সংস্কারের ত্রুটি, নাকি ভাঙচুর? হোয়াইট হাউস ও বিচার বিভাগের অবস্থান এখন মুখোমুখি
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুলকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যেই প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছেন, জলাধারের ক্ষতির মূল কারণ ছিল ‘ভাঙচুর’, নির্মাণগত ত্রুটি নয়।
বিচার বিভাগের প্রতিবেদনে ভিন্ন চিত্র
শুক্রবার আদালতে দাখিল করা এক নথিতে ওয়াশিংটন ডিসির মার্কিন অ্যাটর্নি জিনিন পিরো এবং সহকারী অ্যাটর্নি মাইকেল স্পেন্স জানান, নতুন প্রাপ্ত সরকারি নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জলাধারের আস্তরণ বসানোর কাজ তাড়াহুড়ো করে এবং ত্রুটিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। স্থাপনের সময় থেকেই একাধিকবার আস্তরণ উঠে যাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং পরে বিভিন্ন স্থানে তা আরও খসে পড়ে।
এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন ৬৭ বছর বয়সী সাবেক অলিম্পিয়ান ডেভিড হার্নের বিরুদ্ধে দায়ের করা ভাঙচুরের মামলা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়।

ট্রাম্পের স্পষ্ট আপত্তি
শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, তিনি বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে “শতভাগ একমত নন”। তাঁর ভাষায়, “এটি সম্পূর্ণ ভাঙচুরের ঘটনা।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ঠিকাদারি কাজে কিছু সমস্যা থাকলেও জলাধারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে ভাঙচুরের কারণেই।
সংস্কারের পরই দেখা দেয় সমস্যা
প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই রিফ্লেক্টিং পুলের পানিতে শৈবাল জন্মাতে শুরু করে। ফলে পানির রং সবুজ হয়ে যায় এবং নীল রঙের প্রতিরক্ষামূলক আস্তরণ বিভিন্ন স্থানে উঠে যেতে থাকে।
এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার অভিযোগ করে আসছিলেন যে, দুর্বৃত্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকল্পটি নষ্ট করেছে।
ভিডিও প্রকাশ করেও দাবি পুনর্ব্যক্ত
পরবর্তী এক পোস্টে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের পার্ক পুলিশের পূর্বে প্রকাশিত একটি ভিডিও শেয়ার করেন। তাঁর দাবি, ভিডিওতে ভাঙচুরের দৃশ্য দেখা যায়।
তবে ভিডিওটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে না যে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা আস্তরণ খুলে ফেলছিলেন, নাকি আগে থেকেই খসে পড়া অংশগুলো সরিয়ে নিচ্ছিলেন।
বিতর্ক আরও বাড়তে পারে
বিচার বিভাগের সর্বশেষ অবস্থান এবং প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য বিরোধিতায় বিষয়টি এখন নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। জলাধারের ক্ষতির প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেই মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এদিকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















