১২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬
টম হল্যান্ডের ‘সেরা’ স্পাইডার-ম্যান? নতুন সিনেমায় মুগ্ধ দর্শক, প্রশংসায় ভাসছেন জেনডায়াও বিশের কোঠার তরুণদের মধ্যে কেন বাড়ছে ভ্যাসেকটমির প্রবণতা? রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজে মালিতে সামরিক যান পাঠানো, বাড়ছে মস্কোর প্রভাব একা থাকা মানেই একাকীত্ব নয়: বদলে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের জীবনদর্শন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবৈধ ক্রিপ্টো মাইনিং: বিদ্যুৎ চুরি, অপরাধচক্র ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বাড়তি চাপ যুক্তরাষ্ট্রে পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়ছে সাইবার হামলার ঝুঁকি, সতর্ক করল সরকারি সংস্থা স্পেসএক্সের প্রথম আয় ঘোষণার আগে চাঁদ-মঙ্গল নয়, গোলাপি রকেট নিয়েই বিনিয়োগকারীদের কৌতূহল রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাঁপল কিয়েভ, নিহত অন্তত ১০; প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে যাওয়ার দাবি ইউক্রেনের আগুনের ঝুঁকিতে ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পিং সংস্কৃতি, বদলে যাচ্ছে গ্রীষ্মকালীন অবকাশের চিত্র ব্যক্তিগত ইকুইটি পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মার্কিন ঋণবাজারে ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারের চাপ, কেন উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে

বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণপত্র। বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ছিল নিরাপদ আশ্রয়, আর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার অসংখ্য চুক্তি ও সম্পদের মূল্য নির্ধারণেও এর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বাজারে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অর্থনৈতিক মহলে।

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণ ১২৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এই বিপুল ঋণের বিপরীতে চাহিদা একই গতিতে বাড়েনি। বিশেষ করে বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় বাজারের বড় অংশ এখন বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও ঝুঁকিপূর্ণ তহবিলগুলোর হাতে চলে যাচ্ছে।

নিরাপদ সম্পদের মর্যাদা কি ঝুঁকিতে?

অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে মার্কিন সরকারি ঋণপত্রকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হতো। তবে ২০২১ সালের পর মূল্যস্ফীতির পুনরুত্থান সেই ধারণায় পরিবর্তন এনেছে। আগে শেয়ারবাজারে পতন হলে সরকারি ঋণপত্রের দাম বাড়ত। এখন অনেক ক্ষেত্রে দুই বাজারই একসঙ্গে চাপের মুখে পড়ছে।

ফলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানোর যে ঐতিহ্যগত উপায় ছিল, তা আগের মতো কার্যকর থাকছে না। এতে সরকারি ঋণপত্রের বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদেশি ক্রেতাদের অনীহা

মার্কিন বাণিজ্যনীতি এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন ধরনের সতর্কতা তৈরি করেছে। অনেক দেশ এখন দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি হিসাব-নিকাশ করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় তহবিল যখন বিকল্প খুঁজছে, তখন মার্কিন ঋণবাজারকে আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ওপর। কিন্তু এই ধরনের বিনিয়োগকারীরা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত সরে যেতে পারে।

America's decaying Treasury market needs a fix

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে কঠিন পরীক্ষা

নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাজারকে স্থিতিশীল রাখা। একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা সরকারি ঋণপত্রের পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে সংকট দেখা দিলে আবার বাজারে হস্তক্ষেপ করার প্রস্তুতিও রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি বাজারে হঠাৎ তারল্য সংকট তৈরি হয়, তাহলে দ্রুত ও সীমিত পরিসরে হস্তক্ষেপের কৌশল প্রয়োজন হবে। কারণ বাজারকে স্থিতিশীল করতে নেওয়া পদক্ষেপ যেন অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উদ্দীপনা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না হয়।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন সরকারি ঋণবাজার শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক ঋণ, বিনিয়োগ এবং মুদ্রাবাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাই অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের অন্যতম বড় দায়িত্ব। অন্যথায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পরিচিত এই বাজারের অবস্থান ভবিষ্যতে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন সরকারি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চাহিদা কমা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনীহা ও বাজারঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টম হল্যান্ডের ‘সেরা’ স্পাইডার-ম্যান? নতুন সিনেমায় মুগ্ধ দর্শক, প্রশংসায় ভাসছেন জেনডায়াও

মার্কিন ঋণবাজারে ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারের চাপ, কেন উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে

০৭:৩৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণপত্র। বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি ছিল নিরাপদ আশ্রয়, আর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার অসংখ্য চুক্তি ও সম্পদের মূল্য নির্ধারণেও এর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই বাজারে যে পরিবর্তন ঘটছে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে অর্থনৈতিক মহলে।

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণের পরিমাণ ১২৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কিন্তু এই বিপুল ঋণের বিপরীতে চাহিদা একই গতিতে বাড়েনি। বিশেষ করে বিদেশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর আগ্রহ আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় বাজারের বড় অংশ এখন বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও ঝুঁকিপূর্ণ তহবিলগুলোর হাতে চলে যাচ্ছে।

নিরাপদ সম্পদের মর্যাদা কি ঝুঁকিতে?

অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে মার্কিন সরকারি ঋণপত্রকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হতো। তবে ২০২১ সালের পর মূল্যস্ফীতির পুনরুত্থান সেই ধারণায় পরিবর্তন এনেছে। আগে শেয়ারবাজারে পতন হলে সরকারি ঋণপত্রের দাম বাড়ত। এখন অনেক ক্ষেত্রে দুই বাজারই একসঙ্গে চাপের মুখে পড়ছে।

ফলে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমানোর যে ঐতিহ্যগত উপায় ছিল, তা আগের মতো কার্যকর থাকছে না। এতে সরকারি ঋণপত্রের বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদেশি ক্রেতাদের অনীহা

মার্কিন বাণিজ্যনীতি এবং আর্থিক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ব্যবহারও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন ধরনের সতর্কতা তৈরি করেছে। অনেক দেশ এখন দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি হিসাব-নিকাশ করছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্রীয় তহবিল যখন বিকল্প খুঁজছে, তখন মার্কিন ঋণবাজারকে আরও বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের ওপর। কিন্তু এই ধরনের বিনিয়োগকারীরা বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে দ্রুত সরে যেতে পারে।

America's decaying Treasury market needs a fix

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে কঠিন পরীক্ষা

নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধানের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাজারকে স্থিতিশীল রাখা। একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে থাকা সরকারি ঋণপত্রের পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে, অন্যদিকে সংকট দেখা দিলে আবার বাজারে হস্তক্ষেপ করার প্রস্তুতিও রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি বাজারে হঠাৎ তারল্য সংকট তৈরি হয়, তাহলে দ্রুত ও সীমিত পরিসরে হস্তক্ষেপের কৌশল প্রয়োজন হবে। কারণ বাজারকে স্থিতিশীল করতে নেওয়া পদক্ষেপ যেন অর্থনীতিতে অতিরিক্ত উদ্দীপনা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না হয়।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন সরকারি ঋণবাজার শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজারে আস্থার সংকট তৈরি হলে আন্তর্জাতিক ঋণ, বিনিয়োগ এবং মুদ্রাবাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাই অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের অন্যতম বড় দায়িত্ব। অন্যথায় বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পরিচিত এই বাজারের অবস্থান ভবিষ্যতে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন সরকারি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। চাহিদা কমা, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনীহা ও বাজারঝুঁকি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।