ইরাকের পশ্চিম মরুভূমিতে গোপনে ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি পরিচালনার অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এক তরুণ রাখালের রহস্যজনক মৃত্যুর পর সামনে এসেছে এই বিস্ফোরক তথ্য। স্থানীয়দের দাবি, গোপন সামরিক ঘাঁটির সন্ধান পাওয়ার পরই তাকে হত্যা করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে মার্চের শুরুতে ইরাকের আল-নুখাইব এলাকার কাছে। স্থানীয় রাখাল আওয়াদ আল-শাম্মারি বাজারে যাওয়ার পথে মরুভূমির ভেতরে অস্বাভাবিক সামরিক তৎপরতা দেখতে পান। পরে তিনি ইরাকের আঞ্চলিক সামরিক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেখানে হেলিকপ্টার, সেনা সদস্য ও অস্থায়ী রানওয়ে দেখতে পেয়েছিলেন।
কয়েক ঘণ্টা পর তার জ্বলন্ত গুলিবিদ্ধ গাড়ি মরুভূমিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি হেলিকপ্টার গাড়িটিকে ধাওয়া করে গুলি চালায়। পরে তার পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গোপন ঘাঁটি নিয়ে নতুন বিতর্ক
ইরাকের কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মরুভূমিতে অন্তত দুটি গোপন ঘাঁটি ছিল, যা ইসরায়েল পরিচালনা করছিল। এসব ঘাঁটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের সংঘাতের সময় এই ঘাঁটিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারা জানান, তারা কয়েক সপ্তাহ ধরেই মরুভূমিতে অস্বাভাবিক সামরিক গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন। তবে সরাসরি অভিযান চালানোর বদলে দূর থেকে নজরদারি করা হচ্ছিল। পরে রাখালের তথ্যের ভিত্তিতে সেনা দল ঘটনাস্থলে গেলে তারাও হামলার মুখে পড়ে। এতে এক সেনা নিহত ও কয়েকজন আহত হন।

ইরাকের ভেতরে ক্ষোভ
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইরাকে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অনেক রাজনীতিক ও বিশ্লেষক বলছেন, এটি ইরাকের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের অপমান। কারণ দেশটির মাটিতে বিদেশি সামরিক ঘাঁটি পরিচালিত হলেও সরকার তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি।
ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের কাছে কোনো ইসরায়েলি ঘাঁটির আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তবে বিভিন্ন সূত্র বলছে, উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পার্লামেন্টেও গোপন ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে
ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের ধারণা, মার্কিন বাহিনী এই ঘাঁটির বিষয়ে জানত। কারণ ইরাকে সামরিক তৎপরতা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাগদাদের সমন্বয় থাকার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইরাকের জন্য নতুন কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
পরিবারের ন্যায়বিচারের দাবি
আওয়াদ আল-শাম্মারির পরিবার এখন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছে। তাদের অভিযোগ, একজন সাধারণ রাখাল রাষ্ট্রীয় গোপন সংঘাতের শিকার হয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তার মৃত্যুর বিচার না হলে এই ঘটনার সত্য কখনও পুরোপুরি সামনে আসবে না।
ইরাকের মরুভূমিতে গোপন ইসরায়েলি ঘাঁটি ও এক রাখালের মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট।
Sarakhon Report 


















