০৩:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওষুধের ব্র্যান্ড নামেই প্রেসক্রিপশন, ভুলে শিশুকে খাওয়ানো হলো মৃগীর ওষুধ পেন্টাগনের গোপন নথিতে কড়াকড়ি, ইরান যুদ্ধ নিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্বেগের পর অ্যাক্সেস কমানো ময়লা ব্যবস্থাপনায় মিশর-চীন অংশীদারত্ব, কাজে লাগবে আধুনিক প্রযুক্তি পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে নিহত দুই ফিলিস্তিনি কিশোর ভারতের ‘সারাং’ হেলিকপ্টার দলের অভিষেক, মিসরের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে গাইবান্ধায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৩ পূর্বাঞ্চলীয় তেল শোধনাগার সম্প্রসারণে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, আগস্টেই আক্রান্ত ১২০২ হিমালয়ের হিমবাহে দূষণের কালো আস্তরণ, বাড়ছে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রাশিয়ার কারাগার থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে তিউনিসীয় তরুণরা, নিয়োগের নেপথ্যে কী?

নিখোঁজ বাবা-মায়ের খোঁজে সমুদ্রপাড়ে এক তরুণীর যাত্রা, হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে ‘রোমেরিয়া’

শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর বেদনা একজন মানুষের জীবনে কতটা গভীর ছাপ ফেলতে পারে, সেই অনুভূতিরই এক মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরেছে নতুন স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘রোমেরিয়া’। স্মৃতি, পরিবার, পরিচয় এবং হারিয়ে যাওয়া অতীতের সন্ধান—সবকিছু মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক আবেগঘন ও চিন্তাশীল গল্প।

চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র ১৮ বছর বয়সী মারিনা। সে চলচ্চিত্র শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু একটি প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তার প্রয়োজন হয়ে পড়ে জীবিত না থাকা বাবা-মায়ের পরিবারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন। সেই প্রয়োজন থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা পিতৃপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা।

হাতে একটি পুরোনো ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে মারিনা যাত্রা করে তার বাবার জন্মস্থান উপকূলীয় এক শহরে। তবে এই সফরের উদ্দেশ্য শুধু একটি স্বাক্ষর সংগ্রহ নয়। সে জানতে চায় তার বাবা-মায়ের জীবনের অজানা গল্প, তাদের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম এবং সেইসব সত্য, যা এতদিন পরিবারের নীরবতার আড়ালে চাপা পড়ে ছিল।

পরিবারের নীরব দেয়াল

মারিনা তার জন্মদাতা বাবা-মাকে প্রায় মনে করতে পারে না। ছোটবেলাতেই তাদের হারিয়েছে সে। আত্মীয়দের কাছ থেকে শোনা গল্পই ছিল তার একমাত্র ভরসা। কিন্তু বাস্তবে যখন সে দাদা-দাদির মুখোমুখি হয়, তখন উষ্ণ অভ্যর্থনার বদলে পায় দূরত্ব এবং অবহেলা।

পরিবারের অনেক সদস্য তাকে আপন করে নিতে না চাইলেও কয়েকজন আত্মীয় তার পাশে দাঁড়ায়। তাদের কাছ থেকেই মারিনা জানতে শুরু করে তার বাবার জীবনের নানা কঠিন অধ্যায়, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার অভিজ্ঞতা।

Young Orphan Marina's Journey to Uncover Family Secrets in 'Romería' - AOL

অতীতের টুকরো জোড়া লাগানোর চেষ্টা

মারিনার হাতে থাকা একটি পুরোনো ডায়েরি তার সবচেয়ে মূল্যবান সঙ্গী। সেই ডায়েরির সূত্র ধরে সে ফিরে যায় বাবা-মায়ের পরিচিত জায়গাগুলোতে। কখনও সমুদ্রতটে, কখনও নৌকার ছোট কেবিনে, আবার কখনও কোনো ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে সে কল্পনায় পুনর্গঠন করতে থাকে তাদের জীবন।

চলচ্চিত্রটি দেখায়, অতীতের সত্য খুঁজে পাওয়া সবসময় সহজ নয়। অনেক সময় সেই সত্য কষ্টদায়কও হতে পারে। তবু নিজের শিকড়কে জানার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়।

বাস্তবতা ও কল্পনার মিশেল

‘রোমেরিয়া’ শুধু একটি পারিবারিক অনুসন্ধানের গল্প নয়। এতে বাস্তবতার সঙ্গে সূক্ষ্মভাবে মিশেছে কল্পনা ও রহস্যের আবহ। প্রকৃতি, সমুদ্র, পাহাড় আর নীরব উপকূলীয় পরিবেশ পুরো গল্পকে দিয়েছে এক স্বপ্নময় অনুভূতি।

চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর সংযত উপস্থাপনা। চড়াকণ্ঠে আবেগ প্রকাশের বদলে এটি ধীরে ধীরে দর্শককে নিয়ে যায় এক গভীর মানবিক যাত্রায়। মারিনার অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত শুধু তার নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার গল্প নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া মানুষদের স্মৃতি ধরে রাখারও এক আন্তরিক প্রচেষ্টা।

পরিচয়, পরিবার এবং অতীতের মুখোমুখি হওয়ার সাহস—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘রোমেরিয়া’ দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যাওয়ার মতো একটি চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওষুধের ব্র্যান্ড নামেই প্রেসক্রিপশন, ভুলে শিশুকে খাওয়ানো হলো মৃগীর ওষুধ

নিখোঁজ বাবা-মায়ের খোঁজে সমুদ্রপাড়ে এক তরুণীর যাত্রা, হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে ‘রোমেরিয়া’

০৭:৫১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

শৈশবে বাবা-মাকে হারানোর বেদনা একজন মানুষের জীবনে কতটা গভীর ছাপ ফেলতে পারে, সেই অনুভূতিরই এক মর্মস্পর্শী চিত্র তুলে ধরেছে নতুন স্প্যানিশ চলচ্চিত্র ‘রোমেরিয়া’। স্মৃতি, পরিবার, পরিচয় এবং হারিয়ে যাওয়া অতীতের সন্ধান—সবকিছু মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক আবেগঘন ও চিন্তাশীল গল্প।

চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র ১৮ বছর বয়সী মারিনা। সে চলচ্চিত্র শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু একটি প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তার প্রয়োজন হয়ে পড়ে জীবিত না থাকা বাবা-মায়ের পরিবারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন। সেই প্রয়োজন থেকেই শুরু হয় তার দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা পিতৃপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা।

হাতে একটি পুরোনো ভিডিও ক্যামেরা নিয়ে মারিনা যাত্রা করে তার বাবার জন্মস্থান উপকূলীয় এক শহরে। তবে এই সফরের উদ্দেশ্য শুধু একটি স্বাক্ষর সংগ্রহ নয়। সে জানতে চায় তার বাবা-মায়ের জীবনের অজানা গল্প, তাদের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম এবং সেইসব সত্য, যা এতদিন পরিবারের নীরবতার আড়ালে চাপা পড়ে ছিল।

পরিবারের নীরব দেয়াল

মারিনা তার জন্মদাতা বাবা-মাকে প্রায় মনে করতে পারে না। ছোটবেলাতেই তাদের হারিয়েছে সে। আত্মীয়দের কাছ থেকে শোনা গল্পই ছিল তার একমাত্র ভরসা। কিন্তু বাস্তবে যখন সে দাদা-দাদির মুখোমুখি হয়, তখন উষ্ণ অভ্যর্থনার বদলে পায় দূরত্ব এবং অবহেলা।

পরিবারের অনেক সদস্য তাকে আপন করে নিতে না চাইলেও কয়েকজন আত্মীয় তার পাশে দাঁড়ায়। তাদের কাছ থেকেই মারিনা জানতে শুরু করে তার বাবার জীবনের নানা কঠিন অধ্যায়, পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার অভিজ্ঞতা।

Young Orphan Marina's Journey to Uncover Family Secrets in 'Romería' - AOL

অতীতের টুকরো জোড়া লাগানোর চেষ্টা

মারিনার হাতে থাকা একটি পুরোনো ডায়েরি তার সবচেয়ে মূল্যবান সঙ্গী। সেই ডায়েরির সূত্র ধরে সে ফিরে যায় বাবা-মায়ের পরিচিত জায়গাগুলোতে। কখনও সমুদ্রতটে, কখনও নৌকার ছোট কেবিনে, আবার কখনও কোনো ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে সে কল্পনায় পুনর্গঠন করতে থাকে তাদের জীবন।

চলচ্চিত্রটি দেখায়, অতীতের সত্য খুঁজে পাওয়া সবসময় সহজ নয়। অনেক সময় সেই সত্য কষ্টদায়কও হতে পারে। তবু নিজের শিকড়কে জানার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়।

বাস্তবতা ও কল্পনার মিশেল

‘রোমেরিয়া’ শুধু একটি পারিবারিক অনুসন্ধানের গল্প নয়। এতে বাস্তবতার সঙ্গে সূক্ষ্মভাবে মিশেছে কল্পনা ও রহস্যের আবহ। প্রকৃতি, সমুদ্র, পাহাড় আর নীরব উপকূলীয় পরিবেশ পুরো গল্পকে দিয়েছে এক স্বপ্নময় অনুভূতি।

চলচ্চিত্রটির সবচেয়ে বড় শক্তি এর সংযত উপস্থাপনা। চড়াকণ্ঠে আবেগ প্রকাশের বদলে এটি ধীরে ধীরে দর্শককে নিয়ে যায় এক গভীর মানবিক যাত্রায়। মারিনার অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত শুধু তার নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়ার গল্প নয়; এটি হারিয়ে যাওয়া মানুষদের স্মৃতি ধরে রাখারও এক আন্তরিক প্রচেষ্টা।

পরিচয়, পরিবার এবং অতীতের মুখোমুখি হওয়ার সাহস—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত ‘রোমেরিয়া’ দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যাওয়ার মতো একটি চলচ্চিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।