১২:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
বিশের কোঠার তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে ভ্যাসেকটমির প্রবণতা? রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজে মালিতে সামরিক যান পাঠানো, বাড়ছে মস্কোর প্রভাব একা থাকা মানেই একাকীত্ব নয়: বদলে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের জীবনদর্শন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবৈধ ক্রিপ্টো মাইনিং: বিদ্যুৎ চুরি, অপরাধচক্র ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বাড়তি চাপ যুক্তরাষ্ট্রে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়ছে সাইবার হামলার ঝুঁকি, সতর্ক করল সরকারি সংস্থা স্পেসএক্সের প্রথম আয় ঘোষণার আগে চাঁদ-মঙ্গল নয়, গোলাপি রকেট নিয়েই বিনিয়োগকারীদের কৌতূহল রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১০; প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার দাবি ইউক্রেনের আগুনের ঝুঁকিতে ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পিং সংস্কৃতি, বদলে যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন অবকাশের চিত্র ব্যক্তিগত ইকুইটি পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ট্রাম্পের ‘অগ্রগতির’ ঘোষণার পরও গাজায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ৪

ব্যাংকককে ঘিরে নতুন বন্যা সতর্কতা, ২০৩০-৩৪ সালকে উচ্চ ঝুঁকির সময় বলছেন বিশেষজ্ঞরা

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক আগামী দশকের শুরুতেই আরেকটি বড় বন্যার মুখোমুখি হতে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছেন দেশটির জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ২০৩০ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে, বিশেষ করে ২০৩১ সালে, বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে যদি দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার না করা হয়।

এই আশঙ্কা সামনে রেখে থাই সিনেটের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিটি “ব্যাংকক ২০৩০-২০৩৪: দ্য নেক্সট গ্রেট ফ্লাড” শীর্ষক এক ফোরামের আয়োজন করে। সেখানে ২০১১ সালের বিধ্বংসী বন্যা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ভবিষ্যতের আরও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

২০১১ সালের অভিজ্ঞতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১১ সালের বন্যা থাইল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল। এতে ১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন বাহতের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপকমিটির সদস্য সোমকিয়াত প্রাজামওং বলেন, প্রাকৃতিক ঝুঁকি যখন ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে মিলিত হয়, তখনই বিপর্যয়ের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, আগে যেখানে চাও ফ্রায়া নদী অববাহিকায় বড় বন্যা কয়েক দশকে একবার দেখা যেত, এখন তা প্রায় প্রতি বছরই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ বড় ভূমিকা রাখছে।

কেন ঝুঁকিতে ব্যাংকক

ব্যাংককের ভৌগোলিক অবস্থানই শহরটিকে বন্যার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। শহরটির অধিকাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র শূন্য থেকে দুই মিটার উঁচু। পাশাপাশি ভূমি ধসে যাওয়ার প্রবণতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত নগর সম্প্রসারণের ফলে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ সংকুচিত হয়েছে। সড়ক, ভবন ও নতুন বসতি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনকে কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, চাও ফ্রায়া নদীর নিম্নাঞ্চলে পানির প্রবাহ ধীর হওয়ায় সংকটের সময় পানি দ্রুত সাগরে পৌঁছাতে পারে না।

2010–2011 Queensland floods - Wikipedia

তিন ধরনের পানির হুমকি

ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসনের ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ বিভাগের পরিচালক জেসাদা জান্তারাপ্রাভা জানান, শহরটির বন্যা ঝুঁকি মূলত তিন উৎস থেকে আসে—উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি, জলোচ্ছ্বাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত। বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বৃষ্টিপাত, বিশেষ করে আকস্মিক অতি ভারী বর্ষণ বা ‘রেইন বম্ব’ এবং নগর তাপদ্বীপ প্রভাবের কারণে।

অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ

ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকক প্রশাসন নদীতীরবর্তী বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, বৃহৎ ড্রেনেজ টানেল এবং ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে চারটি বিশাল ড্রেনেজ টানেল চালু হয়েছে এবং আরও একটি প্রকল্প পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। শহরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন সক্ষমতাও প্রতি ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার থেকে ৮০ মিলিমিটারে উন্নীত করা হয়েছে।

এছাড়া ৩০০টির বেশি স্থানে স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং তিন ঘণ্টা আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে সক্ষম আবহাওয়া রাডার স্থাপন করা হয়েছে। ২০২২ সালের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি চাপ

রাংসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ কেন্দ্রের পরিচালক সেরি সুপ্রাটিড জানান, ছয় মাসে সঞ্চিত বৃষ্টিপাত ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও প্রতি বছর ১ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে চাও ফ্রায়া অববাহিকায় বন্যার পানির পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তিনি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, নমনীয় অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ বন্যা মোকাবিলার তিনটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, শুধু বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ যথেষ্ট নয়; বৃহৎ জলরাশির চাপ সামলাতে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশের কোঠার তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে ভ্যাসেকটমির প্রবণতা?

ব্যাংকককে ঘিরে নতুন বন্যা সতর্কতা, ২০৩০-৩৪ সালকে উচ্চ ঝুঁকির সময় বলছেন বিশেষজ্ঞরা

০৬:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক আগামী দশকের শুরুতেই আরেকটি বড় বন্যার মুখোমুখি হতে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছেন দেশটির জলবায়ু ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ২০৩০ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে, বিশেষ করে ২০৩১ সালে, বড় ধরনের বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে যদি দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদার না করা হয়।

এই আশঙ্কা সামনে রেখে থাই সিনেটের পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিটি “ব্যাংকক ২০৩০-২০৩৪: দ্য নেক্সট গ্রেট ফ্লাড” শীর্ষক এক ফোরামের আয়োজন করে। সেখানে ২০১১ সালের বিধ্বংসী বন্যা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ভবিষ্যতের আরও চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।

২০১১ সালের অভিজ্ঞতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১১ সালের বন্যা থাইল্যান্ডের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছিল। এতে ১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন বাহতের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপকমিটির সদস্য সোমকিয়াত প্রাজামওং বলেন, প্রাকৃতিক ঝুঁকি যখন ঘনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে মিলিত হয়, তখনই বিপর্যয়ের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।

তিনি আরও জানান, আগে যেখানে চাও ফ্রায়া নদী অববাহিকায় বড় বন্যা কয়েক দশকে একবার দেখা যেত, এখন তা প্রায় প্রতি বছরই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। এর পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ বড় ভূমিকা রাখছে।

কেন ঝুঁকিতে ব্যাংকক

ব্যাংককের ভৌগোলিক অবস্থানই শহরটিকে বন্যার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে। শহরটির অধিকাংশ এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র শূন্য থেকে দুই মিটার উঁচু। পাশাপাশি ভূমি ধসে যাওয়ার প্রবণতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্রুত নগর সম্প্রসারণের ফলে প্রাকৃতিক জলপ্রবাহের পথ সংকুচিত হয়েছে। সড়ক, ভবন ও নতুন বসতি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনকে কঠিন করে তুলছে। অন্যদিকে, চাও ফ্রায়া নদীর নিম্নাঞ্চলে পানির প্রবাহ ধীর হওয়ায় সংকটের সময় পানি দ্রুত সাগরে পৌঁছাতে পারে না।

2010–2011 Queensland floods - Wikipedia

তিন ধরনের পানির হুমকি

ব্যাংকক মেট্রোপলিটন প্রশাসনের ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ বিভাগের পরিচালক জেসাদা জান্তারাপ্রাভা জানান, শহরটির বন্যা ঝুঁকি মূলত তিন উৎস থেকে আসে—উত্তরাঞ্চল থেকে নেমে আসা পানি, জলোচ্ছ্বাস এবং ভারী বৃষ্টিপাত। বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বৃষ্টিপাত, বিশেষ করে আকস্মিক অতি ভারী বর্ষণ বা ‘রেইন বম্ব’ এবং নগর তাপদ্বীপ প্রভাবের কারণে।

অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ

ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংকক প্রশাসন নদীতীরবর্তী বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ, বৃহৎ ড্রেনেজ টানেল এবং ভূগর্ভস্থ পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে চারটি বিশাল ড্রেনেজ টানেল চালু হয়েছে এবং আরও একটি প্রকল্প পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। শহরের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন সক্ষমতাও প্রতি ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার থেকে ৮০ মিলিমিটারে উন্নীত করা হয়েছে।

এছাড়া ৩০০টির বেশি স্থানে স্বয়ংক্রিয় পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং তিন ঘণ্টা আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিতে সক্ষম আবহাওয়া রাডার স্থাপন করা হয়েছে। ২০২২ সালের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এসব ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি চাপ

রাংসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ কেন্দ্রের পরিচালক সেরি সুপ্রাটিড জানান, ছয় মাসে সঞ্চিত বৃষ্টিপাত ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাও প্রতি বছর ১ দশমিক ৩ থেকে ২ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে চাও ফ্রায়া অববাহিকায় বন্যার পানির পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

তিনি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, নমনীয় অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ বন্যা মোকাবিলার তিনটি প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, শুধু বন্যা প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ যথেষ্ট নয়; বৃহৎ জলরাশির চাপ সামলাতে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।