বাংলাদেশের স্টিল শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা। তাদের ভাষায়, দেশের স্টিল শিল্প এখন যেন ‘আইসিইউতে’ রয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানো হলে অনেক কারখানাই উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে, এমনকি কিছু কারখানা আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই: বিএসএমএ
সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকার যদি অলস বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিপরীতে দেওয়া বিপুল ক্যাপাসিটি চার্জ কমাতে পারে এবং সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়, তাহলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না।
তিনি বলেন, করোনা মহামারির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও কাঁচামালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের সংকট, বিনিময় হার অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—সব মিলিয়ে দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি কঠিন সময় পার করছে।
নির্মাণ খাতে ধীরগতি, কমেছে স্টিলের চাহিদা
বিএসএমএ জানায়, সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই নির্মাণকাজের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে দেশে স্টিল পণ্যের চাহিদাও দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে।
এছাড়া উচ্চ সুদহার, ব্যাংক ঋণে সীমাবদ্ধতা, গ্যাস সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং কার্যকর মূলধনের ঘাটতি শিল্পখাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।

উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে
সংগঠনটির নেতারা জানান, গত কয়েক বছরে শিল্প খাতে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে গ্যাসের দাম ৩০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাদের মতে, আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শিল্পখাত প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাবে।
অতিরিক্ত চার্জ ও ভ্যাট নিয়ে অভিযোগ
বিএসএমএ নেতারা বলেন, দেশের বড় স্টিল কারখানাগুলো সরাসরি জাতীয় উচ্চ ভোল্টেজ গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ গ্রহণ করে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে ট্রান্সমিশন বা বিতরণজনিত ক্ষতির বিষয়টি থাকে না।
তারপরও কারখানাগুলোকে উচ্চ ডিমান্ড চার্জ, অতিরিক্ত ভ্যাট এবং কঠোর পাওয়ার-ফ্যাক্টর জরিমানার মতো নানা খরচ বহন করতে হচ্ছে। এসবকে তারা বিদ্যুতের কার্যকর মূল্য বাড়ানোর ‘পরোক্ষ পদ্ধতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সরকারের কাছে যেসব দাবি
স্টিল শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারকে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বিএসএমএ। একইসঙ্গে তারা অযৌক্তিক ডিমান্ড চার্জ কমানো, অতিরিক্ত ভ্যাট হ্রাস এবং পাওয়ার-ফ্যাক্টর জরিমানা নীতির পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।
শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ, মহাসচিব সুমন চৌধুরী এবং সহসভাপতি মো. রেজাউল করিমসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















