ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনইইটি) প্রশ্নফাঁস বিতর্ককে কেন্দ্র করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
শনিবার সকালে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়। সংগঠনটির দাবি, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দায় নির্ধারণ, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে নেতৃত্ব
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে পৌঁছান। তিনি নিজেই বিক্ষোভ কর্মসূচির নেতৃত্ব দিতে ভারতে আসেন। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পুলিশ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাকে সরাসরি কর্মসূচির স্থানে যাওয়ার অনুমতি দেন বলে জানা গেছে।
এর আগে দিপকে সমর্থকদের সংসদ মার্গ থানার সামনে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পর তিনি সবাইকে যন্তর মন্তরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
বিমানবন্দরে তাকে ভারতের সংবিধানের প্রধান স্থপতি ড. বি.আর. আম্বেদকরের আত্মজীবনীর একটি কপি হাতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
বিক্ষোভকে ঘিরে কেন্দ্রীয় দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিতরণ করা একটি লিফলেটে বলা হয়, আন্দোলনের লক্ষ্য হলো প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আদায় করা। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, এ দাবির সমর্থনে পরিচালিত একটি অনলাইন আবেদনে ইতোমধ্যে আট লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
ডিজিটাল আন্দোলন থেকে আলোচনায়
‘ককরোচ জনতা পার্টি’ মূলত একটি ব্যঙ্গধর্মী ডিজিটাল আন্দোলন হিসেবে গত ১৬ মে যাত্রা শুরু করে। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অভিজিৎ দিপকে এই প্ল্যাটফর্ম চালু করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুরু হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং বড় অনুসারী গোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হয়। সাম্প্রতিক এনইইটি প্রশ্নফাঁস বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তাদের এই কর্মসূচি নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















