০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ প্রজ্ঞাপন জারি: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস-মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি ২০ তলা থেকে সাইকেলসহ নানা জিনিস ছুড়ে দিলেন ব্যক্তি, ৬ ঘণ্টার পুলিশি অভিযানে আটক চাঁদের আলোয় সায়েন্স সেন্টারে এক রাতের নাচ-গান, সিঙ্গাপুরে ‘মুনবিটস: আফটারডার্ক’ একা থাকা ৭২ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু, দরজার নিচ দিয়ে রক্ত গড়িয়ে আসতেই মিলল মরদেহ টোকিওর কাছে টাইফুন দুজুয়ানের আঘাত, নিহত ৯, নিখোঁজ ৪ এল নিনোর তাপে ভারতে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৫ হাজার ৮০০ মৃত্যুর শঙ্কা ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো, চূড়ায় ওঠার আগেই ভাঙল রেকর্ড চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে স্কুলে গুলি, ওপেনএআইকে নতুন স্কুল গড়ে দিতে মামলা ১৮৯৭ থেকে পথিকের আশ্রয়, আধুনিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতে নতুন করে জেগে উঠছে আর্কটিকের ছোট্ট দ্বীপ

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের সর্বোচ্চ, জ্বালানি সংকটে চাপে ভোক্তারা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মে মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে। যদিও খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে, তবুও সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা

মে মাসে জ্বালানি খাতের মূল্য এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলের দামই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। এক বছরের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহন পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, উৎপাদন এবং অন্যান্য খাতে।

মূল মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি

সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এই সূচকের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে জ্বালানি ব্যতীত অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পোশাক, আবাসন এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দাম কমতেও দেখা গেছে। নতুন গাড়ির দাম, ওষুধ এবং গাড়ির বীমা খরচে হ্রাস ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

Us Inflation: Cost of conflict: US inflation hits 3-year high as Iran war  fuels energy shock - The Times of India

শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বর্তমান অবস্থান বজায় রাখতে বা আরও কঠোর নীতি নিতে পারে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মজুরি বাড়লেও কমছে ক্রয়ক্ষমতা

শ্রমবাজারে আয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাড়া, খাদ্য এবং জ্বালানির মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার বাজেট সংকোচনের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে ঋণনির্ভর ব্যয়ও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সামনের দিনগুলোতে কী হতে পারে

অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, মে মাসের তথ্য সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায় হতে পারে। কারণ জুন মাসে পেট্রোলের দাম কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানির বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে শুল্কনীতি, জ্বালানি ব্যয় এবং প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মূল্যচাপ সৃষ্টি করছে। ফলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ভারত এগিয়ে, কিন্তু বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়ছে চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের সর্বোচ্চ, জ্বালানি সংকটে চাপে ভোক্তারা

০৬:৫১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মে মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এই উল্লম্ফনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও তীব্র হয়েছে। যদিও খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে, তবুও সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

জ্বালানির দামে বড় ধাক্কা

মে মাসে জ্বালানি খাতের মূল্য এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলের দামই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে। এক বছরের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা ভোক্তাদের দৈনন্দিন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহন পথ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবহন, উৎপাদন এবং অন্যান্য খাতে।

মূল মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা স্বস্তি

সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বাড়লেও খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতির হার ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে এই সূচকের বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে জ্বালানি ব্যতীত অন্যান্য খাতে মূল্যচাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পোশাক, আবাসন এবং খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আগের তুলনায় ধীর হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে দাম কমতেও দেখা গেছে। নতুন গাড়ির দাম, ওষুধ এবং গাড়ির বীমা খরচে হ্রাস ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

Us Inflation: Cost of conflict: US inflation hits 3-year high as Iran war  fuels energy shock - The Times of India

শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর পরিবর্তে বর্তমান অবস্থান বজায় রাখতে বা আরও কঠোর নীতি নিতে পারে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মজুরি বাড়লেও কমছে ক্রয়ক্ষমতা

শ্রমবাজারে আয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না। ফলে প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে এবং পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভাড়া, খাদ্য এবং জ্বালানির মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার বাজেট সংকোচনের মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে ঋণনির্ভর ব্যয়ও বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

সামনের দিনগুলোতে কী হতে পারে

অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, মে মাসের তথ্য সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায় হতে পারে। কারণ জুন মাসে পেট্রোলের দাম কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলে জ্বালানির বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে শুল্কনীতি, জ্বালানি ব্যয় এবং প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক বিনিয়োগ—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে মূল্যচাপ সৃষ্টি করছে। ফলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।