দক্ষিণ কোরিয়ায় স্টারবাকসের একটি প্রচারণা ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ‘ট্যাংক ডে’ নামে একটি বিপণন কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে স্টারবাকসের মার্কিন সদর দপ্তর।
বিতর্কের শুরু হয় স্টারবাকস কোরিয়ার একটি প্রচারণা থেকে। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রচারণাটির নাম ও উপস্থাপনা দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিষয়টি দ্রুত অনলাইনে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং গ্রাহকদের একাংশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।
ক্ষমা চেয়ে যা বলল স্টারবাকস
স্টারবাকসের সদর দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের বিপণন কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি প্রতিষ্ঠানের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে যে প্রচারণাটি অনেক মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
স্টারবাকস আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে তারা অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা জোরদার করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে প্রচারণা পরিচালনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া
বিতর্কটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনেও এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং স্টারবাকস কোরিয়ার এই প্রচারণার সমালোচনা করেন বলে জানা গেছে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর স্থানীয় সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে সামরিক বা রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ প্রচারণা সহজেই জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ
এই ঘটনার পর স্টারবাকস কোরিয়ার সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে বয়কটের ডাক দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ প্রতিষ্ঠানটির ক্ষমা প্রার্থনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র ক্ষমা চাইলেই হবে না, ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল বিপণন কৌশল গ্রহণের মাধ্যমেই গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে স্টারবাকসকে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ‘ট্যাংক ডে’ প্রচারণা ঘিরে সমালোচনার মুখে স্টারবাকস। বিতর্কের পর ক্ষমা চেয়েছে মার্কিন সদর দপ্তর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















