দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কিওন হির বিরুদ্ধে উপহারের বিনিময়ে চাকরি ও পদায়নে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে নতুন করে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। এর আগে দুর্নীতি ও শেয়ারবাজার কারসাজির মামলায় তিনি কারাভোগ করছিলেন। নতুন রায়ের ফলে তার আইনি সংকট আরও গভীর হলো।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, কিম মূল্যবান ধাতু ও বিলাসবহুল উপহার গ্রহণের বিনিময়ে বিভিন্ন নিয়োগসংক্রান্ত সুবিধা দিয়েছেন। বিচারক মন্তব্য করেন, তিনি এমন সব মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করেছেন, যা সাধারণ মানুষের জীবনে একবারও সংগ্রহ করা কঠিন।
তদন্তে উঠে আসে, ২০২২ সালে এক নির্মাণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তিনি কয়েকটি দামি অলংকার গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব উপহারের বিনিময়ে ওই ব্যবসায়ীর জামাতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালত এ অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেছে।
এ ছাড়া এক রাজনীতিকের কাছ থেকে স্বর্ণের কচ্ছপের মূর্তি এবং একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তার কাছ থেকে বিলাসবহুল হাতঘড়ি গ্রহণের অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

আগের সাজা ও নতুন রায়
কিম ইতোমধ্যে শেয়ারবাজার কারসাজি ও ঘুষ সংক্রান্ত মামলায় চার বছরের সাজা ভোগ করছেন। পরে তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ আনা হয়, যেখানে বিপুল মূল্যের গয়না ও অন্যান্য উপহার গ্রহণের বিষয়টি সামনে আসে।
মামলার শেষ শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল, তিনি নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে সুবিধা আদায় এবং প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি করেছিলেন।
নিজেকে নির্দোষ দাবি
পুরো বিচারপ্রক্রিয়া জুড়ে কিম নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য ছিল, তিনি উপহার গ্রহণ করলেও এর সঙ্গে কোনো ধরনের অনুরোধ বা বিশেষ সুবিধা প্রদানের শর্ত যুক্ত ছিল না।
![]()
তবে আদালত সেই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেননি। বিচারকদের মতে, উপহারগুলোর মূল্য, সময় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বার্থ বিবেচনায় ঘটনাগুলো কেবল সৌজন্য বিনিময় ছিল না।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে কিম
দক্ষিণ কোরিয়ার জনজীবনে কিম কিওন হি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত ও বিতর্কিত একটি নাম। প্রাণীকল্যাণ এবং কুকুরের মাংস বাণিজ্য বন্ধের প্রচারণার কারণে তিনি একসময় প্রশংসা পেলেও পরবর্তীতে একের পর এক অভিযোগ তাকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
সাম্প্রতিক রায় দেশটির রাজনীতি ও জনমনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















