০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর ভাঙন: এক দশকে ঘরহারা ৫০০ পরিবার, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় ৪৮.৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি: চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে হামের চিকিৎসা ব্যয়ে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, গড় খরচ ১৬ হাজার টাকা: বিডিআরসিএস-আইএফআরসি রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত আট; লক্ষ্যবস্তু বড় গুদাম ও সামরিক স্থাপনা ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের শতাধিক ব্যাংক হিসাব বন্ধে মানি লন্ডারিং পর্যালোচনার দাবি ক্যাপিটাল ওয়ানের গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত ২, ইউরোপজুড়ে তাপদাহে বাড়ছে দুর্যোগ ভারত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর বাজারের বিকল্প নিরাপদ গন্তব্য হয়ে উঠছে? অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার এইচ৫এন১ বার্ড ফ্লুতে সামুদ্রিক পাখির গণমৃত্যু, সতর্কতা জারি

ফিলিপাইনে মার্কিন শিল্প হাব ঘিরে বিতর্ক, বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না ম্যানিলা

ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি বিশাল শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানি বা কর্মীদের জন্য বিশেষ আইনি সুবিধা বা কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ফিলিপাইন সরকার।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পিত ‘প্যাক্স সিলিকা’ শিল্প হাব পুরোপুরি দেশটির নিজস্ব আইন মেনেই পরিচালিত হবে। এ নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পর সরকার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়।

কী এই প্যাক্স সিলিকা প্রকল্প

লুজন ইকোনমিক করিডরের অংশ হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জায়গাজুড়ে এই শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি নিউ ক্লার্ক সিটির ভেতরে নির্মিত হবে, যা আগে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অংশ ছিল। বর্তমানে এলাকাটি শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর হিসেবে উন্নয়ন করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খনিজ, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা অবকাঠামো ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। বিশেষ করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প প্রযুক্তি সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।

মার্কিন বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

ফিলিপাইনের বেসেস কনভার্সন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রধান জোশুয়া বিংচাং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকল্পের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার অনুরোধ ছিল। কিন্তু ম্যানিলা তাতে সম্মত হয়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন এবং স্থানীয় উন্নয়ন আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। কোনো বিদেশি পক্ষের জন্য আলাদা আইন বা বিশেষ মর্যাদা থাকবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় আইন মেনেই কাজ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই প্রকল্পকে শুধু অর্থনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবেও দেখছেন। সফরে আসা মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও কাঁচামালের সরবরাহে একক দেশের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

খনিজ সম্পদে নতুন লক্ষ্য

বিশ্বের অন্যতম বড় নিকেল মজুত রয়েছে ফিলিপাইনে। দেশটি এখন শুধু কাঁচা খনিজ রপ্তানির বদলে ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের ধাতু উৎপাদনে আগ্রহী।

সরকারের মতে, প্যাক্স সিলিকা প্রকল্প সফল হলে দেশটি প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এতে কর্মসংস্থান ও শিল্প বিনিয়োগও বাড়বে।

পরিবেশ ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

তবে প্রকল্পটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কয়েকটি পরিবেশবাদী ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এতে বিদেশি প্রভাব বাড়তে পারে এবং খনিজ উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, সব কার্যক্রম পরিবেশ আইন ও শ্রম আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। তারা দাবি করছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে।

ফিলিপাইনে মার্কিন সমর্থিত প্যাক্স সিলিকা শিল্প হাব নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। তবে ম্যানিলা বলছে, প্রকল্পে কোনো বিদেশি বিশেষ আইন কার্যকর হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত

ফিলিপাইনে মার্কিন শিল্প হাব ঘিরে বিতর্ক, বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে না ম্যানিলা

০৮:৫৪:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজনে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি বিশাল শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানি বা কর্মীদের জন্য বিশেষ আইনি সুবিধা বা কূটনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে ফিলিপাইন সরকার।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পিত ‘প্যাক্স সিলিকা’ শিল্প হাব পুরোপুরি দেশটির নিজস্ব আইন মেনেই পরিচালিত হবে। এ নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পর সরকার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়।

কী এই প্যাক্স সিলিকা প্রকল্প

লুজন ইকোনমিক করিডরের অংশ হিসেবে প্রায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জায়গাজুড়ে এই শিল্প হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি নিউ ক্লার্ক সিটির ভেতরে নির্মিত হবে, যা আগে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অংশ ছিল। বর্তমানে এলাকাটি শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর নগর হিসেবে উন্নয়ন করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে খনিজ, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা অবকাঠামো ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। বিশেষ করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প প্রযুক্তি সরবরাহ চেইন গড়ে তুলতে আগ্রহী ওয়াশিংটন।

মার্কিন বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিতর্ক

ফিলিপাইনের বেসেস কনভার্সন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির প্রধান জোশুয়া বিংচাং জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রকল্পের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার অনুরোধ ছিল। কিন্তু ম্যানিলা তাতে সম্মত হয়নি।

তিনি বলেন, প্রকল্পটি ফিলিপাইনের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন এবং স্থানীয় উন্নয়ন আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। কোনো বিদেশি পক্ষের জন্য আলাদা আইন বা বিশেষ মর্যাদা থাকবে না।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় আইন মেনেই কাজ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এই প্রকল্পকে শুধু অর্থনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ হিসেবেও দেখছেন। সফরে আসা মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কয়েকটি বড় প্রযুক্তি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও ছিলেন বলে জানা গেছে।

ওয়াশিংটনের দাবি, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা অবকাঠামোর চাহিদা বাড়ছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও কাঁচামালের সরবরাহে একক দেশের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

খনিজ সম্পদে নতুন লক্ষ্য

বিশ্বের অন্যতম বড় নিকেল মজুত রয়েছে ফিলিপাইনে। দেশটি এখন শুধু কাঁচা খনিজ রপ্তানির বদলে ব্যাটারি, সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি শিল্পে ব্যবহৃত উচ্চমূল্যের ধাতু উৎপাদনে আগ্রহী।

সরকারের মতে, প্যাক্স সিলিকা প্রকল্প সফল হলে দেশটি প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এতে কর্মসংস্থান ও শিল্প বিনিয়োগও বাড়বে।

পরিবেশ ও বিদেশি প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

তবে প্রকল্পটি নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। কয়েকটি পরিবেশবাদী ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এতে বিদেশি প্রভাব বাড়তে পারে এবং খনিজ উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

ফিলিপাইনের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, সব কার্যক্রম পরিবেশ আইন ও শ্রম আইনের আওতায় পরিচালিত হবে। তারা দাবি করছেন, দেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হবে।

ফিলিপাইনে মার্কিন সমর্থিত প্যাক্স সিলিকা শিল্প হাব নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। তবে ম্যানিলা বলছে, প্রকল্পে কোনো বিদেশি বিশেষ আইন কার্যকর হবে না।