মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ড্রোন হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে এবং শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালির দিকে চারটি ড্রোন পাঠিয়েছিল, যেগুলো আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলকে লক্ষ্য করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার পর ইরানের উপকূলবর্তী দুটি নজরদারি কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত উপসাগর
ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা কয়েকটি তেলবাহী জাহাজের দিকেও গুলি ছোড়ার দাবি করেছে তারা।

এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে বলে জানানো হয়েছে। বাহরাইনে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। যদিও মার্কিন বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের ছোড়া বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।
শান্তি আলোচনার পথ আরও কঠিন
প্রায় তিন মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার জন্য পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ। তবে সামরিক উত্তেজনা বারবার সেই প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
ইরান চায় তাদের তেল আয় ব্যবহারের সুযোগ, রপ্তানি নিষেধাজ্ঞায় ছাড় এবং বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতেও আগ্রহী তেহরান। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তেলের বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ
![]()
সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব খাদ্য সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অধিকাংশ সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশটির হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে। তিনি মনে করেন, ইরান শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে আসতে বাধ্য হবে, যদিও সেই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে।
লেবাননেও সংঘর্ষ অব্যাহত
একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও উত্তেজনা কমেনি। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষই হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে।
ইরান হিজবুল্লাহর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর দক্ষিণ লেবানন থেকে প্রত্যাহারকে যেকোনো আঞ্চলিক সমঝোতার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত এখন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, যা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি, লেবানন এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে একযোগে বাড়তে থাকা উত্তেজনা আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















