তীব্র তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির অভাব এবং সেচের পানির সংকটে সুতি চাষ বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চলমান আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে দেশীয় সুতি উৎপাদনে ইতিহাসের অন্যতম বড় পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে সুতি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ও বস্ত্রশিল্পে।
প্রচণ্ড গরমে নষ্ট হচ্ছে সুতি ক্ষেত
অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক এলাকায় সুতির গাছ শুকিয়ে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে পোকামাকড়ের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শুধু ফলন নয়, সুতির মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পানির সংকট সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কৃষি এলাকায়। বিশেষ করে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া এবং খালের পানির ঘাটতির কারণে কৃষকেরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের চাহিদা পূরণে বেশি পরিমাণে বিদেশ থেকে সুতি আনতে হতে পারে।

বাজারে বাড়ছে সুতির দাম
সুতির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর দাম দ্রুত বাড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণে দাম কয়েকশ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, সরবরাহ সংকট দীর্ঘ হলে দাম আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সুতি প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও চাপের মধ্যে পড়েছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন কমানো হয়েছে, আবার কোথাও কোথাও কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
শিল্পখাতে বাড়ছে উদ্বেগ
সুতি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, উৎপাদন সংকটের পাশাপাশি অতিরিক্ত করের চাপও খাতটিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অনেক কারখানা চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিছু এলাকায় দীর্ঘদিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো জুলাই মাসেও কোনো সুতি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা চালু নেই। এর ফলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কৃষকদের জন্য জরুরি পরামর্শ
চরম আবহাওয়ার মধ্যে কৃষকদের সেচের সময়ের ব্যবধান কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কম পরিমাণ পানি দিয়ে বারবার সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান প্রয়োগের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপের চাপ মোকাবিলায় কৃষকদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষি ব্যবস্থায় নতুন পরিকল্পনা প্রয়োজন।
উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ
সুতি শিল্পের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। উৎপাদন বাড়ানো, কারখানা সচল রাখা এবং কৃষকদের সহায়তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সুতি ও বস্ত্রশিল্প আরও বড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















