যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির যে সুফল তৈরি হয়েছিল, তার বড় অংশই এখন হারিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির তথ্য দেখাচ্ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার গতি আয়ের বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেছে, ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা আবারও কমতে শুরু করেছে।
মূল্যস্ফীতির গতি আয়ের চেয়ে বেশি
মে মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হিসাব সমন্বয় করার পর কর্মীদের প্রকৃত আয় আগের বছরের তুলনায় কমে গেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, প্রকৃত মজুরি এখন এক বছর আগের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। এটি গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম বড় ব্যবধান।
জ্বালানির দাম বড় কারণ
মূল্যস্ফীতির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পেট্রোল ও জ্বালানির দাম। আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে পাম্পে বিক্রি হওয়া জ্বালানির মূল্যে।
একই সময়ে মজুরি বৃদ্ধির হারও ধীরে ধীরে কমেছে। ফলে কর্মীরা আগের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আয় বাড়লেও যদি জীবনযাত্রার ব্যয় আরও দ্রুত বাড়ে, তাহলে মানুষের আর্থিক অবস্থার বাস্তব উন্নতি ঘটে না।
ক্রয়ক্ষমতা পিছিয়ে গেছে
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে মার্কিন কর্মীদের প্রকৃত আয় আবার আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে যে বেতন বৃদ্ধি হয়েছিল, তা এখন অনেকটাই মূল্যস্ফীতির চাপে ক্ষয় হয়ে গেছে।
এর প্রভাব শুধু পরিবারের মাসিক বাজেটেই নয়, ভোক্তাদের মানসিক অবস্থাতেও পড়ছে। বেকারত্ব তুলনামূলকভাবে কম এবং শেয়ারবাজার শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অর্থনৈতিক উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, আয় বাড়লেও বাস্তবে জীবনযাত্রার খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত
তবে জুন মাসে জ্বালানির দামে কিছুটা কমার প্রবণতা দেখা গেছে। সাম্প্রতিক গড় মূল্য মে মাসের তুলনায় নিচে নেমেছে। এতে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবুও বর্তমান দাম এক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কমেনি এবং প্রকৃত আয় পুনরুদ্ধার হতে আরও সময় লাগতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির বাজারে স্থিতিশীলতা না ফিরলে এবং মজুরি বৃদ্ধির হার না বাড়লে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের আর্থিক চাপ আগামী মাসগুলোতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপে যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৃত আয় কমছে। বেতন বাড়লেও ক্রয়ক্ষমতা আগের অবস্থানে ফিরতে পারছে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















