ব্রিটেনে আবাসন সংকট মোকাবিলায় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের পর সবচেয়ে বড় কাউন্সিল আবাসন নির্মাণ কর্মসূচি চালুর অঙ্গীকার করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, শুধু রাষ্ট্রনির্ভর আবাসন নির্মাণ নয়, বরং পরিকল্পনা আইন সহজ করা এবং বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয় করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আবাসন সংকটের সমাধানে নতুন প্রতিশ্রুতি
ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যাপ্ত নতুন বাড়ি নির্মাণ না হওয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য নতুন সরকার প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক কাউন্সিল আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা সামনে এনেছে। লক্ষ্য হচ্ছে কম আয়ের মানুষের জন্য বাজারদরের তুলনায় অনেক কম ভাড়ায় নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করা।
এই উদ্যোগকে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের আবাসন নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সে সময় স্থানীয় কর্তৃপক্ষই নতুন বাড়ি নির্মাণে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।
শুধু সরকারি নির্মাণে কি সংকট কাটবে?
যদিও নতুন পরিকল্পনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবু অনেকের মতে শুধু সরকারি উদ্যোগে আবাসন সংকট দূর করা সম্ভব নয়। পরিকল্পনা অনুমোদনের জটিলতা, পরিবেশগত বিধিনিষেধ এবং অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক শর্ত শিথিল করা হলে বেসরকারি নির্মাতারাও দ্রুত আরও বেশি বাড়ি নির্মাণ করতে পারবেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুন নিরাপত্তা বিধি, পরিবেশগত মানদণ্ড এবং বিভিন্ন করের কারণে নির্মাণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শ্রমিক ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধিও প্রকল্প বাস্তবায়নকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
নির্মাণের গতি কমছে
সরকার নতুন বাড়ি নির্মাণ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে নির্মাণের গতি প্রত্যাশামতো বাড়েনি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আবাসন যুক্ত হওয়ার হার কিছুটা কমেছে।
বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বহুতল আবাসন প্রকল্প বিভিন্ন নতুন বিধিনিষেধের কারণে ধীর হয়ে পড়েছে। ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে উঠছে।
অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর কয়েক দশ হাজার নতুন সামাজিক ভাড়ার আবাসন নির্মাণ করতে গেলে সরকারের বিপুল অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। বর্তমান বাজেট দিয়ে পরিকল্পিত সংখ্যক বাড়ি নির্মাণ সম্ভব হলেও ঘোষিত উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য পূরণ করতে আরও কয়েক বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে।
এ ছাড়া স্থানীয় কর্তৃপক্ষেরও এখন আর অতীতের মতো বড় পরিসরে আবাসন নির্মাণের সক্ষমতা নেই। বহু বছর ধরে তারা এই ধরনের প্রকল্প পরিচালনা না করায় প্রকৌশলী, স্থপতি ও কারিগরি জনবলের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সরকারি জমি কি সমাধান হতে পারে?
পরিকল্পনায় খালি সরকারি জমি ব্যবহার করে নির্মাণ ব্যয় কমানোর কথা বলা হয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, এই ধরনের উদ্যোগ প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। অনেক সরকারি জমি উন্নয়নের আগে ব্যয়বহুল সংস্কার ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন জটিল হয়ে পড়ে।
ম্যানচেস্টারের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন সংকট সমাধানে ম্যানচেস্টারের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেখানে স্থানীয় সমন্বয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা এবং বেসরকারি খাতকে অতিরিক্ত শর্তে বাধাগ্রস্ত না করায় উল্লেখযোগ্য হারে নতুন আবাসন নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, শুধু কাউন্সিল আবাসন বাড়ানো নয়, বরং পরিকল্পনা সংস্কার, নির্মাণ ব্যয় কমানো এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করলেই ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলায় কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















