ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার ভোরে হওয়া এই হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র শেষ হয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো সম্ভব হয়নি।
এক রাতে ৩৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৮৫টি ড্রোন
জেলেনস্কির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া একযোগে ৩৫টি ক্ষেপণাস্ত্র, যার মধ্যে ২৭টি ছিল ব্যালিস্টিক, এবং ১৮৫টি ড্রোন ছুড়ে দেয়। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র মানুষের জীবন বাঁচায়। এগুলোর ঘাটতি থাকলে হতাহতের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।
কিয়েভজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ
হামলার ফলে কিয়েভের অন্তত সাতটি জেলায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৮টি আবাসিক ভবন, একটি বিদ্যালয়, লিথুয়ানিয়ার দূতাবাস এবং বিভিন্ন অবকাঠামো।
ইউক্রেনের প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের দারনিৎসকি জেলায় সাতজন এবং সোলোমিয়ানস্কি জেলায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন। কিয়েভ অঞ্চলে পৃথক হামলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে, যাদের শরীরে ধাতব টুকরা ঢুকে গুরুতর জখম হয়েছে।
আতঙ্কের রাত
৬৮ বছর বয়সী কিয়েভের এক বাসিন্দা নাদিয়া কোমারোভা জানান, রাত দেড়টার দিকে সাইরেন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণের শব্দ শুরু হয়।
তার ভাষায়, বিস্ফোরণের আঘাতে ভবনের ছাদ ভেঙে পড়তে শুরু করে এবং জানালার কাচ ভেঙে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের নতুন আবেদন

রাশিয়ার হামলা ক্রমেই তীব্র হওয়ায় কিয়েভে আরও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো।
এদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা দ্রুত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, আকাশসীমার নিরাপত্তাই এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যত শক্তিশালী হবে, শান্তির সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
পাল্টা হামলার দাবিও ইউক্রেনের
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের তিনটি তেল শোধনাগারসহ যুদ্ধ পরিচালনায় সহায়ক বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
যুদ্ধ এখন প্রায় পাঁচ বছরে গড়িয়েছে। প্রায় এক হাজার দুইশ কিলোমিটার দীর্ঘ যুদ্ধরেখাজুড়ে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলেও চলতি বছরে রাশিয়ার স্থল অগ্রগতির গতি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় পক্ষই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মুখে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আসায় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















