যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কিছু অভিবাসন নীতি বাতিল করে দিয়েছে, যেগুলোর কারণে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন, কাজের অনুমতি, স্থায়ী বসবাসের অনুমোদন এবং নাগরিকত্বসংক্রান্ত আবেদন দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে ছিল।
শুক্রবার দেওয়া এক রায়ে আদালত জানায়, সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো আইনগত ভিত্তি ছাড়াই কার্যকর করা হয়েছিল এবং এর ফলে হাজারো আবেদনকারী মাসের পর মাস কোনো সিদ্ধান্ত না পেয়ে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন।
দীর্ঘ অপেক্ষায় আবেদনকারীরা
রায়ে বলা হয়, আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও তাদের আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হচ্ছিল না। এর ফলে আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশের নাগরিক কার্যত একটি অনির্দিষ্ট আইনি অবস্থায় আটকে পড়েন।
আদালতের মতে, আবেদনকারীদের কোনো ভুল বা অনিয়মের কারণে নয়, বরং তারা কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছেন—শুধু সেই কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ
রায়ে বিচারক মন্তব্য করেন, সরকারি সংস্থাগুলোকে আইন অনুযায়ী কাজ করতে হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ধরনের অভিবাসীবিরোধী মনোভাব প্রভাব ফেলতে পারে না। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং বিদ্যমান অভিবাসন আইন যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি।
আদালত আরও উল্লেখ করে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও সেই নীতির ভিত্তিতেই নিতে হবে।
কেন নেওয়া হয়েছিল এই পদক্ষেপ
গত বছরের একটি সহিংস ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেয়। পরে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
এই তালিকায় আফগানিস্তান, ইরান, হাইতি, সোমালিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ছিল। প্রশাসনের দাবি ছিল, জাতীয় নিরাপত্তা এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া জোরদার করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এসব নীতির কারণে অসংখ্য মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থমকে যায় এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হন।
অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
রায়টিকে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বড় বিজয় হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া বা জন্মভূমির ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক আচরণ করা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এটি অভিবাসন আবেদনকারীদের জন্য নতুন আশার বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















