চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি অঞ্চলে নির্মিত বিশাল পিংলু খাল আগামী সেপ্টেম্বরে চালু হতে যাচ্ছে। ১৩৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই কৃত্রিম খাল সরাসরি চীনের অভ্যন্তরীণ নদীপথকে দক্ষিণ চীন সাগরের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও সহজ হবে।
বিশাল এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতোমধ্যেই চীন ও আসিয়ান অঞ্চলে বাণিজ্যিক আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো থেকে পণ্য পরিবহনের দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাণিজ্যে সময় ও খরচ কমবে
পিংলু খাল চালু হলে চীনের অভ্যন্তরীণ অঞ্চল থেকে সিঙ্গাপুরে পণ্য পাঠানোর দূরত্ব প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং সময়ও বাঁচবে। চীনের গুয়াংসি অঞ্চলের রাজধানী নানিংয়ের কাছে হেংঝৌ থেকে শুরু হয়ে খালটি শেষ হয়েছে বেইবু উপসাগর বন্দরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য দ্রুত বাড়ছে। এই খাল সেই প্রবৃদ্ধিকে আরও শক্তিশালী করবে।

নতুন বাণিজ্য করিডরের কেন্দ্রবিন্দু
পিংলু খাল যুক্ত হচ্ছে নতুন আন্তর্জাতিক স্থল-সমুদ্র বাণিজ্য করিডরের সঙ্গে। এই করিডরটি ২০১৫ সালে চীন ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে পরিকল্পনা করেছিল। এর লক্ষ্য ছিল চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোকে দ্রুত আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা।
চীনের কর্মকর্তারা বলছেন, এই করিডর চালুর পর গুয়াংসি অঞ্চল এখন আসিয়ান দেশগুলোর সঙ্গে চীনের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বারে পরিণত হয়েছে। আগে যেসব অঞ্চল অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূলধারা থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিল, এখন সেগুলো নতুন বিনিয়োগ ও শিল্প কার্যক্রমের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।
বেইবু বন্দর ঘিরে বাড়ছে গুরুত্ব
বেইবু উপসাগর বন্দর এখন চীনের অন্যতম ব্যস্ত বন্দর হিসেবে উঠে আসছে। ২০২৫ সালে এই বন্দরে এক কোটিরও বেশি কনটেইনার পরিবহন হয়েছে। কয়েক বছর আগেও যার পরিমাণ ছিল অনেক কম।
এই পথ দিয়ে চীন থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও ভোগ্যপণ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যাচ্ছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে লোহা আকরিক, ডুরিয়ানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য চীনে প্রবেশ করছে।
বিশ্ব অস্থিরতার মাঝেও সহযোগিতার বার্তা
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্কযুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও চীন ও আসিয়ানের বাণিজ্য রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে দুই পক্ষের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
চীনের কর্মকর্তারা বলছেন, এমন সময়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সংযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পিংলু খাল সেই সহযোগিতার নতুন প্রতীক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















