০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
জুলাই যোদ্ধা মাহদী হাসানকে মারধর করল জনতা, হাসপাতালে ভর্তি আলোচিত মহিলা লীগ নেত্রী মহুয়া আবারও পুলিশের হেফাজতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ইরানের পাল্টা হামলা: নতুন সংকটে মধ্যপ্রাচ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযানের অভিযোগ, পশ্চিম তীরে বেদুইনদের উচ্ছেদ নিয়ে নতুন বিতর্ক স্থূলতার জন্য একক কোনো জিন নেই, জীবনধারাও নির্ধারণ করে ঝুঁকি ফিলিপাইনের ভূমিকম্পে বিচ্ছিন্ন লাখো মানুষ, টেলিভিশনের পর্দায় মায়ের উদ্দেশে বেঁচে থাকার বার্তা ডেজা ভু কেন হয়? মস্তিষ্কের অদ্ভুত এই অনুভূতির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মিন্দানাও ভূমিকম্পে মৃত ৪৬ মোদিকে ঘিরে কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ, ‘গণতন্ত্র হত্যার’ অভিযোগ শুধু প্রস্তুতি নয়, মহামারির বিরুদ্ধে প্রতিরোধব্যবস্থার পরিধিও বাড়াতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের সর্বোচ্চ, জ্বালানি সংকটে চাপে ভোক্তারা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মে মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে। যদিও খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে, তবুও সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা

মে মাসে জ্বালানি খাতের মূল্য এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলের দামই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। এক বছরের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহন পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, উৎপাদন এবং অন্যান্য খাতে।

মূল মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি

সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এই সূচকের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে জ্বালানি ব্যতীত অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পোশাক, আবাসন এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দাম কমতেও দেখা গেছে। নতুন গাড়ির দাম, ওষুধ এবং গাড়ির বীমা খরচে হ্রাস ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

Us Inflation: Cost of conflict: US inflation hits 3-year high as Iran war  fuels energy shock - The Times of India

শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বর্তমান অবস্থান বজায় রাখতে বা আরও কঠোর নীতি নিতে পারে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মজুরি বাড়লেও কমছে ক্রয়ক্ষমতা

শ্রমবাজারে আয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাড়া, খাদ্য এবং জ্বালানির মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার বাজেট সংকোচনের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে ঋণনির্ভর ব্যয়ও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সামনের দিনগুলোতে কী হতে পারে

অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, মে মাসের তথ্য সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায় হতে পারে। কারণ জুন মাসে পেট্রোলের দাম কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানির বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে শুল্কনীতি, জ্বালানি ব্যয় এবং প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মূল্যচাপ সৃষ্টি করছে। ফলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই যোদ্ধা মাহদী হাসানকে মারধর করল জনতা, হাসপাতালে ভর্তি

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের সর্বোচ্চ, জ্বালানি সংকটে চাপে ভোক্তারা

০৬:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মে মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে। যদিও খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে, তবুও সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা

মে মাসে জ্বালানি খাতের মূল্য এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলের দামই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। এক বছরের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহন পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, উৎপাদন এবং অন্যান্য খাতে।

মূল মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি

সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এই সূচকের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে জ্বালানি ব্যতীত অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পোশাক, আবাসন এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দাম কমতেও দেখা গেছে। নতুন গাড়ির দাম, ওষুধ এবং গাড়ির বীমা খরচে হ্রাস ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

Us Inflation: Cost of conflict: US inflation hits 3-year high as Iran war  fuels energy shock - The Times of India

শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বর্তমান অবস্থান বজায় রাখতে বা আরও কঠোর নীতি নিতে পারে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মজুরি বাড়লেও কমছে ক্রয়ক্ষমতা

শ্রমবাজারে আয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাড়া, খাদ্য এবং জ্বালানির মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার বাজেট সংকোচনের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে ঋণনির্ভর ব্যয়ও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সামনের দিনগুলোতে কী হতে পারে

অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, মে মাসের তথ্য সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায় হতে পারে। কারণ জুন মাসে পেট্রোলের দাম কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানির বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে শুল্কনীতি, জ্বালানি ব্যয় এবং প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মূল্যচাপ সৃষ্টি করছে। ফলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।