০৯:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রেডিকশন মার্কেটে গোপন তথ্যের খেলা, ইরান হামলা থেকে মাদুরো গ্রেপ্তার—উঠছে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ বেবিমনস্টারের ‘চুম’ ভিডিওতে ১০ কোটির মাইলফলক, বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জনপ্রিয়তা স্টারবাকসের ‘ট্যাংক ডে’ বিতর্কে ক্ষোভ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্ষমা চাইল মার্কিন সদর দপ্তর আল সুপাঙ্গানের সোনালি জন্মদিনে জমকালো আয়োজন, ডেনিম থিমে মুখর সন্ধ্যা জাপানের বৃদ্ধাশ্রমে নতুন ভরসা তরুণ বডিবিল্ডার ও কুস্তিগিররা ডাবলিনে গান, গল্প আর শিল্পের শহুরে জাদু ইরাকের মরুভূমিতে গোপন ইসরায়েলি ঘাঁটি, এক রাখালের মৃত্যুর পর ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য ফিলিপাইনে মার্কিন শিল্প হাব ঘিরে বিতর্ক, বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না ম্যানিলা দামযুদ্ধের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে নতুন আশার বার্তা ভারতের আমদানি বিল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, সতর্কবার্তা দিলেন মোদি

ভারতের আমদানি বিল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, সতর্কবার্তা দিলেন মোদি

ভারতের বাড়তে থাকা আমদানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, সোনা ও বিদেশ ভ্রমণে খরচ কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক আহ্বানকে অর্থনীতিবিদরা বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ এবং বাণিজ্য ঘাটতির রেকর্ড বৃদ্ধির কারণে দেশটির অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতির নতুন রেকর্ড

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের তুলনায় যা ১৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দেশটির আমদানি বেড়ে হয়েছে ৭৭৫ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু রপ্তানি প্রায় স্থির থেকেছে ৪৪২ বিলিয়ন ডলারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ দ্রুত বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, তার পুরো প্রভাব এখনও ভারতের আমদানি হিসাবে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

সোনা আমদানিতে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন

ভারতের আমদানি ব্যয়ের বড় অংশ এখন সোনা ও রুপার পেছনে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে মূল্যবান ধাতুর আমদানি ৯০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। শুধু সোনা আমদানিই বেড়েছে ২৪ শতাংশ এবং রুপা আমদানিতে বৃদ্ধি হয়েছে ১৫০ শতাংশ। অথচ গয়না রপ্তানি কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। ফলে বোঝা যাচ্ছে, অধিকাংশ সোনাই দেশের ভেতরে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নতুন অর্থবছরের এপ্রিল মাসেও সোনা আমদানি ৮২ শতাংশ বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকার শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করলেও বাজারে তার বড় প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী এখন সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

ভোজ্যতেল ও সারে আমদানি নির্ভরতা

ভারতের কৃষিখাতে সবচেয়ে বড় দুর্বলতার একটি হয়ে উঠেছে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা। গত অর্থবছরে ভোজ্যতেল আমদানি ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে বৈশ্বিক সারমূল্য ৪৬ শতাংশ বেড়েছে, আর ইউরিয়ার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ভারতের সার চাহিদার ৩১ থেকে ৩৭ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হলেও এখন সেই নির্ভরতা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইলেকট্রনিকস খাতে আমদানি চাপ

‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচি চালু হলেও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি আমদানিতে ভারতের নির্ভরতা কমেনি। গত অর্থবছরে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ আমদানি ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ব্যাটারি ও অ্যাকুমুলেটর আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে অগ্রগতি হলেও তার জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে।

রুপির ওপর বাড়তি চাপ

ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতির কারণে ভারতীয় রুপির ওপরও চাপ বাড়ছে। গত কয়েক মাসে রিজার্ভ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে মুদ্রার বড় পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি কমানো এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এখন ভারতের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই কারণেই সাধারণ মানুষের খরচ কমানোর আহ্বানকে শুধু পরামর্শ নয়, বরং এক ধরনের অর্থনৈতিক সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেডিকশন মার্কেটে গোপন তথ্যের খেলা, ইরান হামলা থেকে মাদুরো গ্রেপ্তার—উঠছে ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের অভিযোগ

ভারতের আমদানি বিল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ, সতর্কবার্তা দিলেন মোদি

০৮:৪৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ভারতের বাড়তে থাকা আমদানি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জ্বালানি তেল, ভোজ্যতেল, সোনা ও বিদেশ ভ্রমণে খরচ কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক আহ্বানকে অর্থনীতিবিদরা বড় ধরনের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাপ এবং বাণিজ্য ঘাটতির রেকর্ড বৃদ্ধির কারণে দেশটির অর্থনীতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতির নতুন রেকর্ড

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ বিলিয়ন ডলারে। আগের বছরের তুলনায় যা ১৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দেশটির আমদানি বেড়ে হয়েছে ৭৭৫ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু রপ্তানি প্রায় স্থির থেকেছে ৪৪২ বিলিয়ন ডলারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ দ্রুত বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বেড়েছে, তার পুরো প্রভাব এখনও ভারতের আমদানি হিসাবে দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

সোনা আমদানিতে অস্বাভাবিক উল্লম্ফন

ভারতের আমদানি ব্যয়ের বড় অংশ এখন সোনা ও রুপার পেছনে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে মূল্যবান ধাতুর আমদানি ৯০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। শুধু সোনা আমদানিই বেড়েছে ২৪ শতাংশ এবং রুপা আমদানিতে বৃদ্ধি হয়েছে ১৫০ শতাংশ। অথচ গয়না রপ্তানি কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। ফলে বোঝা যাচ্ছে, অধিকাংশ সোনাই দেশের ভেতরে ব্যবহৃত হচ্ছে।

নতুন অর্থবছরের এপ্রিল মাসেও সোনা আমদানি ৮২ শতাংশ বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকার শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করলেও বাজারে তার বড় প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী এখন সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

ভোজ্যতেল ও সারে আমদানি নির্ভরতা

ভারতের কৃষিখাতে সবচেয়ে বড় দুর্বলতার একটি হয়ে উঠেছে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা। গত অর্থবছরে ভোজ্যতেল আমদানি ১২ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে বৈশ্বিক সারমূল্য ৪৬ শতাংশ বেড়েছে, আর ইউরিয়ার দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত পাঁচ বছরে ভারতের সার চাহিদার ৩১ থেকে ৩৭ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ হলেও এখন সেই নির্ভরতা ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইলেকট্রনিকস খাতে আমদানি চাপ

‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচি চালু হলেও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ও ব্যাটারি আমদানিতে ভারতের নির্ভরতা কমেনি। গত অর্থবছরে ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ আমদানি ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং ব্যাটারি ও অ্যাকুমুলেটর আমদানি বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে অগ্রগতি হলেও তার জন্য বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে।

রুপির ওপর বাড়তি চাপ

ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতির কারণে ভারতীয় রুপির ওপরও চাপ বাড়ছে। গত কয়েক মাসে রিজার্ভ ব্যাংক বাজারে হস্তক্ষেপ করে মুদ্রার বড় পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমদানি কমানো এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এখন ভারতের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই কারণেই সাধারণ মানুষের খরচ কমানোর আহ্বানকে শুধু পরামর্শ নয়, বরং এক ধরনের অর্থনৈতিক সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।