০৯:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলায় নতুন উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন-কাণ্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র বাংলাদেশ ব্যাংক কেন ডলার কিনছে? রিজার্ভ, বিনিময় হার ও অর্থনীতির ভারসাম্যের গল্প খুলনায় বিশেষ অভিযানে কসাই লিটনসহ গ্রেফতার ৫৯ রাতের মধ্যে ১৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত তিন কারখানায় ১,৮৬৮ শ্রমিক ছাঁটাই, ঈদের ছুটি শেষে কাজে এসে চাকরি হারানোর অভিযোগ উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: কুয়েত-বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে মে মাসে গণপিটুনিতে ৩১ জন নিহত, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী-শিশু ফ্রেঞ্চ ওপেনে ইতিহাস গড়ার লড়াই: শিরোপার ফাইনালে মায়া চওয়ালিন্সকা ও মিরা আন্দ্রেয়েভা প্রবাসফেরত যুবককে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেফতারে অভিযান হাসিনার ১৭ বছরে যত বেড়েছিল, বিএনপির ৩ মাসেই ততটা বেড়েছে গ্যাসের দাম- এন সি পি

গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ঘিরে রাহুলের তোপ, ‘প্রতিরক্ষার থেকে আদানীর লাভ হবে বেশী’

গ্রেট নিকোবর দ্বীপে প্রস্তাবিত বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, এই প্রকল্পকে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত প্রয়োজনের নামে উপস্থাপন করা হলেও এর মূল লক্ষ্য শিল্পগোষ্ঠীর বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করা। তিনি আদানী শিল্প গোষ্টির নাম উল্লেখ করনে।  তাঁর দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে এবং স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাহুল গান্ধী একটি অনলাইন প্রচারণা শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দামান ও নিকোবর সফরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বনভূমি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রতিরক্ষা যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, সরকার প্রকল্পটিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে দেখালেও বাস্তবে সেই যুক্তি দুর্বল। তাঁর মতে, যদি সত্যিই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি লক্ষ্য হতো, তাহলে নিকোবর অঞ্চলে অবস্থিত নৌবাহিনীর বিমানঘাঁটির সম্প্রসারণে জোর দেওয়া উচিত ছিল।

তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘাঁটির সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তার পরিবর্তে বিশাল পরিসরের উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

রাহুলের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হতে পারে এবং প্রাচীন রেইনফরেস্ট ও প্রবালপ্রাচীর হুমকির মুখে পড়বে। তাঁর মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন এলাকার পরিমাণও অত্যন্ত বড়, যা একটি বৃহৎ মহানগরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।

তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলে তার প্রভাব শুধু দ্বীপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৃহত্তর পরিবেশগত ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে।

Benefitting Gautam Adani to build casinos': Rahul Gandhi attacks Modi govt over Great Nicobar Project

স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আশঙ্কা

সাম্প্রতিক সফরে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের মধ্যে জমি, পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বন অধিকার সংক্রান্ত আইন উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় মানুষের মতামত ও অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ বিতর্ক

গ্রেট নিকোবর প্রকল্পকে ঘিরে এখন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। একদিকে সরকার দ্বীপে অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর, বিমানবন্দর ও পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, এসব উদ্যোগের ফলে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাহুল গান্ধী তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন ভারত গড়ে তোলা হবে, সেই প্রশ্নে এখনই অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই অগ্রগতির পথ খুঁজতে হবে।

গ্রেট নিকোবর প্রকল্প নিয়ে রাহুল গান্ধীর সমালোচনা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরিবেশ, উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের অধিকার—এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে এ বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হামলায় নতুন উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন-কাণ্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত আরও তীব্র

গ্রেট নিকোবর প্রকল্প ঘিরে রাহুলের তোপ, ‘প্রতিরক্ষার থেকে আদানীর লাভ হবে বেশী’

০৭:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

গ্রেট নিকোবর দ্বীপে প্রস্তাবিত বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, এই প্রকল্পকে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত প্রয়োজনের নামে উপস্থাপন করা হলেও এর মূল লক্ষ্য শিল্পগোষ্ঠীর বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করা। তিনি আদানী শিল্প গোষ্টির নাম উল্লেখ করনে।  তাঁর দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে এবং স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে রাহুল গান্ধী একটি অনলাইন প্রচারণা শুরু করেন। একই সঙ্গে তিনি আন্দামান ও নিকোবর সফরের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ, বনভূমি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

প্রতিরক্ষা যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, সরকার প্রকল্পটিকে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত করে দেখালেও বাস্তবে সেই যুক্তি দুর্বল। তাঁর মতে, যদি সত্যিই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি লক্ষ্য হতো, তাহলে নিকোবর অঞ্চলে অবস্থিত নৌবাহিনীর বিমানঘাঁটির সম্প্রসারণে জোর দেওয়া উচিত ছিল।

তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘাঁটির সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু তার পরিবর্তে বিশাল পরিসরের উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

রাহুলের অভিযোগ, প্রকল্পের আওতায় বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হতে পারে এবং প্রাচীন রেইনফরেস্ট ও প্রবালপ্রাচীর হুমকির মুখে পড়বে। তাঁর মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন এলাকার পরিমাণও অত্যন্ত বড়, যা একটি বৃহৎ মহানগরের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।

তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হলে তার প্রভাব শুধু দ্বীপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বৃহত্তর পরিবেশগত ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলবে।

Benefitting Gautam Adani to build casinos': Rahul Gandhi attacks Modi govt over Great Nicobar Project

স্থানীয় ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আশঙ্কা

সাম্প্রতিক সফরে দ্বীপের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের মধ্যে জমি, পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তাঁর অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে বন অধিকার সংক্রান্ত আইন উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় মানুষের মতামত ও অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নয়ন বনাম পরিবেশ বিতর্ক

গ্রেট নিকোবর প্রকল্পকে ঘিরে এখন উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে। একদিকে সরকার দ্বীপে অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর, বিমানবন্দর ও পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে, এসব উদ্যোগের ফলে পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাহুল গান্ধী তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কেমন ভারত গড়ে তোলা হবে, সেই প্রশ্নে এখনই অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে। তাঁর মতে, উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই অগ্রগতির পথ খুঁজতে হবে।

গ্রেট নিকোবর প্রকল্প নিয়ে রাহুল গান্ধীর সমালোচনা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরিবেশ, উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের অধিকার—এই তিন বিষয়কে কেন্দ্র করেই আগামী দিনে এ বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।