০২:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
চিকিৎসার গতি নয়, প্রয়োজন মানবিক গভীরতা নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্কে আস্থার সংকট: কৌশলগত অংশীদারত্ব কি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করছে? চট্টগ্রাম কারাগার চার ভাগের পরিকল্পনা, অতিরিক্ত বন্দির চাপ কমাতে নতুন ভাবনা মাদারীপুরে বাসচাপায় আড়াই বছরের শিশুর মৃত্যু, মহাসড়ক অবরোধে দীর্ঘ যানজট সীমান্তে পুশইন ব্যর্থ, তিন দিন পর ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধস, চিপ শেয়ারের পতনে কেঁপে উঠল প্রযুক্তি খাত ট্রাম্প জামাতার রিসোর্ট প্রকল্পে ক্ষোভ, বিক্ষোভে উত্তাল আলবেনিয়া হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা: ইরানের ড্রোনের জবাবে উপকূলে মার্কিন হামলা ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে মার্কিন পাল্টা আঘাত, হরমুজ প্রণালিতে নতুন উত্তেজনা সাহারা মরুভূমিতে ট্রাক বিকল, তৃষ্ণায় প্রাণ গেল ৪৯ যাত্রীর

পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক অনিশ্চিত, শান্তি আলোচনায় নতুন করে দেখা দিল অচলাবস্থা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর মধ্যেই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার ভিত্তি তৈরি না করে শুধু বৈঠক করলেই যুদ্ধের সমাধান হবে না।

সম্প্রতি জেলেনস্কি একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা শান্তি চায়।

বৈঠকের আগে চুক্তির ওপর জোর পুতিনের

এক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, জেলেনস্কির চিঠি আন্তরিক আলোচনার প্রস্তাব হিসেবে তাঁর কাছে মনে হয়নি। বরং এতে এমন কিছু মন্তব্য ছিল যা আলোচনার পরিবেশ তৈরির বদলে দূরত্ব বাড়াতে পারে।

পুতিনের ভাষ্য, দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞদের আগে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের খসড়া তৈরি করতে হবে। সেই ভিত্তি তৈরি হলে পরে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কয়েক মাসের জন্য নয়, স্থায়ী ও টেকসই সমঝোতাই প্রয়োজন।

গোয়েন্দা প্রধান বুদানোভকে নিজ দপ্তরের প্রধান করলেন জেলেনস্কি | আন্তর্জাতিক  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

জেলেনস্কির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

পুতিনের মন্তব্যের পর জেলেনস্কি বলেন, এই প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে রুশ নেতৃত্ব এখনো যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী নয়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই এই অবস্থানে হতাশ হবে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে আসে।

যুদ্ধ বন্ধে অবস্থানগত দূরত্ব

দুই দেশের মধ্যে মূল বিরোধ এখনো অমীমাংসিত। ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা পূর্বাঞ্চলের ডনবাস এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। একই সঙ্গে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ওপর মস্কোর সার্বভৌমত্ব কখনো স্বীকৃতি দেবে না।

অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের বাহিনী অগ্রগতি অর্জন করছে এবং ইউক্রেনকে বাস্তবতা মেনে সমঝোতায় আসতে হবে।

অর্থনীতি ও যুদ্ধের চাপ

Five killed in large Russian missile and drone attack, Zelensky says - BBC  News

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রভাব এখন রাশিয়ার অর্থনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে দেশটির ব্যবসায়ী মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও শান্তি চুক্তির পক্ষে মত শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নিয়ে বিতর্ক চললেও বাস্তবে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে, বিশেষ করে জ্বালানি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসার গতি নয়, প্রয়োজন মানবিক গভীরতা

পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক অনিশ্চিত, শান্তি আলোচনায় নতুন করে দেখা দিল অচলাবস্থা

১১:৫৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর মধ্যেই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকের কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার ভিত্তি তৈরি না করে শুধু বৈঠক করলেই যুদ্ধের সমাধান হবে না।

সম্প্রতি জেলেনস্কি একটি খোলা চিঠির মাধ্যমে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানি সংকটে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং তারা শান্তি চায়।

বৈঠকের আগে চুক্তির ওপর জোর পুতিনের

এক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, জেলেনস্কির চিঠি আন্তরিক আলোচনার প্রস্তাব হিসেবে তাঁর কাছে মনে হয়নি। বরং এতে এমন কিছু মন্তব্য ছিল যা আলোচনার পরিবেশ তৈরির বদলে দূরত্ব বাড়াতে পারে।

পুতিনের ভাষ্য, দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞদের আগে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের খসড়া তৈরি করতে হবে। সেই ভিত্তি তৈরি হলে পরে শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কয়েক মাসের জন্য নয়, স্থায়ী ও টেকসই সমঝোতাই প্রয়োজন।

গোয়েন্দা প্রধান বুদানোভকে নিজ দপ্তরের প্রধান করলেন জেলেনস্কি | আন্তর্জাতিক  | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)

জেলেনস্কির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

পুতিনের মন্তব্যের পর জেলেনস্কি বলেন, এই প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে যে রুশ নেতৃত্ব এখনো যুদ্ধ বন্ধ করতে আগ্রহী নয়। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই এই অবস্থানে হতাশ হবে।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা কমে আসে।

যুদ্ধ বন্ধে অবস্থানগত দূরত্ব

দুই দেশের মধ্যে মূল বিরোধ এখনো অমীমাংসিত। ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা পূর্বাঞ্চলের ডনবাস এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। একই সঙ্গে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের ওপর মস্কোর সার্বভৌমত্ব কখনো স্বীকৃতি দেবে না।

অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে, যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের বাহিনী অগ্রগতি অর্জন করছে এবং ইউক্রেনকে বাস্তবতা মেনে সমঝোতায় আসতে হবে।

অর্থনীতি ও যুদ্ধের চাপ

Five killed in large Russian missile and drone attack, Zelensky says - BBC  News

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রভাব এখন রাশিয়ার অর্থনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে দেশটির ব্যবসায়ী মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে। ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও শান্তি চুক্তির পক্ষে মত শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা নিয়ে বিতর্ক চললেও বাস্তবে সংঘাত কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে, বিশেষ করে জ্বালানি ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও উত্তেজনা আরও বেড়েছে।