কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় একটি বিরল প্রজাতির লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটি স্থানীয়ভাবে ‘লজ্জাবতী বানর’ নামে পরিচিত। বর্তমানে প্রাণীটি বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হলে উপযুক্ত আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সীমান্তসংলগ্ন বৈদ্যেরখিল এলাকায় প্রাণীটিকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে এক বাসিন্দা সেটিকে নিরাপদে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। খবর পেয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
চিকিৎসার জন্য হস্তান্তর
উদ্ধারের পর প্রাণীটিকে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার সকালে সেটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নেওয়া হয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি বিদ্যুতের আঘাতে আহত হয়ে থাকতে পারে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে প্রাণীটিকে আবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে
পরে প্রাণীটিকে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে লজ্জাবতী বানরটি সুস্থতার পথে রয়েছে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাণীটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলে তার জন্য উপযোগী প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে, যাতে এটি স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারে।

বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী
লজ্জাবতী বানর বাংলাদেশের অত্যন্ত বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর মধ্যে অন্যতম। নিশাচর স্বভাবের এই প্রাণী সাধারণত ঘন বনাঞ্চলে বসবাস করে এবং মানুষের চোখে খুব কমই ধরা পড়ে। ফলে কুমিল্লার মতো এলাকায় এ ধরনের প্রাণী উদ্ধার হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিরল প্রাণী দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাদের নিরাপদে উদ্ধার ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়। কুমিল্লার এই ঘটনাও সেই সচেতনতার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















