গ্রিসে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বাতাসের গতি কিছুটা কমে আসায় আবারও আকাশে উড়েছে জলবাহী বিমান। শত শত অগ্নিনির্বাপক কর্মী, হেলিকপ্টার ও বিশেষায়িত বিমান একযোগে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিলেও পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে এই দাবানলে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার হেক্টর বন, কৃষিজমি ও ঝোপঝাড় পুড়ে গেছে।
বাতাস কমতেই শুরু আকাশপথে অভিযান
প্রবল বাতাসের কারণে কয়েক দিন ধরে আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। তবে সোমবার বাতাসের বেগ কমে আসায় নয়টি জলবাহী বিমান ও নয়টি হেলিকপ্টার আবারও অভিযান শুরু করে। প্রায় সাড়ে চারশ অগ্নিনির্বাপক কর্মী রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পসাথা, ক্রিও পিগাদি ও কান্দিলি এলাকায়। এসব অঞ্চল রাজধানী থেকে প্রায় ৪৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
নতুন করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাসিন্দাদের
আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় কান্দিলির আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের আবারও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের মতে, দাবানলের বিস্তার ঠেকাতে দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

পাঁচ প্রাণহানিতে শোক
গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া দাবানলে এ পর্যন্ত পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার আগুন নেভানোর সময় দুটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে একজন ডেনিশ বৈমানিক ও একজন গ্রিক সহকারী বৈমানিক নিহত হন। এর আগে ক্রিট ও পেলোপনিস অঞ্চলের পৃথক দাবানলে আগুন নেভানোর সময় আরও তিন অগ্নিনির্বাপক কর্মীর মৃত্যু হয়।
সামনে আরও কঠিন সময়ের আশঙ্কা
গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস সতর্ক করে বলেছেন, সামনে দেশটির জন্য আরও “অত্যন্ত কঠিন” কয়েকটি দিন অপেক্ষা করছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে দাবানল আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ইউরোপীয় পর্যবেক্ষণ তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ১২ হাজার হেক্টরেরও বেশি বন ও কৃষিজমি আগুনে পুড়ে গেছে।
তদন্তে নতুন তথ্য
দাবানলের একটি ঘটনার সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, উপকূলীয় একটি গ্রামের কাছে বিদ্যুতের তার থেকে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই ওই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এদিকে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত একই ধরনের সব হেলিকপ্টার সাময়িকভাবে উড্ডয়ন থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও স্পষ্ট
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মতো গ্রিসেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দাবানলের সংখ্যা ও তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দীর্ঘ সময়ের খরা, উচ্চ তাপমাত্রা এবং শুষ্ক আবহাওয়া এসব অগ্নিকাণ্ডকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
পর্যটনের ভরা মৌসুমেও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি বলে সতর্কতা জারি রয়েছে। রাজধানী ঘিরে থাকা আটিকা এবং পার্শ্ববর্তী বোয়োতিয়া অঞ্চলকে সর্বোচ্চ সতর্কতার ঠিক নিচের স্তরে রাখা হয়েছে।
গ্রিসের অগ্নিনির্বাপক বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিন-রাত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে আরও মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















