যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি পদত্যাগ করেছেন। প্রতিরক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে হিলি অভিযোগ করেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন, সরকার তা দিতে অনিচ্ছুক।
হিলির পদত্যাগ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাজ্য সরকারের বহুল আলোচিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে অর্থায়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে পরিকল্পনাটি ইতোমধ্যে বিলম্বিত হয়েছে।
প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা নিয়ে সংঘাত
পদত্যাগপত্রে জন হিলি লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার আর্থিক কাঠামো অনুমোদন করেছেন, তা বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির তুলনায় অনেক কম। তার ভাষায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি কমিয়ে দিতে পারে, অভিযানে থাকা সদস্যদের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত দেশকে কম নিরাপদ করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নিশ্চিত না হলে বর্তমান হুমকির মোকাবিলা করা কঠিন হবে। সেই কারণেই তার কাছে পদত্যাগ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
অর্থ বরাদ্দ নিয়ে বিরোধ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিলি আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অতিরিক্ত ১৮ বিলিয়ন পাউন্ড চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত অতিরিক্ত সহায়তার প্রস্তাব দেয়। সামরিক নেতৃত্বের একাংশের মতে, এর মধ্যে প্রকৃত নতুন ব্যয় বৃদ্ধি প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের সমান।
হিলির দাবি ছিল, এই অর্থ বর্তমান নিরাপত্তা চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। তার মতে, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠন ও যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানোর জন্য আরও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।

সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে
হিলির পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
শাসক লেবার পার্টির কয়েকজন সংসদ সদস্যও হিলির সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তিনি নীতিগত অবস্থান থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং দেশের নিরাপত্তা নিয়ে তার উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
একজন লেবার এমপি মন্তব্য করেন, এটি স্টারমারের নেতৃত্বের জন্য আরেকটি বড় আঘাত। কয়েক সপ্তাহ আগে সরকারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পদত্যাগের পর এবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সরে দাঁড়ানো সরকারের জন্য অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে।
বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
গত কয়েক মাস ধরেই প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে স্টারমার ও হিলির মধ্যে টানাপোড়েন চলছিল। হিলি এবং সামরিক কর্মকর্তারা যুক্তি দেন, আগামী চার বছরে প্রতিরক্ষা খাতে আরও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে। কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সেই দাবির সঙ্গে একমত হয়নি।
এদিকে সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসও মন্তব্য করেছেন যে বর্তমান প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয়। তার মতে, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
জন হিলির পদত্যাগের ফলে শুধু প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনাই নয়, আগামী জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য গুরুত্বপূর্ণ ন্যাটো সম্মেলনের আগে সরকারের প্রতিরক্ষা নীতিও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
Sarakhon Report 



















