০৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: কুয়েত-বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে মে মাসে গণপিটুনিতে ৩১ জন নিহত, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী-শিশু ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইতিহাস গড়ার লড়াই: শিরোপার ফাইনালে মায়া চওয়ালিন্সকা ও মিরা আন্দ্রেয়েভা প্রবাসফেরত যুবককে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতারে অভিযান হাসিনার ১৭ বছরে যত বেড়েছিল, বিএনপির ৩ মাসেই ততটা বেড়েছে গ্যাসের দাম- এন সি পি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের জীবন সংকটে, ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় মেটে-মারিত হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৩ সিলেটে মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৫১ জনের, সর্বোচ্চ মৃত্যু এ বছর তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৩.৪১ শতাংশ পতন, ১১ মাসে আয় ৩৫.৩১ বিলিয়ন ডলার পঞ্চগড়ে সীমান্তে অচলাবস্থা: ৩৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিরো লাইনে আটকে ১০ জন

আমেরিকার জন্মদিনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ঘিরে রহস্য: কে ছাপিয়েছিল ঐতিহাসিক সেই দলিল? – নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠার অনেক আগে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ছিল একটি জরুরি বার্তা। প্রতিষ্ঠাতা নেতারা চেয়েছিলেন যত দ্রুত সম্ভব এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই, ফিলাডেলফিয়ার ইন্ডিপেনডেন্স হল থেকে ঘোষণাপত্রের পাঠ্য দ্রুত পাঠানো হয় মুদ্রাকর জন ডানলাপের ছাপাখানায়। তিনি রাতভর কাজ করে প্রায় ২০০ কপি ছাপান। এরপর চিঠি, সংবাদপত্র এবং বড় আকারের একপাতার মুদ্রণ—যা ‘ব্রডসাইড’ নামে পরিচিত—এর মাধ্যমে দলিলটির ভাষা উপনিবেশগুলোতে এবং তার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল প্রাথমিক কপিগুলো প্রদর্শন করছে। তবে নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল (পূর্বে নিউ-ইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি) একটি ভিন্ন প্রশ্নকে সামনে এনেছে—আসলে এই কপিটি কে ছাপিয়েছিল?

প্রতিষ্ঠানটির সংগ্রহে বহু বছর ধরে একটি বিরল ব্রডসাইড সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে কোনো মুদ্রাকরের নাম নেই। এমন কপির সংখ্যা খুবই কম। ১৮ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত এটি প্রথমবারের মতো জনসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ধারণা দিচ্ছে যে এটি সম্ভবত নিউ ইয়র্কের মুদ্রাকর স্যামুয়েল লাউডন ছাপিয়েছিলেন।

ক্ষুদ্র মুদ্রণচিহ্নে বড় সূত্র

এই দাবির ভিত্তি হলো দলিলটির সূক্ষ্ম টাইপোগ্রাফিক বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষণ। তবে নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুইস মিরারের মতে, বিষয়টি কেবল লাউডনকে চিহ্নিত করা নয়। বরং স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

ঘোষণাপত্র রচয়িতা ও অনুমোদনকারী নেতাদের পাশাপাশি মুদ্রাকররাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আবার এই ধরনের ছাপানো কপি থেকে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হলে জনতাও সেই আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠে।

মিরারের ভাষায়, “ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির যে সম্মিলিত উন্মাদনা ছিল, তার মধ্যে সবাইকে যুক্ত করাই ছিল মূল বিষয়।”

রহস্যময় কপিটির ইতিহাস

নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম জাদুঘর হিসেবে পরিচয় দেওয়া নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০৪ সালে। এটি গড়ে তুলেছিলেন এমন কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি, যারা আমেরিকান বিপ্লবের অস্থির সময় প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

অজ্ঞাত মুদ্রাকরের এই ব্রডসাইডটি কখন বা কীভাবে সংগ্রহে এসেছে, তা জানা যায় না। তবে অন্তত ১৯৪৯ সাল থেকে এটি সেখানে রয়েছে। ওই বছর বেঁচে থাকা প্রাথমিক ব্রডসাইডগুলোর প্রথম গবেষণাভিত্তিক তালিকায় এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

বর্তমানে গবেষকেরা ১৭৭৬ সালের জুলাই ও আগস্টে উপনিবেশগুলোর বিভিন্ন ছাপাখানায় মুদ্রিত প্রায় ১৭টি স্বতন্ত্র ব্রডসাইড সংস্করণ শনাক্ত করেছেন। সাধারণত প্রতিটি সংস্করণের শত শত কপি ছাপা হয়েছিল।

নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের কপিটি বিশেষ কারণ এটি এমন কয়েকটি সংস্করণের একটি, যেখানে কোনো মুদ্রাকরের নাম নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ সংস্করণের একমাত্র টিকে থাকা কপি এটিই।

স্বাধীন গবেষক ও ইতিহাসবিদ এমিলি স্নেফের মতে, “শুধু টিকে থাকার কারণেই এর অসাধারণ মূল্য রয়েছে। এই ব্রডসাইডগুলো ২৫০ বছর টিকে থাকার জন্য ছাপা হয়নি; এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দেওয়া।”

তদন্ত শুরু

বহু বছর এই ব্রডসাইড গবেষকদের বিশেষ মনোযোগ পায়নি। তবে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাদুঘরের নতুন ‘ট্যাং উইং ফর আমেরিকান ডেমোক্রেসি’ উদ্বোধনের প্রস্তুতির সময় প্রায় এক বছর আগে তদন্ত শুরু হয়।

গ্রন্থাগার গবেষণা বিভাগের পরিচালক নিনা নাজিওনালে প্রতিষ্ঠানের নথি ও পুরোনো প্রকাশনাগুলো খুঁজে দেখেন। তিনি ব্রিটেনে রাজা তৃতীয় জর্জের দলিলপত্রসহ বিভিন্ন আর্কাইভেও অনুসন্ধান চালান, যদি কোথাও আরেকটি কপি পাওয়া যায়।

কিন্তু নতুন কোনো কপি মেলেনি। ফলে গবেষকদের ভরসা করতে হয় দলিলটির নিজস্ব ক্ষুদ্র বৈশিষ্ট্যের ওপর।

কেন সন্দেহের তীর লাউডনের দিকে?

এই ব্রডসাইডটি দুই কলামে সাজানো, যা ডানলাপের মূল সংস্করণসহ অধিকাংশ পরিচিত কপির তুলনায় আলাদা।

কাগজে ডাচ কাগজ প্রস্তুতকারক এ. রোগের জলছাপ রয়েছে। এতে ধারণা করা হয় এটি ব্রিটেনে ছাপা হয়নি। কারণ ব্রিটিশ কিছু মুদ্রাকর ঘোষণাপত্রের “tyrant” বা “অত্যাচারী” শব্দটি বাদ দিয়েছিলেন।

দলিলটির নিচে কেবল দুজনের মুদ্রিত স্বাক্ষর রয়েছে—কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসের সভাপতি জন হ্যানকক এবং সচিব চার্লস থমসন।

গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর একটি হলো “secretary” শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ “sec’ry” ব্যবহার। জায়গা বাঁচানোর প্রয়োজন না থাকলেও এভাবে লেখা হয়েছে। নাজিওনালের মতে, এটি একমাত্র লাউডনের বৈশিষ্ট্য নয়, তবে ১৭৭৬ সালের ১১ জুলাই তাঁর সংবাদপত্র দ্য নিউ-ইয়র্ক প্যাকেট-এ প্রকাশিত ঘোষণাপত্রেও একই সংক্ষিপ্ত রূপ দেখা যায়। ১৭৭০-এর দশকে তাঁর ছাপানো আরও কিছু ব্রডসাইডেও একই প্রবণতা ছিল।

এছাড়া “Congress Assembled” শব্দগুচ্ছে দীর্ঘাকৃতির ‘S’ অক্ষরের ব্যবহারও লাউডনের সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংস্করণের সঙ্গে মিলে যায়।

গবেষকদের সতর্ক অবস্থান

বহিরাগত বিশেষজ্ঞরা একমত যে ব্রডসাইডটি সম্ভবত ৪ জুলাইয়ের পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মুদ্রিত হয়েছিল। তবে এটিকে নিশ্চিতভাবে লাউডনের কাজ বলা এখনও সম্ভব নয়।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ডেভিড আর্মটিজ এটিকে “অনুমানভিত্তিক, তবে অসম্ভব নয়” বলে মন্তব্য করেছেন।

এমিলি স্নেফও মনে করেন, সীমিত সূত্রের ভিত্তিতে লাউডনের পক্ষে যুক্তি অন্য যেকোনো সম্ভাবনার মতোই গ্রহণযোগ্য। যদিও কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই, তবু “sec’ry” সংক্ষিপ্ত রূপের ঘন ঘন ব্যবহারকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

বিপ্লবের ঝুঁকিপূর্ণ দিনগুলো

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ শুধু লাউডনকে ঘিরে রহস্য নয়, বরং সেই বিপ্লবী সময়ের নাটকীয়তাও তুলে ধরতে চায়। তখন উপনিবেশবাসীরা স্বাধীনতার প্রশ্নে বিভক্ত ছিল, আর এমন একটি দলিল ছাপার কাজ গ্রহণ করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত।

১৭৭৬ সালের মার্চে এক দেশপ্রেমিক দল লাউডনের ছাপাখানায় হামলা চালিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোপন পুস্তিকার মুদ্রণকাজ নষ্ট করে দেয়। পরে লাউডন নিজের দেশপ্রেমের কথা তুলে ধরেন, পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষেও অবস্থান নেন।

তবু যুদ্ধের ফল কী হবে, তা কেউ জানত না। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ছাপা একজন মুদ্রাকরের ভবিষ্যৎ কী হতে পারত, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল।

নাজিওনালের ভাষায়, “এটি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহমূলক একটি দলিল।”

নিউ ইয়র্কে স্বাধীনতার ঘোষণা

১৭৭৬ সালের ৯ জুলাইয়ের মধ্যে ডানলাপের মুদ্রিত একটি কপি নিউ ইয়র্কে পৌঁছে যায়। সেখানে জর্জ  ওয়াশিংটন শহর রক্ষায় আসা কন্টিনেন্টাল সেনাদের সামনে এটি পাঠ করার নির্দেশ দেন।

ঘোষণাপত্র শুনে অনেক নাগরিক এতটাই উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন যে তারা বোলিং গ্রিনে গিয়ে ঘোড়ার পিঠে থাকা রাজা তৃতীয় জর্জের মূর্তি ভেঙে ফেলে।

নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল এখনো সেই ভাঙা মূর্তির ঘোড়ার লেজের একটি অংশ সংরক্ষণ করে রেখেছে। আর এ বছর ৯ জুলাই দর্শনার্থীরা জাদুঘরের লবিতে মূর্তিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিরূপ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখতে পারবেন।

মিরার হাসতে হাসতে বলেন, “এই গল্পটা আমাদের। এটি বলার জন্য এটাই আমাদের সময়।”

জনপ্রিয় সংবাদ

উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: কুয়েত-বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে

আমেরিকার জন্মদিনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ঘিরে রহস্য: কে ছাপিয়েছিল ঐতিহাসিক সেই দলিল? – নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

০৬:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠার অনেক আগে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ছিল একটি জরুরি বার্তা। প্রতিষ্ঠাতা নেতারা চেয়েছিলেন যত দ্রুত সম্ভব এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই, ফিলাডেলফিয়ার ইন্ডিপেনডেন্স হল থেকে ঘোষণাপত্রের পাঠ্য দ্রুত পাঠানো হয় মুদ্রাকর জন ডানলাপের ছাপাখানায়। তিনি রাতভর কাজ করে প্রায় ২০০ কপি ছাপান। এরপর চিঠি, সংবাদপত্র এবং বড় আকারের একপাতার মুদ্রণ—যা ‘ব্রডসাইড’ নামে পরিচিত—এর মাধ্যমে দলিলটির ভাষা উপনিবেশগুলোতে এবং তার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের বিরল প্রাথমিক কপিগুলো প্রদর্শন করছে। তবে নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল (পূর্বে নিউ-ইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল সোসাইটি) একটি ভিন্ন প্রশ্নকে সামনে এনেছে—আসলে এই কপিটি কে ছাপিয়েছিল?

প্রতিষ্ঠানটির সংগ্রহে বহু বছর ধরে একটি বিরল ব্রডসাইড সংরক্ষিত রয়েছে, যেখানে কোনো মুদ্রাকরের নাম নেই। এমন কপির সংখ্যা খুবই কম। ১৮ জুন থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত এটি প্রথমবারের মতো জনসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ধারণা দিচ্ছে যে এটি সম্ভবত নিউ ইয়র্কের মুদ্রাকর স্যামুয়েল লাউডন ছাপিয়েছিলেন।

ক্ষুদ্র মুদ্রণচিহ্নে বড় সূত্র

এই দাবির ভিত্তি হলো দলিলটির সূক্ষ্ম টাইপোগ্রাফিক বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষণ। তবে নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লুইস মিরারের মতে, বিষয়টি কেবল লাউডনকে চিহ্নিত করা নয়। বরং স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

ঘোষণাপত্র রচয়িতা ও অনুমোদনকারী নেতাদের পাশাপাশি মুদ্রাকররাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। আবার এই ধরনের ছাপানো কপি থেকে ঘোষণাপত্র পাঠ করা হলে জনতাও সেই আন্দোলনের অংশ হয়ে ওঠে।

মিরারের ভাষায়, “ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির যে সম্মিলিত উন্মাদনা ছিল, তার মধ্যে সবাইকে যুক্ত করাই ছিল মূল বিষয়।”

রহস্যময় কপিটির ইতিহাস

নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম জাদুঘর হিসেবে পরিচয় দেওয়া নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮০৪ সালে। এটি গড়ে তুলেছিলেন এমন কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তি, যারা আমেরিকান বিপ্লবের অস্থির সময় প্রত্যক্ষ করেছিলেন।

অজ্ঞাত মুদ্রাকরের এই ব্রডসাইডটি কখন বা কীভাবে সংগ্রহে এসেছে, তা জানা যায় না। তবে অন্তত ১৯৪৯ সাল থেকে এটি সেখানে রয়েছে। ওই বছর বেঁচে থাকা প্রাথমিক ব্রডসাইডগুলোর প্রথম গবেষণাভিত্তিক তালিকায় এর উল্লেখ পাওয়া যায়।

বর্তমানে গবেষকেরা ১৭৭৬ সালের জুলাই ও আগস্টে উপনিবেশগুলোর বিভিন্ন ছাপাখানায় মুদ্রিত প্রায় ১৭টি স্বতন্ত্র ব্রডসাইড সংস্করণ শনাক্ত করেছেন। সাধারণত প্রতিটি সংস্করণের শত শত কপি ছাপা হয়েছিল।

নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যালের কপিটি বিশেষ কারণ এটি এমন কয়েকটি সংস্করণের একটি, যেখানে কোনো মুদ্রাকরের নাম নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ সংস্করণের একমাত্র টিকে থাকা কপি এটিই।

স্বাধীন গবেষক ও ইতিহাসবিদ এমিলি স্নেফের মতে, “শুধু টিকে থাকার কারণেই এর অসাধারণ মূল্য রয়েছে। এই ব্রডসাইডগুলো ২৫০ বছর টিকে থাকার জন্য ছাপা হয়নি; এগুলোর উদ্দেশ্য ছিল দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দেওয়া।”

তদন্ত শুরু

বহু বছর এই ব্রডসাইড গবেষকদের বিশেষ মনোযোগ পায়নি। তবে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাদুঘরের নতুন ‘ট্যাং উইং ফর আমেরিকান ডেমোক্রেসি’ উদ্বোধনের প্রস্তুতির সময় প্রায় এক বছর আগে তদন্ত শুরু হয়।

গ্রন্থাগার গবেষণা বিভাগের পরিচালক নিনা নাজিওনালে প্রতিষ্ঠানের নথি ও পুরোনো প্রকাশনাগুলো খুঁজে দেখেন। তিনি ব্রিটেনে রাজা তৃতীয় জর্জের দলিলপত্রসহ বিভিন্ন আর্কাইভেও অনুসন্ধান চালান, যদি কোথাও আরেকটি কপি পাওয়া যায়।

কিন্তু নতুন কোনো কপি মেলেনি। ফলে গবেষকদের ভরসা করতে হয় দলিলটির নিজস্ব ক্ষুদ্র বৈশিষ্ট্যের ওপর।

কেন সন্দেহের তীর লাউডনের দিকে?

এই ব্রডসাইডটি দুই কলামে সাজানো, যা ডানলাপের মূল সংস্করণসহ অধিকাংশ পরিচিত কপির তুলনায় আলাদা।

কাগজে ডাচ কাগজ প্রস্তুতকারক এ. রোগের জলছাপ রয়েছে। এতে ধারণা করা হয় এটি ব্রিটেনে ছাপা হয়নি। কারণ ব্রিটিশ কিছু মুদ্রাকর ঘোষণাপত্রের “tyrant” বা “অত্যাচারী” শব্দটি বাদ দিয়েছিলেন।

দলিলটির নিচে কেবল দুজনের মুদ্রিত স্বাক্ষর রয়েছে—কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসের সভাপতি জন হ্যানকক এবং সচিব চার্লস থমসন।

গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর একটি হলো “secretary” শব্দটির সংক্ষিপ্ত রূপ “sec’ry” ব্যবহার। জায়গা বাঁচানোর প্রয়োজন না থাকলেও এভাবে লেখা হয়েছে। নাজিওনালের মতে, এটি একমাত্র লাউডনের বৈশিষ্ট্য নয়, তবে ১৭৭৬ সালের ১১ জুলাই তাঁর সংবাদপত্র দ্য নিউ-ইয়র্ক প্যাকেট-এ প্রকাশিত ঘোষণাপত্রেও একই সংক্ষিপ্ত রূপ দেখা যায়। ১৭৭০-এর দশকে তাঁর ছাপানো আরও কিছু ব্রডসাইডেও একই প্রবণতা ছিল।

এছাড়া “Congress Assembled” শব্দগুচ্ছে দীর্ঘাকৃতির ‘S’ অক্ষরের ব্যবহারও লাউডনের সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংস্করণের সঙ্গে মিলে যায়।

গবেষকদের সতর্ক অবস্থান

বহিরাগত বিশেষজ্ঞরা একমত যে ব্রডসাইডটি সম্ভবত ৪ জুলাইয়ের পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মুদ্রিত হয়েছিল। তবে এটিকে নিশ্চিতভাবে লাউডনের কাজ বলা এখনও সম্ভব নয়।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ ডেভিড আর্মটিজ এটিকে “অনুমানভিত্তিক, তবে অসম্ভব নয়” বলে মন্তব্য করেছেন।

এমিলি স্নেফও মনে করেন, সীমিত সূত্রের ভিত্তিতে লাউডনের পক্ষে যুক্তি অন্য যেকোনো সম্ভাবনার মতোই গ্রহণযোগ্য। যদিও কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই, তবু “sec’ry” সংক্ষিপ্ত রূপের ঘন ঘন ব্যবহারকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

বিপ্লবের ঝুঁকিপূর্ণ দিনগুলো

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ শুধু লাউডনকে ঘিরে রহস্য নয়, বরং সেই বিপ্লবী সময়ের নাটকীয়তাও তুলে ধরতে চায়। তখন উপনিবেশবাসীরা স্বাধীনতার প্রশ্নে বিভক্ত ছিল, আর এমন একটি দলিল ছাপার কাজ গ্রহণ করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারত।

১৭৭৬ সালের মার্চে এক দেশপ্রেমিক দল লাউডনের ছাপাখানায় হামলা চালিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোপন পুস্তিকার মুদ্রণকাজ নষ্ট করে দেয়। পরে লাউডন নিজের দেশপ্রেমের কথা তুলে ধরেন, পাশাপাশি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পক্ষেও অবস্থান নেন।

তবু যুদ্ধের ফল কী হবে, তা কেউ জানত না। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ছাপা একজন মুদ্রাকরের ভবিষ্যৎ কী হতে পারত, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা ছিল।

নাজিওনালের ভাষায়, “এটি ছিল রাষ্ট্রদ্রোহমূলক একটি দলিল।”

নিউ ইয়র্কে স্বাধীনতার ঘোষণা

১৭৭৬ সালের ৯ জুলাইয়ের মধ্যে ডানলাপের মুদ্রিত একটি কপি নিউ ইয়র্কে পৌঁছে যায়। সেখানে জর্জ  ওয়াশিংটন শহর রক্ষায় আসা কন্টিনেন্টাল সেনাদের সামনে এটি পাঠ করার নির্দেশ দেন।

ঘোষণাপত্র শুনে অনেক নাগরিক এতটাই উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন যে তারা বোলিং গ্রিনে গিয়ে ঘোড়ার পিঠে থাকা রাজা তৃতীয় জর্জের মূর্তি ভেঙে ফেলে।

নিউ ইয়র্ক হিস্টোরিক্যাল এখনো সেই ভাঙা মূর্তির ঘোড়ার লেজের একটি অংশ সংরক্ষণ করে রেখেছে। আর এ বছর ৯ জুলাই দর্শনার্থীরা জাদুঘরের লবিতে মূর্তিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিরূপ আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে ফেলার দৃশ্য দেখতে পারবেন।

মিরার হাসতে হাসতে বলেন, “এই গল্পটা আমাদের। এটি বলার জন্য এটাই আমাদের সময়।”