০৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
টেলর সুইফট ‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নতুন গান গাইলেন, র্যান্ডি নিউম্যানের সঙ্গে ডুয়েট — ‘এটি একটি মাস্টারপিস’ আমির খান জুলাই ৫-এর বিয়ের কথা নিজেই নিশ্চিত করলেন: ‘মনে মনে আগেই বিয়ে করেছিলাম’ ‘রাখ’ আমাজন প্রাইমে আসছে কাল: ১৯৭৮-এর কুখ্যাত রঙা-বিল্লা হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলী ফাজালের গ্রিপিং ক্রাইম থ্রিলার বলিউডের এ বছরের মেগাহিট ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এখন JioHotstar-এ, ১,৮৫২ কোটি রুপির ব্লকবাস্টার ‘হ্যায় জওয়ানি তো ইশক হোনা হ্যায়’: বরুণ ধাওয়ান-পূজা হেগড়ে-মৃণাল ঠাকুরের রোমকম ৩১ কোটি ছাড়াল রাম চরণের ‘পেড্ডি’ প্রথম সপ্তাহে ২৬২ কোটি রুপি, আরআরআর-এর পর তাঁর সর্বোচ্চ সংগ্রহ BTS, শাকিরা, ম্যাডোনা ও কোল্ডপ্লে বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইম শো-তে — ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবার ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু আজ: ৪৮ দল, ১০৪ ম্যাচ, তিন দেশে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট শাকিরা আজ মেক্সিকোতে, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে ৮৭,০০০ দর্শকের সামনে ‘ডাই ডাই’ পরিবেশন করবেন জুলাই যোদ্ধা মাহদী হাসানকে মারধর করল জনতা, হাসপাতালে ভর্তি

মোদিকে ঘিরে কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ, ‘গণতন্ত্র হত্যার’ অভিযোগ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। দলটির দাবি, মোদি সরকারের কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করছে এবং প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি নেহরুকে ঘিরে এক ধরনের ‘আসক্তি’ তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে উদযাপন করতে গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি একটি ‘সন্দেহজনকভাবে তৈরি করা মাইলফলক’ সামনে এনেছে।

নেহরু বনাম মোদি বিতর্ক

জয়রাম রমেশ তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রথম মন্ত্রিসভার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে যে ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল, তা আধুনিক ভারতের রূপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাঁর মতে, সেই সময়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, ড. ভীমরাও আম্বেদকর, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, সি. রাজাগোপালাচারী এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদের মতো নেতারা দেশের রাষ্ট্রগঠনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। রমেশের অভিযোগ, বর্তমান সরকার সেই ঐতিহাসিক অবদানকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হয়তো একটি স্বঘোষিত রাজনৈতিক মাইলফলক অতিক্রম করেছেন, কিন্তু দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থার কারণে সেই অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখা কঠিন।

স্বাধীন ভারতের প্রথম দিকের সাফল্যের উল্লেখ

কংগ্রেস নেতা তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার পর প্রথম কয়েক বছরের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শত শত দেশীয় রাজ্যকে শান্তিপূর্ণভাবে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল। একই সময়ে ভারতের সংবিধান নিয়ে আলোচনা ও গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

এ ছাড়া জমিদারি প্রথা বিলোপ, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু, বৃহৎ সেচ ও বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো নির্মাণের মতো উদ্যোগও ওই সময়ে বাস্তবায়িত হয়। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

জয়রাম রমেশ আরও বলেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রায় ১৭ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ১৯৫১ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তাঁর অভিযোগ, যে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা একসময় ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো, বর্তমানে সেগুলোই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কংগ্রেসের মতে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের এই সমালোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে নেহরুর উত্তরাধিকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

টেলর সুইফট ‘টয় স্টোরি ৫’ প্রিমিয়ারে নতুন গান গাইলেন, র্যান্ডি নিউম্যানের সঙ্গে ডুয়েট — ‘এটি একটি মাস্টারপিস’

মোদিকে ঘিরে কংগ্রেসের তীব্র আক্রমণ, ‘গণতন্ত্র হত্যার’ অভিযোগ

০৭:২৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। দলটির দাবি, মোদি সরকারের কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করছে এবং প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছেন।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কটাক্ষ করে বলেন, তিনি নেহরুকে ঘিরে এক ধরনের ‘আসক্তি’ তৈরি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে উদযাপন করতে গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টি একটি ‘সন্দেহজনকভাবে তৈরি করা মাইলফলক’ সামনে এনেছে।

নেহরু বনাম মোদি বিতর্ক

জয়রাম রমেশ তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ভারতের প্রথম মন্ত্রিসভার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে যে ভিত্তি নির্মিত হয়েছিল, তা আধুনিক ভারতের রূপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাঁর মতে, সেই সময়ে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, ড. ভীমরাও আম্বেদকর, ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ, সি. রাজাগোপালাচারী এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদের মতো নেতারা দেশের রাষ্ট্রগঠনের কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। রমেশের অভিযোগ, বর্তমান সরকার সেই ঐতিহাসিক অবদানকে আড়াল করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী হয়তো একটি স্বঘোষিত রাজনৈতিক মাইলফলক অতিক্রম করেছেন, কিন্তু দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থার কারণে সেই অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখা কঠিন।

স্বাধীন ভারতের প্রথম দিকের সাফল্যের উল্লেখ

কংগ্রেস নেতা তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার পর প্রথম কয়েক বছরের বিভিন্ন অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শত শত দেশীয় রাজ্যকে শান্তিপূর্ণভাবে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছিল। একই সময়ে ভারতের সংবিধান নিয়ে আলোচনা ও গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

এ ছাড়া জমিদারি প্রথা বিলোপ, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু, বৃহৎ সেচ ও বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো নির্মাণের মতো উদ্যোগও ওই সময়ে বাস্তবায়িত হয়। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে ভারত আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

জয়রাম রমেশ আরও বলেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রায় ১৭ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ১৯৫১ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

তাঁর অভিযোগ, যে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন এবং নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকা একসময় ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতো, বর্তমানে সেগুলোই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কংগ্রেসের মতে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের এই সমালোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে নেহরুর উত্তরাধিকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভূমিকা নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।