গা থাকবে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















