ইন্দোনেশিয়ার সাংস্কৃতিক শহর যোগ্যাকার্তার একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রে শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ দেশজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। পুলিশ অভিযানে গিয়ে দেখতে পায়, সেখানে থাকা অনেক শিশুর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় কেন্দ্রটির মালিক, প্রধান এবং পরিচর্যাকারীসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, নির্যাতনের শিকার শিশুদের বয়স ছিল ২ থেকে ৬ বছরের মধ্যে। অনেক শিশুকে নিয়মিত চড় মারা, চিমটি কাটা এবং শাস্তি হিসেবে বেঁধে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় কেন্দ্রটিতে নিবন্ধিত শতাধিক শিশুর মধ্যে বেশিরভাগকেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। কিছু শিশুকে দরজার সঙ্গেও বেঁধে রাখা হয়েছিল।
শিশুদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের নামে নির্যাতন
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির কর্মীরা দাবি করেছেন শিশুদের “সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য” করে তুলতেই এ ধরনের শারীরিক শাস্তি দেওয়া হতো। তবে শিশু অধিকারকর্মীরা একে পরিকল্পিত নির্যাতন বলে অভিহিত করেছেন।
এক শিশুর বাবা জানান, তাঁর তিন বছরের মেয়ে প্রতিদিন ডে-কেয়ারে যাওয়ার সময় কান্নাকাটি করত। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন শিশুটি হয়তো বাড়িতেই থাকতে চায়। পরে জানা যায়, সে সেখানে ভয়াবহ মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছিল।
ফাঁস হলো ভয়াবহ বাস্তবতা
অভিযোগগুলো প্রকাশ্যে আসে কেন্দ্রটিরই এক কর্মীর মাধ্যমে। তিনি অনিয়মের বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে জানান। তদন্তে জানা গেছে, শিশুদের বেঁধে রাখা হয়েছিল কম জনবল দিয়ে বেশি শিশু সামলানোর উদ্দেশ্যে।
পাঁচ কক্ষের ছোট একটি ভবনে একসঙ্গে অনেক শিশুকে রাখা হতো। একটি ছোট কক্ষেই প্রায় ৩০ শিশুকে গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অধিকাংশ পরিচর্যাকারীর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও ছিল না।
লাইসেন্স ছাড়াই চলছিল প্রতিষ্ঠান
পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্রটি প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। এ কারণে শিশু নির্যাতনের অভিযোগের পাশাপাশি শিক্ষা আইন লঙ্ঘনের বিষয়েও তদন্ত চলছে।
দেশজুড়ে ক্ষোভ, সরকারের নজরদারির প্রতিশ্রুতি
ঘটনাটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ এতটাই বেড়েছে যে কেন্দ্রটির দেয়াল ও জানালায় আপত্তিকর লেখা আঁকা হয়েছে।

এ ঘটনার পর সরকার ডে-কেয়ার খাতে কঠোর নজরদারি, নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং শিশু সুরক্ষার মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে সব ডে-কেয়ার কেন্দ্রের নিয়মিত পরিদর্শনের দাবিও জোরালো হয়েছে।
তদন্তের শেষ পর্যায়ে
পুলিশ জানিয়েছে, জুন মাসের শেষ নাগাদ তদন্ত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর মামলার নথি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হবে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে নির্যাতনের শিকার শিশুদের পরিবারগুলো কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। অনেক অভিভাবক বলছেন, তাঁদের সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘদিন বহন করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















