প্রায় দুই মাস ধরে সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা পাকিস্তানি নাবিকদের মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে পরিস্থিতির জটিলতা ও স্থানীয় বাস্তবতার কারণে এখনো তাদের মুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির হুসাইন আন্দ্রাবি বলেন, জিম্মিদের মুক্তি সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে দেখছে। তবে সোমালিয়ার আধা-স্বায়ত্তশাসিত পুন্তল্যান্ড অঞ্চলের জটিল সামাজিক ও গোত্রভিত্তিক বাস্তবতা উদ্ধার প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলেছে।
জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনা
এমটি অনার ২৫ নামের জাহাজটি গত ২১ এপ্রিল সোমালিয়ার উপকূলবর্তী পুন্তল্যান্ড অঞ্চলের কাছে জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে ১০ জন পাকিস্তানের নাগরিক।
জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা এরই মধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, বন্দিদশা দীর্ঘায়িত হওয়ায় জাহাজে থাকা নাবিকদের জীবনযাত্রার অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত
তাহির হুসাইন আন্দ্রাবি জানান, পাকিস্তান সরকার সোমালি কর্তৃপক্ষ, জাহাজের মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে পুন্তল্যান্ড অঞ্চলের প্রভাবশালী গোত্রগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, দুই দিন আগে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার সোমালিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সালাম আলির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ওই আলোচনায় পাকিস্তান তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দ্রুত মুক্তি ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে।
শুধু পাকিস্তানি নাবিকদের নয়, একই জাহাজে থাকা ইন্দোনেশিয়া, ভারত, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের অবস্থার উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সোমালিয়ার আশ্বাস
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সোমালিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে মুক্তি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দুই দেশ ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।

এ ছাড়া ইসলামাবাদে নিযুক্ত সোমালিয়ার রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বৈঠক করেছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৈঠকে জিম্মিদের মুক্তির সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে জিবুতিতে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস, যা সোমালিয়ার জন্যও দায়িত্বপ্রাপ্ত, মোগাদিশুতে বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছে।
কেন কঠিন হচ্ছে উদ্ধার প্রচেষ্টা
আন্দ্রাবি বলেন, পুন্তল্যান্ড অঞ্চলের বাস্তবতা অত্যন্ত জটিল। জলদস্যু এবং জাহাজের মালিকপক্ষ ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আলোচনার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিভাগের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বৈঠক হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার জিম্মিদের পরিবারগুলোর উদ্বেগ ও কষ্ট গভীরভাবে উপলব্ধি করছে এবং তাদের নিরাপদ মুক্তির জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি পরিচালনাগতভাবে অত্যন্ত জটিল হওয়ায় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















