০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬
মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ? বিষাক্ত উলফসবেইন ও লার্কস্পার ফুলেই নতুন ওষুধের সম্ভাবনা, ব্যথা-ক্যানসার-ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় আশার আলো আগস্টে আকাশজুড়ে মহাজাগতিক বিস্ময়: দুই গ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টি ও বিরল গ্রহ-চাঁদের যুগল দৃশ্য মিশরে ভোররাতে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল কায়রোসহ বিস্তীর্ণ এলাকা যুদ্ধ জেতার চেয়েও কঠিন: ইরান সংঘাতের শেষ কোথায়? ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস: রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেটে সতর্কতা, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব অব্যাহত শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশি নদীর ভাঙন: এক দশকে ঘরহারা ৫০০ পরিবার, স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় ৪৮.৬৪ কোটি টাকার প্রকল্প সিলেটে হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, বিভাগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৬ বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতা জরুরি: চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে হামের চিকিৎসা ব্যয়ে ঋণগ্রস্ত ৮৯% পরিবার, গড় খরচ ১৬ হাজার টাকা: বিডিআরসিএস-আইএফআরসি

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ, বাড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও অবরোধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই পথ দিয়ে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে, যার বেশিরভাগই ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।

জাহাজ চলাচলে বড় ধস

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের ব্যবধানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শনিবার যেখানে প্রায় ১১টি জাহাজ চলাচল করেছিল, সেখানে রবিবার তা নেমে আসে মাত্র আটটিতে। সোমবার সকালে পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হয়ে দাঁড়ায় মাত্র তিনটি জাহাজ চলাচলে, যেগুলোর সবই ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

রবিবার যেসব জাহাজ চলাচল করেছে, তার মধ্যে একটি দক্ষিণ কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট সুপারট্যাংকার এবং সৌদি আরব পরিচালিত একটি তরল গ্যাসবাহী জাহাজ ছিল। এছাড়া কয়েকটি ইরানি জ্বালানি ও গ্যাসবাহী জাহাজও ওই পথে চলাচল করেছে।

মার্কিন অবরোধে বাড়ছে চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, অবরোধ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে তারা ইতোমধ্যে ৮১টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

তবে বাধা সত্ত্বেও কয়েকটি ইরানি জাহাজ পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ছিল জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ও কনটেইনারবাহী জাহাজ। সোমবার সকালেও নতুন একটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ওই পথে প্রবেশ করে।

Strait of Hormuz crisis explained: What it means for global shipping

প্রযুক্তিগত সমস্যায় নজরদারি কঠিন

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় ব্যাপক সিগন্যাল বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কোন জাহাজ কোথায় অবস্থান করছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও গত সপ্তাহে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে, তবুও তা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক কম।

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। তাই এখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে কয়েকটি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ চীন, ওমান ও জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বলে জানা গেছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাত পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মোদির অজেয়তার মিথ ভাঙছে, নাকি ভারতীয় গণতন্ত্রের নতুন জাগরণ?

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ, বাড়ছে বৈশ্বিক জ্বালানি উদ্বেগ

০৭:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও অবরোধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই পথ দিয়ে খুব সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল করছে, যার বেশিরভাগই ইরান-সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে।

জাহাজ চলাচলে বড় ধস

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের ব্যবধানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। শনিবার যেখানে প্রায় ১১টি জাহাজ চলাচল করেছিল, সেখানে রবিবার তা নেমে আসে মাত্র আটটিতে। সোমবার সকালে পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হয়ে দাঁড়ায় মাত্র তিনটি জাহাজ চলাচলে, যেগুলোর সবই ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত।

রবিবার যেসব জাহাজ চলাচল করেছে, তার মধ্যে একটি দক্ষিণ কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট সুপারট্যাংকার এবং সৌদি আরব পরিচালিত একটি তরল গ্যাসবাহী জাহাজ ছিল। এছাড়া কয়েকটি ইরানি জ্বালানি ও গ্যাসবাহী জাহাজও ওই পথে চলাচল করেছে।

মার্কিন অবরোধে বাড়ছে চাপ

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, অবরোধ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে তারা ইতোমধ্যে ৮১টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অন্য পথে যেতে বাধ্য করেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

তবে বাধা সত্ত্বেও কয়েকটি ইরানি জাহাজ পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ছিল জ্বালানিবাহী ট্যাংকার ও কনটেইনারবাহী জাহাজ। সোমবার সকালেও নতুন একটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ওই পথে প্রবেশ করে।

Strait of Hormuz crisis explained: What it means for global shipping

প্রযুক্তিগত সমস্যায় নজরদারি কঠিন

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় ব্যাপক সিগন্যাল বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ কঠিন হয়ে উঠেছে। ফলে কোন জাহাজ কোথায় অবস্থান করছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক পরিবহন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও গত সপ্তাহে জাহাজ চলাচল আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে, তবুও তা যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় অনেক কম।

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত গুরুত্ব অনেক বেশি। এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। তাই এখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে কয়েকটি বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ চীন, ওমান ও জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেছে বলে জানা গেছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য খাত পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখছে।