আসন্ন জাতীয় বাজেটে ইস্পাতপণ্য, বিশেষ করে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রডের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব আসতে পারে। উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান নির্দিষ্ট ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে দেশের ইস্পাত শিল্পে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে যখন নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে মন্দাভাবের কারণে রডের চাহিদা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে নতুন করের চাপ বাজারকে আরও দুর্বল করতে পারে।
কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে
প্রস্তাব অনুযায়ী, পুনঃপ্রক্রিয়াজাত স্ক্র্যাপ থেকে তৈরি এমএস পণ্যের ওপর বর্তমানে প্রতি টনে যে নির্দিষ্ট ভ্যাট রয়েছে, তা বাড়ানো হতে পারে। একইভাবে বিলেট, ইনগট এবং এসব কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন ইস্পাতপণ্যের ক্ষেত্রেও কর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতি টনে ১৫০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব প্রস্তাব অর্থ বিলের মাধ্যমে নতুন বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
শিল্প খাতের উদ্বেগ
ইস্পাত শিল্পের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন ভ্যাট বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নির্মাণকাজের গতি কমে যাওয়ায় রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা তীব্রভাবে কমেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন খরচের কাছাকাছি বা কখনও তারও নিচে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপ করা হলে বাজারে চাহিদা আরও সংকুচিত হতে পারে এবং উৎপাদকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে।

রডের বাজারে কী হচ্ছে
চলতি বছরের শুরুতে প্রতি টন রডের দাম ৮০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে ছিল। তবে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং কাঁচামালের বাজারে প্রভাব পড়ায় পরে দাম বাড়তে শুরু করে।
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন মানের রড ৮৫ হাজার থেকে ৯২ হাজার টাকা প্রতি টনে বিক্রি হচ্ছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সরকারের অবস্থান
রাজস্ব প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, প্রস্তাবিত ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে প্রতি টনে অতিরিক্ত যে ব্যয় যুক্ত হবে, তা মোট বাজারদামের তুলনায় খুব বেশি নয়। তাদের ধারণা, এর প্রভাব খুচরা দামে সীমিত থাকবে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু করের অঙ্ক নয়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করাও জরুরি। কারণ চাহিদা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যে খাতটিকে চাপে ফেলেছে।

চাহিদা কমেছে এক-তৃতীয়াংশ
দেশে বর্তমানে প্রায় ২০০টি ইস্পাত কারখানা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এর মধ্যে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। বছরে কয়েক কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বাজারের প্রকৃত চাহিদা এখন আগের তুলনায় অনেক কম।
শিল্পসংশ্লিষ্টদের দাবি, আবাসন খাতে ধীরগতি, বেসরকারি নির্মাণকাজে স্থবিরতা, উচ্চ সুদের হার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রডের চাহিদা প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। ফলে নতুন ভ্যাট বৃদ্ধি হলে খাতটি আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















